Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রামে গার্মেন্টসের ১০ হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল

চট্টগ্রামে গার্মেন্টসের ১০ হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল

image_printপ্রিন্ট করুন
ফাইল ছবি

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সেক্টর মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। করোনাকালের গত ছয় মাসে চট্টগ্রামের গার্মেন্টসগুলোতে প্রায় দশ হাজার কোটিরও বেশি টাকার অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এসব অর্ডার ঠিক কবে নাগাদ আসবে বা আদৌ আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়ার পাশাপাশি শত শত কোটি টাকার পণ্য স্টকলট হয়েছে। চট্টগ্রামের ত্রিশটি চালু কারখানা শুধুমাত্র করোনা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলেও আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পুরো পৃথিবীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এতে মানুষের বেঁচে থাকাটাই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। মানুষ পোশাকআশাক নিয়ে খুব একটি মাথা ঘামাচ্ছে না। ভয়াল এই দুর্দিনে তৈরি পোশাকখাতের উপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে। দেশের ছয় হাজারেরও বেশি গার্মেন্টসের মধ্যে নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তিন হাজার। বর্তমানে যে তিন হাজার গার্মেন্টস চালু রয়েছে সেগুলোও পড়েছে এক ভয়াবহ সংকটে। গত বছর দেশের গার্মেন্টস থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। চলতি বছর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ধকলে গার্মেন্টস সেক্টরের লক্ষ্যমাত্রায় অধরা থাকবে না, অস্তিত্ব রক্ষাই কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। সারাদেশের প্রায় দুই হাজার কারখানা ইতোমধ্যে চার বিলিয়ন ডলার বা প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল এবং স্থগিতের তথ্য বিজিএমইএর সেলে জমা দিয়েছে। চট্টগ্রামে গার্মেন্টস সেক্টরের অবস্থাও খুবই সংকটাপন্ন। ভয়াবহ এক দুর্দিন পার করছে প্রতিটি কারখানা। চট্টগ্রামে সর্বমোট গার্মেন্টসের সংখ্যা ছিল ৬৮৯টি। কিন্তু দীর্ঘদিনের নানা সংকটে অধিকাংশ গার্মেন্টসই বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাকালের শুরুতে চট্টগ্রামে চালু গার্মেন্টসের সংখ্যা ছিল ২৪১টি। এরমধ্যে করোনার ধাক্কায় আরো ৩০টি গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু আছে সেগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

সূত্র বলেছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার ইউরোপ এবং আমেরিকা। শুধুমাত্র ইউরোপের ২৭টি দেশেই ৬০ শতাংশ তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এই ৬০ শতাংশ পোশাক রপ্তানির প্রায় পুরোটাই বন্ধ হয়ে পড়ছে। একাধিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বছরের শুরু থেকে গত ছয় মাস গার্মেন্টস খাতের ব্যবসা বাণিজ্যের পুরোটাই থমকে আছে। ইউরোপ আমেরিকার ক্রেতারা কোটি কোটি টাকার অর্ডার বাতিল করেছে। পণ্য স্টকলট করেছে।

বিজিএমইএ’র সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গতকাল জানান, করোনায় ক্ষতির মুখে পড়েনি এমন একটি কারখানাও নেই। সবগুলো কারখানা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্ডার বাতিলের শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামের গার্মেন্টসগুলোকে ইতোমধ্যে এক বিলিয়নেরও বেশি ডলারের অর্ডার বাতিল বা স্থগিতের মুখে পড়তে হয়েছে। টাকার অংকে অন্তত দশ হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল এবং স্থগিতের ঘটনা বহু কারখানাকেই দিশেহারা করে তুলেছে। ত্রিশটি বেশ ভালো মানের চালু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রচুর পণ্য স্টকলট হওয়ার কথা উল্লেখ করে একাধিক গার্মেন্টস মালিক বলেছেন, কারখানাগুলো ভয়াবহ সংকটে। এসব কারখানার লাখ তিনেক শ্রমিকের বেতন ভাতাসহ আনুষাঙ্গিক খরচ মেটাতে বহু মালিক নিজের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি পড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, অর্ডার বাতিলের পাশাপাশি অর্ডার আসছেও না। কোনো কোনো কারখানায় বর্তমানে কিছু কিছু কাজ হলেও আগামী মাস খানেকের মধ্যে সব কারখানাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। কোনো অর্ডার নেই। ইউরোপ আমেরিকা থেকে অর্ডার আসছে না। পৃথিবী স্বাভাবিক না হলে অর্ডার আসা শুরুও হয়তো হবে না। এক্ষেত্রে আরো বড় ধরনের সংকটের আশংকা করছে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সেক্টর। শুধু সরকারি প্রণোদনা বা পৃষ্ঠপোষকতাই নয়, বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেছেন। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!