Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ফিটনেসবিহীন বাস শনাক্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

ফিটনেসবিহীন বাস শনাক্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

image_printপ্রিন্ট করুন

image-39387-1533032342

নিউজ ডেক্স : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ফিটনেস জরিপে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব ও বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ।

আদেশের পর আইনজীবী জানান, রাস্তায় ফিটনেসবিহিন গাড়ী চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছিলাম। ওই রিটের শুনানি নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিটনেহীন গাড়ী শনাক্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের দিয়ে কমপক্ষে ১৫ সদস্যের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এই কমিটির মাধ্যমে ফিটনেসহীন পরিবহনের ওপর জরিপ চালিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী আরও বলেন, রিটের শুনানি নিয়ে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আাগমী চার সপ্তাহের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের (বিআরটিএ) পরিচালক, বিআরটিএ ইনফোরসমেন্ট বিভাগের পরিচালক ও পুলিশের আইজিকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। বিষয়টি সোমবার ও মঙ্গলবার পর পর দুদিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

রিট দায়েরকারী তানভীর আহমেদ বলেন, রাজধানীতে চলাচলরত যানবাহনের অধিকাংশরই লুকিং গ্লাস, ব্রেক লাইট ও সিগন্যাল লাইট নেই। থাকলেও সেগুলো কাজ করে না। এমনকি অনেক যানবাহনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ফিটনেসও নেই।

‘ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহনের কারণে যেখানে-সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছে।’

দেশজুড়ে প্রতিনিয়ত একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতেই আছে। রোববার রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে কুর্মিটোলা ফ্লাইওভারের ঢালে দুই বাসের রেষারেষিতে নিহত হন দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন- শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম (১৬)।

একই উড়ালসেতু থেকে নামার সময় গত ১ জুলাই বসুমতি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নিহত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শাহরিয়ার সৌরভ। এর একদিন পর, গত ২ জুলাই মিরপুরে দিশারী পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৈয়দ মাসুদ রানা।

এর আগে, ১৬ এপ্রিল দুই বাসের রেষারেষিতে তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন হাত হারান, পরে তিনি মারা যান। ১৭ মে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে দুই বাসের রেষারেষিতে আহত হওয়ার পর প্রাণ হারান একটি অনলাইন গণমাধ্যমের কর্মকর্তা নাজিমউদ্দীন। এভাবে বাসের বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!