
নিউজ ডেক্স: সোমালিয়ায় জলদস্যুর কবল থেকে মুক্ত হওয়া এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক দেশের মাটিতে পা রেখেছেন। মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তারা এমভি জাহান মণি জাহাজে বন্দর জেটি এলাকায় আসেন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল, কেএসআরএমের পরিচালক, সিইও এবং বন্দরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।
এর আগে দুপুরে কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে অবস্থানরত এমভি আবদুল্লাহ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘এমভি জাহান মনি ৩’ নামের লাইটার জাহাজে উঠে পড়েন ২৩ নাবিক। বন্দর জেটিতে নাবিকদের বীরোচিত সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চারটি একে৪৭ তাক করে আছে: আবদুর রশিদ
এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ বলেন, প্রথম দিন যখন আমরা আক্রান্ত হই তখন আমার সেকেন্ড অফিসার ব্রিজে ছিল। ওই সময় আমি নিচে নেমে আমাদের অ্যালার্ট দিচ্ছিলাম। জলদস্যুরা অনেক দ্রুত এসেছিল। ওদের স্পিডবোট দ্রুতগতিতে চলে, ৩০-৩৫ মাইল স্পিডে চলে। আমাদের তো ১০ মাইল স্পিড। আমরা গোপন কুটুরি খুলতে পারিনি, যেখান থেকে নেভি এসে রেসকিউ করবে। এসে দেখি সেকেন্ড অফিসারকে চারটি একে৪৭ তাক করে আছে। আমার দিকে দুইজন। আমি হাত দুলে দিই।
আমি বলি, ‘উই আর বাংলাদেশি, মুসলিম। ’ আমরা রোজা আছি। তখন তারা একটু শান্ত হয়। আমি কিন্তু স্ট্রং ছিলাম। ওদের সামনে পড়ার পর দুর্বল হয়ে পড়িনি। সেকেন্ড অফিসার একটু নার্ভাস ছিল। তারপর সবাই আসে। সেখানে ব্রিজে সারা রাত সারা দিন ছিলাম। মৃত্যুঝুঁকি ছিল, নাবিকরা কেউ কেউ কান্না করছিল। ওরা এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি, এমনকি আমিও। আমার ভেতরে ভয় ছিল, কিন্তু মুখ ও বডি ল্যাংগুয়েজ স্বাভাবিক রাখি। ঠাণ্ডা মাথায় সবাইকে হ্যান্ডেল করি। আমি সবার জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম।
আমার সঙ্গে নাবিকরা সুস্থ ও অক্ষতভাবে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। সেই জন্য আমি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছিল। কারণ আমরা নিষেধ করেছিলাম যুদ্ধজাহাজ যাতে অ্যাকশনে না যায়, যাতে নাবিকের প্রাণ না যায় এবং জাহাজের কোনো ক্ষতি না হয়। সরকার দ্রুত সাড়া দিয়েছিল। আজকের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
এটি বাংলাদেশের জয়: শাহরিয়ার জাহান রাহাত
কেএসআরএম গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেন, আজকের এ দিনের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম আমরা দুই মাস। নাবিকরা দেশে ফিরে এসেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের বন্ধু যুদ্ধজাহাজগুলো যখন হুমকি দিচ্ছিল, জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ না করলে জাহাজটি ডুবিয়ে দেবে। তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে জানাই যুদ্ধজাহাজ পিছিয়ে আসার জন্য, নয়তো নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। ২০ মিনিটের মধ্যে যুদ্ধজাহাজগুলো পিছিয়ে গেছে। এটি একটি উদাহরণ দিচ্ছি সরকার থেকে কী পরিমাণ সাড়া পেয়েছি। নাবিকরা যখন ছাড়া পেয়েছিল সেই দিনটি ছিল পহেলা বৈশাখ। এটি আসলে বাংলাদেশের জয়। সমুদ্রজয় করে আমাদের নাবিকরা ফিরে এসেছে। তাদের মনোবলের একটি উদাহরণ দিই। তারা দুবাই থেকে ফিরে আসতে পারত। দুইজনের কন্যা সন্তান হয়েছে। তারা টিমের সঙ্গে জাহাজেই এসেছেন।
নাবিকরা সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে: বন্দর চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, আমি মনে করি এটি দেশের জন্য বিশেষ দিন। এটি দেশের জন্য সম্মানের বিষয়। জলদস্যুদের হাত থেকে আমাদের জাহাজ ও নাবিকরা মুক্ত হয়ে এসেছে। ঐতিহাসিকভাবে জলদস্যুরা দুর্ধর্ষ হয়। তাদের বোধ থাকে না। কী হবে না হবে কেউ জানে না। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কথা সবাই জানে। অকুতোভয় ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়, ডিজি শিপি, নৌবাহিনী, বিভিন্ন সংস্থা কাজ করেছে। সবার প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় সুস্থ সুন্দরভাবে সবাই দেশে ফিরে এসেছেন। -বাংলানিউজ
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner