ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ১৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি সালাহউদ্দিন আহমেদের

১৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি সালাহউদ্দিন আহমেদের

salah-uddin-bnp-leader

১৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও ভীতসন্ত্রস্ত তার পরিবারের সদস্যরা। দিন যতই গড়াচ্ছে, পরিবার ও দলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। বিশেষ করে এ ঘটনার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।গত ১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব। পরিবারের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। অবশ্য পুলিশ, র্যাব ও ডিবির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এ কমিটির উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। স্বামী সালাহউদ্দিনের সন্ধান পেতে নানা জায়গায় ছুটোছুটি করছেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দিয়ে স্বামীকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন তিনি। স্বামীকে ফেরত পেতে ধরনা দিচ্ছেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের কাছেও। কিন্তু কারও থেকেই কোনো আশার বাণী পাচ্ছেন না হাসিনা আহমেদ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্দক সহযোগিতা পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে দেখাও করতে চাইছি। কিন্তু এখনো অনুমতি পাইনি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, তিনি যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন। যেন আমার স্বামীকে খুঁজে বের করে দেওয়া হয়।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাবার শোকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে ছোট মেয়ে ফারিবা আহমেদ রাইদা ও ছোট ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আহমেদের। যারাই পরিবারের খোঁজখবর নিতে যাচ্ছেন, তাদের জড়িয়ে হু হু করে কেঁদে ফেলছে ফারিবা ও ইউসুফ। অন্যদিকে বিদেশে থাকা সন্তানরাও ভেঙে পড়েছেন পিতার নিখোঁজের খবরে। বড় ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ (২৩) কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন। দ্বিতীয় সন্তান পারমিজ আহমেদ ইকরা (১৯) পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল কলেজে।
হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘বড় দুই সন্তান ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন করে বাবার খবর জানতে চাইছে। ফোন করে তারা কান্নাকাটি করছে। আমি নির্বাক হয়ে থাকি। কিছুই বলতে পারি না তাদের।’ বাবাকে ফিরে পেতে তারা নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে হাত তুলে তার জন্য দোয়া ও কান্নাকাটি করছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রতিনিয়তই হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে সালাহউদ্দিনের গুলশানের বাসায়। গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নিখোঁজ সালাহউদ্দিন আহমেদের গুলশানের বাসায় তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। এ সময় তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে পুলিশ অবশ্যই জানে। কিন্তু কিছুই বলছে না। আশা করি তিনি ভালো আছেন। বেঁচে আছেন। হয়তো কোথাও আটকে রাখা হয়েছে তাকে। তবে তার নিখোঁজের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও কলঙ্কজনক।’
পুলিশ অবশ্যই জানে কিন্তু কিছুই বলছে না : বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে পুলিশ অবশ্যই জানে। কিন্তু কিছুই বলছে না। আশা করি তিনি ভালো আছেন। বেঁচে আছেন। হয়তো কোথাও তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তবে তার নিখোঁজের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও কলঙ্কজনক।’ নিখোঁজ সালাহউদ্দিন আহমেদের গুলশানের বাসায় তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সঙ্গে গতকাল বিকালে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিনের নিখোঁজে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, “সালাহউদ্দিনের মতো এত বড় মানুষের অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে আমাদের অবস্থা কী হবে! আমাদের যে-কারও অবস্থা যা কিছু হতে পারে। তবে দেশের কোনো নাগরিক এভাবে ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।” রফিক-উল হক বলেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত। কারণ তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছিল। ‘আসন্ন সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে’ আশা প্রকাশ করে বিশিষ্ট এই আইনবিদ বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে আবারও ভুল করবে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আটক হওয়ার পর তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আমার বিশ্বাস তিনি এখনো বেঁচে আছেন। হয়তো কোথাও তাকে আটকে রাখা হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে শিগগিরই ফিরিয়ে দেবে বলে আশা ব্যক্ত করে তিনি জানান, আগামী ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় শুনানিতে সালাহউদ্দিনের পক্ষে সহায়তা করবেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*