ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ৪

হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ৪

347

লোহাগাড়ায় হাসপাতালে বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মিজানুর রহমান। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো। 

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান : লোহাগাড়ার বেসরকারি হাসপাতালে নৈরাজ্য।

ফি আদায়ে নৈরাজ্য :
রোগী ভর্তি ফি, শয্যার ভাড়া একেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একেক রকম। এখানে সরকারি নীতিমালা অবহেলিত। মালিকের ইচ্ছেমতো তা আদায় চলছে। কোন হাসপাতালে শয্যার ভাড়া দৈনিক ২শ থেকে ৫শ, অন্য কোন হাসপাতালে ৪শ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা। এসব হাসপাতালে রোগীকে ভর্তির আগে শয্যার মান অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রেও আছে ভিন্নতা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেদে পরীক্ষার ফিও ভিন্ন। আলট্রাসনোগ্রাম করাতে কোন হাসপতালে ৮শ’, আর একটিতে ১ হাজার টাকা, আরেকটি তে লাগে ৯শ’ টাকা। ইটিটি করতে এক হাসপাতালে ১ হাজার, আরেক হাসপাতালে খরচ হয় ১হাজার ২শ টাকা। এভাবে সব চিকিৎসার ফিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেদে ভিন্ন।

নামসর্বস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্র :
লোহাগাড়ার অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রই নামসর্বস্ব। সেগুলোতে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত), চিকিৎসার জরুরি যন্ত্রপাতি, ওষুধ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ইত্যাদি নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, লোহাগাড়ার শতাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে কয়েকির তে নীতিমালা অনুযায়ী উপকরণ নেই। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও তা ধরা পড়ে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্ত্রোপচার হলেও থিয়েটার, দরকারি যন্ত্র ও লোকবল নেই। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক রাখার নিয়ম থাকলেও ‘অনকলে’ এনে চিকিৎসা করানো হয়। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক , চিকিৎসক নেতারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় নীতিমালা না মেনেও সরকারের অনুমোদন পায় বলে জানা যায়। নামসর্বস্ব কেন্দ্রের পাশাপাশি অবৈধ প্রতিষ্ঠানও আছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবসার শিকার হচ্ছেন অসহায় রোগীরা। তালিকা থাকলেও অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা করার নামেই সরকারের অনুমোদন নেয়। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ আমদানিতে সরকারি ভর্তুকিও পেয়ে থাকে। অথচ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে।

আইন মানে নাঃ
বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেশে প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা করছে না। ’৮২ সালের অধ্যাদেশ ৩-এর ধারা অনুযায়ী ফি নেয় না কেউ। আইনে উল্লেখিত ফি’র তুলনায় শতগুণ, এমনকি কয়েক হাজারগুণ বেশি নেয়া হচ্ছে।

লেখক : যুগ্ম আহবায়ক, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*