ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ১

হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ১

336

লোহাগাড়ায় হাসপাতালে বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মিজানুর রহমান। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো। 

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান : লোহাগাড়া উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় বেশির ভাগ চিকিৎসকদের অনিয়মিত কর্মস্হলে অবস্হান ও অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো তাদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য টাকা ঢালে অথচ ভাল মানের চিকিৎসা সেবা পায়না। শতাধিক অবৈধ ক্লিনিক,হাসপাতালের বিপরীতে লোহাগাড়া উপজেলায় সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ১টি ৷ এসব হাসপাতাল বা ক্লিনিককে ঘিরে স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসার কাজ চলে৷ সরকারি হাসপাতালের বেশিরভাগচিকিৎসকদের রোগীর প্রতি অবহেলার খবর কে না জানে । দ্রুত গজিয়ে ওঠা বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্য সেবার মানই বা কোন পর্যায়ে।

অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক,হাসপাতালগুলোতে নির্দিষ্ট চিকিৎসক থাকে না৷ গোঁজামিল দিয়ে চিকিৎসা কাজ চালিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ৷ কখনও নিজেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেন৷ ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে পরামর্শ করে নেন৷ সব ক্লিনিকে তেমন রোগী আসে না তাই তারা ডাক্তার রাখেন না, খরচ পোষায় না৷ তবে রোগী এলে প্রয়োজন মনে করলে ডাক্তারকে খবর দেন৷ বেশীরভাগ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কোন অনুমোদন না নিয়ে চালু করা হয়৷ অনেকে বলেন, তারা অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন৷ আশা করছেন অনুমোদন পাবেন৷ এইসব ক্লিনিকের কোন অনুমোদন না থাকলেও তারা ব্যবসা করছেন বছরের পর বছর ।অনেক প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ অনুমতি নেই৷ আর যাদের আছে তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা উপকরণ নেই৷ লোহাগাড়া উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য সেবা বলতে ২০-৫০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স৷ অবস্হার যথেষ্ট উন্নতি হলেও সবখানে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায়না৷ তাই এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার চাহিদার সুযোগ নেয় অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা৷ অনেক ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তারের খোঁজ পাওয়া যাবে, যাদের এমবিবিএস ডিগ্রী নেই অথচ প্রচারপত্রে লেখেন৷ অন্যদিকে এমবিবিএস চিকিৎসকরা ‘এফসিপিএস(ফার্স্ট পার্ট)’ আর ‘পিজিটির’ মতো হরেকরকম শব্দের ব্যবহার সাইনবোর্ড আর প্রেসক্রিপশান প্যাডে হরহামেশা ব্যবহার করেন, যা সাদা চোখে দূর্নীতি বলে মনে হয় না। আসলে তা দুর্নীতি। অবশ্য লোহাগাড়া জুড়ে এই অবস্থা তো হঠাৎ করে হয়নি৷

অনেক প্রাইভেট ক্লিনিক উন্নত সেবা দেয়ার নামে বাণিজ্যিকীকরণের পথে চলে, তাই স্বাস্হ্যসেবার মান বাড়ে না ।তবে ক্লিনিক মালিকদের বিলাসি জীবন যাত্রার মান বাড়ে, কিন্তু স্বাস্হ্যব্যবস্হা ‘মোটাতাজা’ হয়না । প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর জবাবদিহিতা, মেডিক্যাল অডিট কোন কিছুরই স্বচ্ছতা নেই।

স্হানীয় ক্লিনিকগুলো দরিদ্র নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা নিয়ে কোন কাজ করে বলে কেউ জানে না। জনগন এমন ক্লিনিক সেবা চায় না, যারা গর্ভবতীকে প্রসব না করিয়ে অপ্রয়োজনে সিজার চালিয়ে দেয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের স্বাস্হ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে দিনমজুর ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্হ্যগত সমস্যার দেখভালের নিশ্চয়তা দিতে হবে। লোহাগাড়ার মানুষগুলোর হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের সাথী হবে তারা এমনটা আশা করা কি বেশি কিছু? অন্যদিকে ক্লিনিকগুলো থেকে পাওয়া চিকিৎসা সঠিক কিনা, সেটুকু জানার অধিকারও মানুষের রয়েছে ।

লোহাগাড়ার স্বাস্হ্যখাত পেন্ডুলামের মতো অবিরাম দুলতে থাকুক তেমনটা আমরা কেউই চাই না

(বিঃদ্র- লোহাগাড়াবাসীকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে সুস্থ পরিবেশ যতদিন হবে না, ততদিন আমার আন্দোলন চলবে। )

লেখক : যুগ্ম আহবায়ক, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*