ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সবুজ বনভূমি এখন ন্যাড়া : রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে বন্য হাতির আক্রমণ

সবুজ বনভূমি এখন ন্যাড়া : রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে বন্য হাতির আক্রমণ

20171001_134129

নিউজ ডেক্স : বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শত শত একর বনভূমি উজার করে বসবাস শুরু করেছে। পাহাড়ে কোথাও জোটবদ্ধ আবার কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এসব শরণার্থী। যার ফলে সবুজ বনভূমি এখন নেড়ামাথায় পরিণত হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে জীব-বৈচিত্র। শরণার্থীর দল বনভূমি দখল না করার আগে এসব পাহাড়ে হরিণ, শিয়াল, বন্য হাতিসহ নানা প্রজাতির জীব জন্তুুর বসবাস ছিল।
যেসব এলাকা দিয়ে পশু-পাখি ও জীব-জন্তুুরা চলাচল করত ওখানে এখন হাজার হাজার রোহিঙ্গার বসবাস। আর পশু-পাখির আবাসস্থলে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারণে ঘটছে বন্য হাতির আক্রমণের ঘটনা। গত একমাসে একই পরিবারের ৪ জনসহ ৮ রোহিঙ্গা অকালে প্রাণ হারিয়েছে হাতির আক্রমণে। আক্রমণ থেকে দিক-বিদিক ছুটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু।
উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, বন উজাড় করে হাতির আবাসস্থল নষ্ট করায় নিরাপদ স্থান খুঁজে পাচ্ছে না হাতির দল। ফলে তারা অস্থির হয়ে উঠেছে। আর আক্রমণ করছে লোকালয়ে। তাই দ্রুত উচিত হাতির আবাসস্থলের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া।
বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাতির বসবাসের ১২টি করিডোর রয়েছে। এসব করিডোরের কাছাকাছি মানুষের বিচরণ বাড়ায় এই বিরূপ আচরণ করছে হাতি।
এদিকে হাতির আক্রমণের ভয়ে অনেক রোহিঙ্গা নির্ঘুম রাত পার করছে বলে জানা গেছে। তারা আতঙ্কে থাকছে, কখন বন্যহাতি তাণ্ডব এসে চালায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, যেসব বন এক সময় বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ছিল তা এখন লোকালয়ে পরিণত হয়েছে। ওখানে অবস্থান হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের বসতি। হাতি চলাচলের রাস্তা জনমানবশূন্য হওয়ার কথা থাকলেও এসব স্থানে এখন লাখো মানুষের বিচরণ। ফলে বিরূপ আচরণ করছে বন্য হাতিরদল।
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া নুর বানু ও আবদুস শুক্কুর বলেন, বাংলাদেশে থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসাসহ সব সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে হাতির আক্রমণের কারণে। কোন সময় বন্য হাতিরদল আক্রমণ করে। আমরা অনেকেই আক্রমণ থেকে বাঁচতে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছি।
মো. ইসলাম নামে আরেক রোহিঙ্গা জানান, আগের শুক্রবার রাতে তার সামনেই বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের ৪ জন মারা গেছে। সেই থেকে খুবই আতঙ্কিত তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উখিয়ার পালংখালীর বালুখালীতে রোহিঙ্গা বস্তিতে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়। এর ক’দিন আগেও বন্য হাতির আক্রমণে ২ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। আর এক মাসে আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে হাতির আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে। যার ফলে তারা পাচ্ছে না খাদ্য। তাই তাদের আগের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। তাই প্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষায় রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে বন বিভাগ কর্মকর্তা (দক্ষিণ) আলী কবির জানান, বনবিভাগের দেয়া তথ্যমতে কক্সবাজার এবং বান্দরবানে হাতির বাসবাসের ১২টি করিডোর রয়েছে। এসব করিডোরের কাছাকাছি মানুষের বিচরণ বাড়ায় বিরূপ আচরণ করছে হাতি। হাতির বাসস্থানের কাছাকাছি চলে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*