রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় চাকুরীজীবিদের ছাটাই করছে এনজিওরা

Kutupalong
কায়সার হামিদ মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ২০ টি ক্যাম্পে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য প্রশাসনিক ভাবে এনজিওদের প্রতি নির্দেশ থাকলেও তারা তা মানছেনা। কোন প্রকার যুক্তিগথা ছাড়া সম্পন্ন অন্যায় ভাবে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে এনজিও সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট স্থানীয় ২১ জন বেকার শিক্ষিত যুবককে চাকুরী থেকে ছাটাই করে নিয়োগ বানিজ্যর মাধ্যমে তাদের আত্নীয় স্বজনকে ওই ২১ টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত অভিযোগ লিপিতে ছাটাইকৃত কর্মীরা উল্লেখ করেছে তারা কোস্ট ট্রাষ্ট কর্তৃক পরিচালিত ইউনিসেফ ইপিইআরএ প্রজেক্টের আউট রিচ ওর্কার হিসাবে চুক্তি ভিত্তিক কর্মরত ছিল। উক্ত প্রকল্পে কর্মরত নুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, বিকাশ বড়–য়াসহ ২১জন কর্মী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, গত ৩১ জুলাই ২০১৮ইং তারিখ প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হলে প্রকল্প কর্মকর্তা সমস্ত কর্মীদের নিয়ে একটি সমাপনী সমাবেশ করে বলেন যে, প্রজেক্টের মেয়াদ বাড়ানো হলে তাদেরকে পূনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে। এ কথা বলে কোস্টের উখিয়া টিম লিডার ইউনুছ, কক্সবাজার অফিসের শাহিনুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম ছাটাইকৃত কর্মীদের মূল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদ পত্র রেখেদেন। ছাটাইকৃত কর্মী নুরুল আমিন, ইলিয়াছ মিয়া, শেখ আকতার জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর পূনরায় তাদের কাছ থেকে নতুন করে আবেদন পত্র গ্রহন করা হলেও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৯ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে কোস্ট ট্রাস্ট অফিস থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। তাই পূনরায় নিয়োগের কোন সুযোগ নেই।
ছাটাইকৃত কর্মীরা জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর চলতি প্রজেক্টে নিয়োগ বানিজ্যেও মাধ্যমে ১৪০ জন নতুন চাকুরী প্রার্থীকে মুখিক পরিক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। এঘটনা নিয়ে ছাটাইকৃত স্থানীয় কর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) নিকট অভিযোগ করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি একরামুল ছিদ্দিক জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্ততার কারনে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি কর্মস্থলে যোগদান করলে সংশ্লিষ্ট এনজিও কোষ্ট ট্রাস্টে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে কোষ্ট ট্রাস্টেও প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতের সাথে কথা বলার জন্য বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।