Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চাঁদাবাজি করতেন হেলেনার টিভি প্রতিনিধিরা, ছিল সাইবার টিম

চাঁদাবাজি করতেন হেলেনার টিভি প্রতিনিধিরা, ছিল সাইবার টিম

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : জয়যাত্রা নামে আইপি টেলিভিশন খুলে দেশে-বিদেশে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়োগ দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিতেন।

ধারণা করা হচ্ছে তার নিয়োগকৃত প্রতিনিধিরাও নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আর বিভিন্ন সময় এই চাঁদাবাজি চালানোর পরোক্ষ নির্দেশনাও দিতেন হেলেনা।

হেলেনা জাঙ্গীরের প্রায় ২০ লাখ ফলোয়ারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে। ওই পেজ এবং জয়যাত্রা আইপি টিভির পেজ মনিটরিংয়ের জন্য ছিল শক্তিশালী সাইবার টিম। এসব পেজে হেলেনার বিরুদ্ধে অযাচিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এলেই সাইবার টিম তাদের ঘায়েল করতো।

সাইবার টিমের সদস্যরা নিজেরাই লাইক, শেয়ার ও হেলেনার পক্ষে পজিটিভ কমেন্ট করতেন। এমনকি হেলেনার বিরুদ্ধে যদি কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করতেন তৎক্ষণিকভাবে তাদের অপমান করা হতো। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ভার্চ্যুয়ালি তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হতো। এছাড়া, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্যাদি সংগ্রহ করে হেলেনাকে জানাতো এই সাইবার টিম।

হেলেনাকে জিজ্ঞাসাবাদদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, ২০১৮ সালে জয়যাত্রা আইপি টেলিভিশনের কার্যক্রম শুরু করেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। জেলা-উপজেলা ছাড়াও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশে জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিনিধি হিসেবে যারা নিয়োগ পেতেন তারা বেতনভুক্ত না হয়ে উল্টো অফিসে তাদের টাকা দিতে হতো।

জয়যাত্রা আইপি টিভি চালুর পর সেখানে ৭০ থেকে ৮০ জন যোগদান করেন। দীর্ঘদিন কাজ করার পরে ২০-২৫ জনকে ছাড়া বাকি সবাইকে বেতন না দিয়েই ছাঁটাই করে দেন হেলেনা। প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাংবাদিক কার্ডের বিনিময়ে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করতেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশেও জয়যাত্রার প্রতিনিধি ছিল, তাদের সবার কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতেন তিনি।

দেশে-বিদেশে জয়যাত্রা টেলিভিশনের যত প্রতিনিধি রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো স্যাটেলাইট টেলিভিশনের নেই বলেও জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন হেলেনা।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, কিছুদিন আগে জয়যাত্রা টিভির একজন জেলা প্রতিনিধি চাঁদাবাজির সময় পুলিশের হাতে আটক হন। আমরা মনে করছি, হেলেনার মতো তার প্রতিনিধিরাও চাঁদাবাজি করতেন।

তিনি বলেন, কী কারণে টাকা নিয়েছেন এবং কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, এ বিষয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এসবের দায় অফিস স্টাফদের ওপর চাপিয়েছেন তিনি। তার বাসায় এবং অফিস থেকে যে পরিমাণ ভাউচার পাওয়া গেছে তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জয়যাত্রা টিভির অফিসে অভিযানের সময় র‌্যাব জানতে পারে হেলেনা জাহাঙ্গীর একটি শক্তিশালী সাইবার টিম পরিচালনা করতেন। এই টিমে ১৫-২০ জনের নাম পাওয়া গেছে। এই সাইবার টিম একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে প্রচার-প্রচারণা চালাতেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিনগত রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ক্যাসিনো সামগ্রী এবং অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, তার বাসা থেকে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ওয়াকিটকি, ড্রোন ও বিপুল পরিমাণ ছুরি উদ্ধার করা হয়।

ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং মাদক, বিদেশি মুদ্রা ও বন্যপ্রাণীর চামড়া জব্দ ও অবৈধ আইপি টিভি পরিচালনার জন্য হেলেনার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জয়যাত্রা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হেলেনা গত ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য হয়েছিলেন। সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতবহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। -বাংলানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!