ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | স্কুল ছাত্র খুন : পিস্তলটি দিয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা এনাম

স্কুল ছাত্র খুন : পিস্তলটি দিয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা এনাম

adnan

নিউজ ডেক্স : স্কুল ছাত্র আদনান খুনের ঘটনায় প্রদর্শিত পিস্তলটি দিয়েছিলেন মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী ‘বড় ভাই’ এনাম। গতকাল আদালতে স্কীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামি। শুধু তাই নয়, ঘটনায় ওই পাঁচ জন ছাড়াও জিলহাজ নামে অপর একজন জড়িত ছিল বলে তারা জানিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা জবানবন্দি দিয়েছে। সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজাদীকে বলেন, গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন আদালতে অকপটে দায় স্বীকার করে নিয়েছে। বাকি যাদের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর জামাল খান এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফার। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতির হাট ও নগরীর বাদুরতলা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলো– নগরীর হাজেরা তজু কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মঈন খান, সাব্বির খান, মুনতাছির মোস্তফা, ইসলামীয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা আব্দুল্লাল আল সাঈদ ও এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী হলি ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী এখলাস উদ্দিন আরমান। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে পাঁচ কিশোরই ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আদনানের সঙ্গে তাদের কোন বিরোধ ছিল না। ছোট ভাইদের সাহায্য করতে গিয়েই তারা ঘটনাটি ঘটিয়ে ফেলেছে। তারা আরো জানায় ঘটনায় তাদের সাথে জিলহাজ নামে অপর এক জন ছিল। এছাড়া আদনানের মাথায় তাক করে রাখা পিস্তলটি বড় ভাই এনামই দিয়েছিল বলে জানিয়েছে পাঁচ আসামির একজন সাব্বির। ভিডিও ফুটেজে সাব্বিরের হাতেই শোভা পাচ্ছিল পিস্তলটি।

জবানবন্দিতে আসা এনাম ও জিলহাজকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজাদীকে বলেন, আমিতো আগেই বলেছি, জড়িত প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আসবে। বড় জোর দুই দিন আগে আর পরে ধরা পড়বে , এই যা।

তবে এডিসি রউফ মুখ ফুটে না জানালেও ইতোমধ্যে একাধিক টিম যে চট্টগ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় এনাম ও জিলহাজকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে তা জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। সূত্রটি আরো বলেছে এনামও চন্দনপুরার আওয়ামীলীগ নেতা রউফের অনুসারী। মহসিন কলেজের ছাত্র, বাড়ি রাউজান। নিজেকে পরিচয় দেয় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে।

সূত্রটি আরো জানায়, ঘটনার পর তদন্ত টিম প্রথম জিলহাজকে টার্গেট করেছিল। কারণ গত ১১ ডিসেম্বর কাজেম আলী হাই স্কুলের পাশের মার্কেটের দোতলায় একটি রেস্টুরেন্টে জন্মদিনের পার্টিতে জিলহাজ ও তার বন্ধুরা দিহান ও ফয়সাল নামে দু’জনকে ছুরিকাঘাত করে। এ দু’জন আবার আদনানের বন্ধু। ১২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্তে চকবাজার থানায় হাছিনা আক্তার নামের এক গৃহিণী মামলা করেন। মামলার এজাহারে হাছিনা বলেন, ১১ ডিসেম্বর নগরের গনি বেকারি এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় তার বোনের ছেলে ফয়সাল বন্ধুবান্ধবীদের নিয়ে জন্মদিনের পার্টি করে। অনুষ্ঠান শেষে বের হলে সাঈদ, সাব্বিরসহ একদল যুবক ফয়সালের এক বান্ধবীকে উত্ত্যক্ত করে। প্রতিবাদ করায় ফয়সাল ও তার বন্ধু দিহানকে ছুরিকাঘাত করে ওই যুবকরা। কেড়ে নেওয়া হয় পকেটে থাকা মুঠোফোন ও ৪০ হাজার টাকা। মামলায় জিলহাজ, সাঈদ ও সাব্বির ছাড়াও তাঁদের চার সহযোগীকে আসামি করা হয়। ক’দিন আগে এরা জিলহাজকে ছুরিকাঘাত করে। এরপরই এনাম ওই পিস্তলটি সাব্বিরকে দেয়। সাব্বির সবসময় সেটি কোমড়ে গুঁজে রাখতো। তাই আদনান খুনের ঘটনার পেছনে পুলিশ প্রথমে ধারণা করেছিল জিলহাজকে ছুরিকাঘাত করায় এ ঘটনা। পরে জানা যায় তা নয়, ছোট ভাই দুজনকে সাহায্য করতে গিয়ে তারা ঘটনাটি ঘটায়। -আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*