Home | উন্মুক্ত পাতা | সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা সময়ের দাবি

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা সময়ের দাবি

39

অধ্যক্ষ এম. সোলাইমান কাসেমী : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মহান একুশে ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে আমাদের মাতৃভাষার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্যে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়েছিল তারই স্মৃতিবিজড়িত তারিখ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। শুধু মায়ের ভাষার জন্যে রক্তাক্ত সংগ্রাম হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম ঘটনা বিরল। আমাদের স্বাধীনতার রক্তিম সকালে পৌঁছতে যে চেতনা সব চেয়ে বেশি কাজ করেছে তা হলো ৫২’র ভাষা আন্দোলনের চেতনা। ভাষা শহীদদের রক্তে ভেজা এ দিনটি শহীদ দিবস নামেই সমধিক পরিচিত। আর এ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের অহংকার ও ঐতিহ্য। এই অমর একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য কেবল শহীদ দিবস পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা বাঙালির জাতীয় জীবনের সর্বত্র বিস্তার করতে সক্ষম হয়। একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনার মাধ্যমে বাঙালি জাতি আত্মসচেতন হয়ে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। বাংলাদেশের সব আন্দোলনের মূল চেতনা। এ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। এ একুশ থেকেই বাঙালি উপলদ্ধি করেছিল তার বাঙালি জাতীয়বোধ, আর এ জাতীয় বোধই তার সংস্কৃতির অতন্ত্র প্রহরী। এ সংগ্রামী চেতনাই বাংলার সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক আন্দোলন এ দু’ধারাকে এক সূত্রে গ্রথিত করে বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন। তাঁদের রক্ত বৃথা যায়নি। বাঙালি রক্তের পলাশ কলি দিয়েছেন। তাদের ফুটেছে ভাষার ফুল হয়ে। তাঁদের এই আত্মত্যাগের কারণে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এতে সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারেন বাংলাদেশ নামে একটি দেশের কথা, বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার কথা। এ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে বাঙালি জাতি লাভ করেছিল আত্মমর্যাদার চেতনা। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের প্রেরণা। আজো একুশের চেতনার সমাপ্তি ঘটেনি, আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, কিন্তু পাইনি অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি সামাজিক সাম্য। গড়তে পারিনি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, তাই প্রতি বছর মহান একুশে ফেব্র“য়ারি আমাদেরকে দারিদ্রমুক্ত, অভাবহীন সুখী-সমৃদ্ধি বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণা দিয়ে যায়।

লেখক: মাওলানা এম. সোলাইমান কাসেমী এম.ফিল গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*