ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় সন্তানদের জন্য পাগলপ্রায় মায়ের রাত কাটছে ফুটপাতে

লোহাগাড়ায় সন্তানদের জন্য পাগলপ্রায় মায়ের রাত কাটছে ফুটপাতে

image-72797-1562151605

নিউজ ডেক্স : স্বামী কর্তৃক বিতাড়িত হয়েও মাতৃত্বের টানে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে বরিশালের বরগুনা উপজেলার সুমি আক্তার। সারারাত লোহাগাড়া বাস স্টেশনের অলি গলিতে পড়ে থাকলেও স্কুলের ক্লাস চলাকালীন সন্তানদের এক নজর দেখার আশায় স্কুলের পাশে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে সুমি। এ অবস্থায় নিজের পেট চালানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে যে টাকা পায় তাও সন্তানদের হাতে দিয়ে যায় সে। লোহাগাড়ার আমিরাবাদ হাইস্কুল এলাকার বাসিন্দারা প্রায় প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখে আসছেন।

জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে দক্ষিণ সাতকানিয়া উপজেলার গোলামবারী সরকারি মডেল হাইস্কুলের পার্শ্ববর্তী গ্রাম মাস্টারহাটের আলী মুন্সীর পাড়ার আবুল কাশেমের পুত্র মোহাম্মদ আকরামের সঙ্গে বিয়ে হয় বরগুনা জেলার বামনা থানা এলাকার বোকাবুনিয়া গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের কন্যা সুমির। বিয়ের পূর্ব থেকেই সুমি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। আর আকরাম চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ব্যাংকের দারোয়ানের চাকরিতে রয়েছেন। বিয়ের আগের ও বিয়ের পরবর্তীতে আয় করা বেশ কয়েক লাখ টাকা সুমি তার স্বামী আকরামের হাতে তুলে দেন। চাকরির পাশাপাশি আকরাম সুমির দেওয়া সেই টাকাগুলো ব্যবসায় নিয়োগ করেন এবং ওই টাকা দিয়েই আকরাম নিজের পৈতৃক ভিটায় পাকা দালান করেন।

দীর্ঘ ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। বাড়ি তৈরির পর সুমি সন্তানদের নিয়ে আকরামের গ্রামের বাড়িতে আসে। গ্রামে এসে সুমি জানতে পারে আকরামকে বিয়ে করার পূর্বে আকরামের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। পূর্ববর্তী ওই স্ত্রী সুমির সঙ্গে বিয়ের খবর জানতে পারলে আকরামকে ছেড়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে স্বামীর কাছে জানতে চাইলে সুমির ওপর নেমে আসে আকরামের নির্মম নির্যাতন। এরপর ৪ বছর পূর্বে সুমিকে তালাক দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর কাছে ঘোষণা করে আকরাম এবং এক প্রকার জোর করে সুমিকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এর অল্প কিছুদিন পরই পুনরায় আকরাম একই এলাকার মনির আহমদের মেয়েকে বিয়ে করে। বর্তমানে এই ঘরে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

এ দিকে সুমি স্বামীর নির্যাতনে তার গ্রামের বাড়ি বরগুনায় চলে গেলেও পরে সন্তানদের মায়ায় সে আবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চলে আসে। স্বামীর ঘরে ঠাঁই না হলেও সে লোহাগাড়া স্টেশনের ফুটপাতে পড়ে থাকে মাতৃত্বের টানে। সকাল হলে সন্তানদের দেখার জন্য তাদের স্কুলের পাশে রাস্তায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। বিগত ৪ বছর ধরে লোহাগাড়ার স্টেশনের ফুটপাতে বা রাস্তার পাশে রাত কাটিয়ে যাচ্ছে সুমি। অর্ধাহার, অনাহার ও মানসিক চাপে সুমি বর্তমানে পাগল প্রায়। তবে সন্তানদের এক পলক দেখার জন্য এখনো সে প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে ছুটে যায়। তার দুই সন্তানদের মধ্যে মেয়েটি গোলামবারী হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ও ছেলে সন্তানটি পার্শ্ববর্তী প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

72797_1562155063

এ ব্যাপারে আকরামের বড় ভাই জসিম উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ভাই সম্পর্ক করে নিজের ইচ্ছেতে বিয়ে করেছে। তাই এ ব্যাপারে তাদের করার কিছুই নেই। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। তার ভাইয়ের ব্যাপারে সে কিছুই করতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

মোহাম্মদ আকরামের সঙ্গে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিয়ের পরপরই তার স্ত্রী সুমি প্রায়ই পাগল হয়ে যেত। তাই বাধ্য হয়ে সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। এ সময় সুমির টাকা নিয়ে বাড়ি-গাড়ি করার কথা অস্বীকার করে আকরাম।

তবে এলাকাবাসীর ধারণা, আকরাম আসলে তার স্ত্রী সুমিকে তালাক দেয়নি সব মিথ্যা আর বানোয়াট কথা। সে আরেকটা বিয়ে করার জন্য তালাকের কথা এলাকায় প্রচার করেছিল। তারা বলেন, মেয়েটির টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে সন্তানদের ছিনিয়ে নিয়ে তাকে জোর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ায় সুমি শোকে পাগল হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, মোহাম্মদ আকরাম বরাবরই লম্পট চরিত্রের ছেলে।

সুমি মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় এ ব্যাপারে তার থেকে কিছু জানা যায়নি। তবে আজও মাতৃত্বের টানে সুমি পড়ে থাকে লোহাগাড়া বাস স্টেশনের ফুটপাতে।

সূত্র : দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!