ব্রেকিং নিউজ
Home | অন্যান্য সংবাদ | সাজেকভ্যালিকে কাজে লাগালে বাংলাদেশের দার্জিলিংয়ে পরিণত করা সম্ভব 

সাজেকভ্যালিকে কাজে লাগালে বাংলাদেশের দার্জিলিংয়ে পরিণত করা সম্ভব 

Sajek-Vally20150706124144

আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে। মেঘ ছুঁয়েছে পাহাড়। ঝর্ণা ছুঁয়ে গেছে নদীকে। মেলেছে দু’হাত প্রকৃতির আধার। পাহাড়ের পিঠ বেয়ে চলা প্রশস্ত ঢাল মিলিয়ে গেছে সমতল ভূমি হয়ে। বিস্তৃত উঁচু পাহাড় জুড়ে বসেছে সবুজ প্রান্তর। সবুজে ঘেরা আর পাখপাখালিতে ভরা বন-বাঁদাড়। নূুয়েছে মেঘবালিকা। পৃথিবীর এ যেন এক মনোরম ভূ-স্বর্গ। সেটি এখন নতুন পর্যটন জোন। ওই স্পটটির নাম সাজেকভ্যালি। বাংলাদেশের পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনা। সম্ভাবনাময় ওই সাজেকভ্যালি কাজে লাগালে সেটি হতে পারে বাংলাদেশের দার্জিলিং।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়বেষ্টিত বিশাল উঁচুভূমির ওই সাজেকভ্যালির অবস্থান বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে। উপজেলা সদর থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। এটি এখন পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের এ অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সাজেকে পর্যটকদের অবকাশ যাপনে বিজিবির মারিশ্যা জোন স্থাপন করেছে রুইলুই রিসোর্ট। সম্প্রতি রিসোর্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সমতলের নিচুভূমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত সাজেক। সাজেক পাহাড় চুড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দৃশ্য বিমোহিত করে ফেলে প্রকৃতি প্রেমীদের। দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ওই সাজেক। এর আয়তন ৬০৭ বর্গমাইল। যা দেশের কিছু জেলার চেয়েও বড়।

বর্তমানে মাত্র দশ হাজারের মতো লোকের বসবাস সাজেকে। সাজেকে ঢেউ খেলানো অসংখ্য উঁচু-নিচু পাহাড়। যেগুলো সবুজ বনানীতে ঘেরা। যেন চোখ জুড়ানো নিসর্গ। পাহাড়ের বুক চিরে আপন মনে বয়ে চলেছে কাচালং ও মাচালং নামে ছোট দুটি নদী। নদী দুটির রূপ যেন সত্যিই পাহাড়ি কন্যার। দুটি নদীর বুকে প্রায় সব সময় ভাসতে দেখা যায় বাঁশের চালি। যা দৃষ্টি কাড়ে সবার চোখে।

চালিতে বাঁধা বাঁশ সরাসরি চলে যায় কাপ্তাই লেক হয়ে কর্ণফুলি পেপার মিলে। আর পাহাড়ি পথ বেয়ে চলা রাস্তার দু’ধারে গড়ে উঠেছে স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রাম। সেসব গ্রামের জনমানুষের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনধারা ঘিরে মুহূর্তেই আপ্লুত হবে আগত যে কারও মন।

বিপুল সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনীতিবিদরা মন্তব্য করেছেন, সম্ভাবনাময় সাজেকভ্যালিকে কাজে লাগালে বাংলাদেশের দার্জিলিংয়ে পরিণত করা সম্ভব। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ দেশের অনেক বিশিষ্টজন সরেজমিনে সফর করেছেন সম্ভাবনাময় সাজেক। সর্বশেষ গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারি সাজেক সফর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

জানা যায়, সাজেক ভ্যালির সম্ভাবনাকে ঘিরে এর মধ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সাজেকের সংযোগ তৈরি হবে একদম সহজেই। সড়ক পথে ঢাকা থেকে যে কোনো পরিবহন খাগড়াছড়ি হয়ে যাবে সরাসরি সাজেকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অঞ্চলটি প্রসিদ্ধ হলে ঢাকা থেকে আকাশ পথে গড়ে তোলা যাবে বিমান চলাচলের ব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের যে কোনো অঞ্চল বা জায়গার সঙ্গে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে খুব সহজে। রাঙ্গামাটি জেলা সদরের সঙ্গে সাজেকের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে সড়ক ও নদীপথে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-বাঘাইহাট-মারিশ্যা হয়ে সাজেক। আর নদীপথে রাঙ্গামাটি-মাইনি-মারিশ্যা রুটে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর। সেখান থেকে আবার গড়ে তোলা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সাজেকের চূড়ায় ওঠে দেখা যায় আকাশ থেকে পায়ের নিচে নামছে মেঘের ঢল। মেঘেরা ছুটোছুটি করে চলে মাথার ওপর। এমন দৃশ্য উদাস করে তোলে সবার মন। তখন যেন মনের গভীরে ছুঁয়ে যায় আনন্দের কোমল পরশ। এখন রাঙ্গামাটির সাজেক পাহাড় দেখতে প্রায়ই সেখানে পাড়ি জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

Rangamati-Sajek-Velly-pic20150706124155

সম্প্রতি জনসাধারণের প্রত্যাশিত ও প্রিয় পর্যটন স্পট রুইলুই ভ্যালির উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামছুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় সাজেক যাওয়া ছিল অনেকটা স্বপ্নের মতো। কয়েক বছর আগে সড়ক নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এতে দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে সাজেকবাসীর জীবনচিত্র। আর এখন সৌন্দর্য্য অবলোকনে পর্যটকরা যাচ্ছেন সরাসরি সাজেক।

প্রকৃতির মিতালিতে হারিয়ে যেতে সাজেক পাড়ি জমাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। সেজন্য পর্যটকদের ঘিরে সেনাবাহিনী গড়ে তুলছে পর্যটনের নানা অবকাঠামো। প্রশস্ত সড়ক, কটেজ, বিশ্রামাগার, সড়কবাতি, ক্লাবঘর, শিবমন্দির, পাবলিক টয়লেট, বিদেশি কটেজের আদলে তৈরি রিসোর্টসহ ইত্যাদি। `রুম্ময়` ও থ্রি স্টার মানের হোটেলও এ পাহাড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এখন। সাজেকের অধিকাংশ বাসিন্দা মিজো, লুসাই বা পাংখোয়া নামের গোষ্ঠীভুক্ত।

সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর থেকে সাজেকের নৈসর্গিক আবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক যাচ্ছেন সাজেক। পর্যটদের মতে, সাজেক একটি সম্ভাবনাময় জনপদ। এর প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যকে কাজে লাগাতে পারলে সাজেক হতে পারে দেশের পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*