Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সামরিক আইন নতুনভাবে করা হচ্ছে

সামরিক আইন নতুনভাবে করা হচ্ছে

1432607694Samarik-mtnews

রাষ্ট্রপতিকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব দেয়াসহ সামরিক শাসনামলের দুটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ (সর্বাধিনায়কতা) আইন, ২০১৫ এবং প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ (আইন সংশোধন) আইন, ২০১৫-এর খসড়ায় ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের রায় ছিল। আদালতের আদেশের ধারাবাহিকতা ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ছিল অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যেগুলো দরকার তা বাংলায় নিয়ে আসতে হবে এবং যদি দরকার হয় তা সংশোধন বা পরিমার্জন করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ দুটি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। অধ্যাদেশ দুটি আইনে পরিণত করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ডিফেন্স সার্ভিসেস সুপ্রিম কমান্ড অর্ডিন্যান্স বাংলা করে নতুন আইন করা হচ্ছে। সুতরাং আইনটিতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।

সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলোর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হবে এবং আইনে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি এ আইনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রস্তাবিত আইনে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলোর সর্বাধিনায়ক হবেন এবং তিনি সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদের অধীনে তার ওপর ন্যস্ত প্রতিরক্ষা বিভাগগুলোর সর্বাধিনায়কতা প্রতিরক্ষা বিভাগের বাহিনী প্রধানদের মাধ্যমে প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতির সাধারণ নির্দেশনা সাপেক্ষে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানরা তাদের অধীন বাহিনীর ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১৯৭৮ সালের ডিফেন্স সর্ভিসেস ল’ (অ্যামেনডমেন্ট) অর্ডিনেন্সের বদলে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ (আইন সংশোধন) আইন করা হচ্ছে। তিনি জানান, আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২, এয়ারফোর্স অ্যাক্ট-১৯৫৩, নেভি অর্ডিনেন্স ১৯৬১ এবং আর্মি অ্যান্ড এয়ারফোর্স রিজার্ভ অ্যাক্টস ১৯৫০ ও নেভি এঙ্শেন সার্ভিসেস ১৯৫০-এ কিছু কিছু সংশোধন করা হয়েছিল ১৯৭৮ সালের এক অধ্যাদেশে। যার নাম ছিল ডিফেন্স সার্ভিস ল’ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ১৯৭৮। সামরিক শাসনামলে করা হয় বলে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন এ বিষয়ে নতুন আইন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*