ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি : লন্ডভন্ড গ্রামীণ সড়ক

সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি : লন্ডভন্ড গ্রামীণ সড়ক

Satkania Pic(2) 28.7

এলনিউজ২৪ডটকম : গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষনের ফলে পাহাড়ী ঢলে সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা প্ল¬¬াবিত হয়। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় দিন মজুররা বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে বেকার সময়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কেটেছে অনেকের। ভারী বর্ষণে গ্রামের রাস্তাাঘাট, পুকুর ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ আমন ক্ষেতের বীজতলা। প্রবল স্রোতের নীচে পড়েছে গ্রামীণ জনপদ ও মহাসড়কগুলো। অবিরাম বর্ষনের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৪ দিন ধরে উপজেলার বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়া মাহালিয়া, বড়দুয়ারা কলঘর ও দস্তিদার হাট এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে প্রায় তিন ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার কারনে বান্দরবানের সাথে দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

তাছাড়া সাতকানিয়ার সাথে বাঁশখালী, হ্ঙ্গারমুখ, বাজালিয়া ও আমিলাইষ এলাকার অভ্যন্তরিন সড়ক যোগাযোগ ছিল বন্ধ। উপজেলার কালিয়াইশ, ধর্মপুর, বাজালিয়া পুরানগড়, নলুয়া, ঢেমশা, পশ্চিম ঢেমশা, কেওচিয়া, ছদাহা, এওচিয়া, সোনাকানিয়া ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এসব এলাকার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে।

এদিকে গত সোমবার বিকাল বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলে বান্দরবানসহ সাতকানিয়া উপজেলার সকল সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সাতকানিয়া নয়াখাল, হাঙ্গর খাল, ডলুখাল ও শংখ নদীর পানি প্রবাহ পেয়ে বিপদসীমার নীচে নেমে এসেছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গা থেকে পানি নেমে গেলেও অধিকাংশ নিন্মাঞ্চলে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি কমে গেছে সেসব এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গ্রামীন সড়কগুলো ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। বন্যার পানি পল্লী বিদ্যুতের সাব-ষ্টেশনে ঢুকে পড়ার কারনে গত ৪ দিন ধরে কেওচিয়া, সোনাকানিয়া, মাদার্শা ও আমলিাইশ ইউনিয়নের প্রায় ২০ গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে রয়েছে।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ কেরানীহাট শাখার এজিএম আবুল বশর বলেন, সাব-ষ্টেশনের পানি নেমে যাওয়ার পর সঞ্চালন লাইন পরীক্ষা করে বিদ্যুৎ চালু করা হবে। এছাড়া পাহাড়ী ঢলের পানিতে শঙ্খের চরের কয়েকশ’ একর সবজি খেত ভেসে গেছে।

চরের সবজি চাষী কালিয়াইশের নুরু ও জসিম জানান, শঙ্খের চরের অধিকাংশ সবজি চাষী উত্তর কালিয়াইশ এলাকার। ছোটখাট চাষী বাদ দিয়ে শতাধিক সবজি চাষী রয়েছে যাঁদের প্রত্যেকের ৪/৫ একর চাষ রয়েছে।

তাঁরা আরো বলেন, সবমিলে আমাদের সবজি খেতে ৫ কোটি টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মৎস্যচাষীরা পুরো উপজেলায় প্রায় ৩ হাজারের অধিক মাছের প্রজেক্ট ডুবে গিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

Satkania Pic 28.7

ছদাহা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পানি নেমে গেছে কিন্তু রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা হয়ে গেছে। এদিকে শঙ্খের পানি কমতে থাকলে নদী তীরবর্তী লোকগুলো পড়েছে তীব্র ভাঙ্গনের মুখে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, পানিবন্দি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, বিগত একমাস আগের বন্যায় আমরা সরকারীভাবে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি আশা করছি এবারও পাব, উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাাঁড়ানোর চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*