ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলে ঔষধ নেই !

হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলে ঔষধ নেই !

344

লোহাগাড়া উপজেলার ৭নং পুটিবিলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রাম লোহাগাড়া প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো। 

জাহেদুল ইসলাম : লোহাগাড়া উপজেলার ৭নং পুটিবিলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির খুব বেহাল অবস্থা। হাসপাতালে ডাক্তার নেই। আবার ডাক্তার থাকলে ঔষধ নেই- এমন অবস্থা দীর্ঘদিনের। যে কারণে রোগীদের দুর্দশার কোন শেষ নেই।

সোমবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পুটিবিলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের মেইন ফটকের ভেতরে তালাবদ্ধ। ১ ঘন্টা অবস্থানে দেখা যায় হাসপাতালে কেউ আসেনি। আবার কেউ উকি মেরে চলে যাচ্ছে। একজন বৃদ্ধ লোক এসে বলল বাবা চলে যাও এখানে ঔষধ নেই। বসে থেকে লাভ নেই। ডাক্তার এসে স্বাক্ষর করে চলে যাবে। ঔষধ দিবে না। কামাল নামের এক পথচারী বলেন, হাসপাতালে ঔষধ দেন কিনা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলেন হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলে ঔষধ নেই। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে গেলে ডাক্তার মোঃ সোলতান বলেন, ৬ মাস ধরে হাসপাতালে সরকার ঔষুধ দিচ্ছেনা। ঔষধ না থাকলে কেমনে দিব এমন কথাও বলেন।

চিকিৎসকের খোঁজ নিলে জানা যায়, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ সোলতান দীর্ঘ ৬ মাস ধরে হাসপাতালে সপ্তাহে ২/৩ বার আসে স্বাক্ষর করে চলে যায়। আবার কখনো কখনো রাতেও আসে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা বাসু রাণী দাশ বলেন, শুধু হাসপাতালটা আছে আর কিছুই নেই। কোন প্রকার চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না এলাকাবাসী। হাসপাতাল খোলা থাকলেও ঔষধ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন মোঃ সোলতান।

পুটিবিল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পাশের বাড়ির গ্রাম পুলিশের স্ত্রী বলেন, হাসপাতালে ৬ মাস ধরে কোন প্রকার ঔষধ নেই বলে জানিয়েছেন ডাক্তার সোলতান। তাই কেউ হাসপাতালে আসেন না। যে সব মহিলারা আগে সেবা নিতে আসত তারাও এখন সেবা থেকে বঞ্চিত।

সূত্রে আরো জানা যায়, মোঃ সোলতান প্রতি সপ্তাহে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে দিয়ে আসে। কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়।

এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলায় ৫টি পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। সবগুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে তদারকির অভাব রয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, পুটিবিলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা মোঃ সোলতান নিয়মিত অফিস না করে সরকারের কাছ থেকে বেতন ভোগ করছে। স্বাস্থ্যসেবা না দিয়ে ঔষধগুলো কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মোঃ সোলতানকে পাওয়া না যাওয়ায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে চলছে লোহাগাড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আল আজাদ ও ইনচার্জ মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সোমা চৌধুরীকে অফিসে পাওয়া না যাওয়ায় এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে পুটিবিলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজল বড়–য়া বলেন, ডাঃ মোহাম্মদ সোলতানের বিরুদ্ধে এলাকায় বদনাম রয়েছে। সে ব্যাপক অনিয়ম করে চলছে। তবে সপ্তাহ ধরে ওই হাসপাতাল তদরকীর মধ্যে রয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিজনূর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার না থাকায় তদারকীর অভাব রয়েছে। অতি শীঘ্রই এ ব্যাপারে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে অবহিত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লেখক : লোহাগাড়া প্রতিনিধি, দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজারনিউজডটকম ও এসএনএন২৪ডটকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*