Home | উন্মুক্ত পাতা | হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ২

হাসপাতালে দুর্নীতি : পর্ব- ২

337

লোহাগাড়ায় হাসপাতালে বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মিজানুর রহমান। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো। 

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান : লোহাগাড়ার প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল নিজেই রোগী!!!!!!! লোহাগাড়ায় অবৈধ ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক!

আমরা এও জানি এই ধরণের ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয় যা রোগীকে মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে দেয়, বহু রোগী অকালে মারা যায়৷ অকালে পরিবারের কাউকে হারানোর কষ্ট অনেক চিকিৎসকই বোঝে না। টেকনিশিয়ান যখন ডাক্তার হয়ে যান তখন কী ভয়ানক পরিণতি হয় সেটা ভোক্তবীরা জানে। মানুষের নিজেদের জীবনের ভোগান্তির এ অভিজ্ঞতা তো কম না। এই অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরো লোহাগাড়ার স্বাস্থ্য সেবার মানকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়েছে । লাইসেন্স দেয়ার আগে যখন সংশ্লিষ্ট টিম পরিদর্শনে যায় তখন নাকি ভাড়া করে চিকিৎসক আনা হয়৷ এমনকি প্যাথলজিস্ট, টেকনিশিয়ান এবং যন্ত্রপাতিও আনা হয় ভাড়ায়৷ পরিদর্শন টিমের সদস্যরা অবৈধ ক্লিনিক মালিকদের প্রতারণার ধরন বুঝতে পারেন না তা কী করে হয়। তবে কি ক্লিনিক মালিক লাইসেন্স পেতে সরকারের প্রচলিত ফি’র বাইরে বাড়তি মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করেন! বিনা লাইসেন্সেও অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা চলে এসব তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানেন না, একথা কেউ বিশ্বাস করবে না।

লোহাগাড়ায় বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বাড়লেও রোগীরা সঠিক স্বাস্হ্যসেবা পেতে হিমশিম খায়। বেসরকারি খাতের অনুপম চিকিৎসা সেবার নামে চলে বাণিজ্য। একশ্রেনির চিকিৎসক নেতা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কর্পোরেট ব্যবসায়ী এসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। এসকল প্রভাবশালীদের কারণে এসব হাসপাতালের তদারকি কোন পদ্ধতি বা কোন উপায়ে হয় সেসব নিয়েও নাকি এন্তার প্রশ্ন রয়েছে । প্রভাবশালীদের কারণে বেসরকারি স্বাস্হ্যসেবা আইন আলোর মুখ দেখে না। এসব হাসপাতাল নিয়ম মেনে চলে কি-না তা তদারকিতে স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের কোন কর্মসূচি আছে কি নেই তা আমরা জানতে পারি না । আবাসিক বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করা হয় ঘুপচি চিকিৎসা কেন্দ্রের কাজ । রকমারি সাইনবোর্ডে বিভিন্ন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ থাকলেও এদের অধিকাংশ উপস্হিত থাকেন না ।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলা পদুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ১ মাত্র সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসকেরা উপস্হিত থাকেন না। তারা সময় দিয়ে থাকেন স্হানীয় কোন ক্লিনিকে। চিকিৎসকেরা নিজেদের স্বার্থে হাসপাতালের আধুনিক পরিবেশ ছেড়ে স্হানীয় এমন ক্লিনিকেও যান যেখানে হারিকেনের আলোয় অস্ত্রোপচার করা হয়। আবার সরকারি চাকুরে যে সকল স্বাস্হ্য সহকারি ক্লিনিক মালিক বনে গেছেন তারা তাদের সরকারি কর্মস্হলে প্রায়ই উপস্হিত থাকেন না । কর্মস্হলে এলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় দেন না । তারা বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন । কোন আইনকানুনের তোয়াক্কা তারা করেন না । বছরের পর বছর তারা আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেন । এগুলো দেখার যেন কেউ নেই ।

(বিঃদ্রঃ – লোহাগাড়া বাসীকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে যতদিন সুস্থ পরিবেশ হবে না, ততদিন আমার আন্দোলন চলবে।)

লেখক : যুগ্ম আহবায়ক, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*