ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ৬

হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ৬

351

লোহাগাড়ায় হাসপাতালে বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মিজানুর রহমান। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো। 

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান : প্রসূতি মা নিয়ে লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতাল, মা মনি হাসপাতাল, সিটি হাসপাতাল, সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল, ও কিছু অসাদু চিকিৎসকদের ব্যবসা।।।।।

লোহাগাড়ায় স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটি জরিপেও এ তথ্যটি উঠে এসেছে। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে যে সংখ্যক নবজাতক জন্ম হচ্ছে এর ৩৫ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। প্রতি একশ’ নবজাতকের মধ্যে ৭০ জনেরই জন্ম হচ্ছে সিজারের মাধ্যমে। অথচ সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম হওয়ার পর মা ও সন্তান দু’জনই যে দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে- সেই বিষয়টি জানানো হচ্ছে না। অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য এক শ্রেণীর চিকিৎসক অপ্রয়োজনে সন্তানসম্ভবা মায়েদের সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর লোহাগাড়ায় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হয়েছিল ১০০% প্রসূতি রোগী। তাদের মধ্যে এক ৭০% সিজার করে সন্তান হয়েছে। আর মাত্র ৩০% হয়েছে নরমাল ডেলিভারি। অর্থাৎ তখন সিজারিয়ানের হার ৭০ শতাংশ থাকলেও চলতি ২০১৬ সালে এ হার প্রায় ৮০ শতাংশে উঠে গেছে বলে জানা গেছে। প্রকৃতপক্ষে ১০০ সিজারিয়ান প্রসূতির মধ্যে ১৫ থেকে ২০ ভাগেরও সিজারের দরকার ছিল না। ৮০ ভাগেরই নরমাল ডেলিভারি করা যেত। কিন্তু একটি মহলের প্রচারণার কারণে ক্ষতিকর এ পথটিই অনুসরণ করা হয়েছে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে।

লোহাগাড়ায় আশঙ্কাজনক হারে সিজারের প্রবণতা বেড়েই চলেছে- এমন মত প্রকাশ করে প্রসূতি ও ধাত্রী বিভাগের একজন ডাঃ বলেন, সিজার এখন স্বাভাবিক ঘটনায় দাঁড়িয়ে গেছে। দিন যত এগুচ্ছে এর প্রবণতাও বাড়ছে। যা মোটেই সুখকর সংবাদ নয়। এরজন্য শুধু এক শ্রেণীর অসাধু ডাক্তার-হাসপাতালকে দায়ী করেছেন। এটাই হলো বর্তমান সময়ের নির্মম বাস্তবতা।

প্রসূতি মা দের নিয়ে লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতাল, মা মনি হাসপাতাল, সিটি হাসপাতাল ও সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল ও কিছু অসাদু চিকিৎসকদের ব্যবসা॥ সিজারিয়ান সেকশন এখন লোহাগাড়ার এই প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা রোধ তো করা যাচ্ছেই না, বরং দিন দিন এই প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোন প্রসূতি পেলেই এই প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর এক শ্রেণীর চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবাই বিভিন্ন অজুহাতে রোগীকে নরমাল ডেলিভারির ব্যাপারে কৌশলে মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। এমনকি সিজার না হলে মা কিংবা নবজাতকের ক্ষতি হওয়ার ভয়ও দেখানো হয় অনেক ক্ষেত্রে। নিরুপায় হয়ে প্রসূতি ও তার স্বজনরা নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ সন্তানের স্বার্থে হাসপাতালের প্রত্যাশায় সায় দেয়। আর সিজারিয়ানের মাধ্যমে প্রসব পদ্ধতিতে রাজি হলেই শুরু হয় টাকা হাতানোর হিসাব কষাকষি।

অভিযোগ উঠেছে, নরমাল ডেলিভারির চেয়ে সিজারিয়ানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অনেক বেশি টাকা পায়। হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষেরও এতে ব্যবসা বেশি। কারণ বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়, ওষুধ বেশি লাগে, অপারেশন থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচও বেশি আদায় করা হয়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অপারেশনের পর প্রসূতির অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের জীবাণু আক্রমণ দেখা দেয়। এতে হাসপাতালের ব্যবসা বেড়ে যায়। আর নরমাল ডেলিভারি হলে রোগী এক-দুই দিনের মধ্যে বাসায় চলে যেতে পারে। কিন্তু সিজারিয়ান হলে আগে-পরে মিলিয়ে রোগীকে প্রায় এক সপ্তাহ থাকতে হয়। এতে হাসপাতালের কেবিন বা বেড ভাড়া ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের নামে অনেক বেশি টাকা আদায় করা সম্ভব।

এই ব্যাপারে জনগনকে সচেতন হতে হবে। বেশি বেশি শেয়ার ও কমেন্ট করে গন আন্দোলন সৃষ্টি করুন।।।

লেখক : যুগ্ম আহবায়ক, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*