Home | শিক্ষাঙ্গন | শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় উত্তপ্ত চুয়েট ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় উত্তপ্ত চুয়েট ক্যাম্পাস

cuet_33

নিউজ ডেক্স : শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের হাতে হামলার শিকার চুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুক্তাদির শাওন বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ২০-২১ দিন ধরে চুয়েট শিক্ষার্থীদের একপক্ষ ক্লাস বর্জনে আরেক পক্ষ উৎসব পালনে ব্যস্ত রয়েছে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার সকাল থেইে ক্লাস বর্জন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একাংশ।

এমত পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের দল ভারী করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সমঝোতা করতে লাভসু গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে চুয়েট কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে জড়িতদের শাস্তি দিলে ক্লাসে যোগ দেবে বলে জানায় লাফসু গ্রুপের নেতারা।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের বাকে গ্রুপের কর্মীরা লাভসু গ্রুপের কর্মী মুক্তাদির শাওনকে মারধর করে। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে তাকে এই নির্যাতন করা হয়। এর প্রতিবাদে লাফসু গ্রুপ ক্লাস বর্জন করে।

চুয়েট সূত্রে জানা যায়, লাভসু গ্রুপের পক্ষে সাধারণ ছাত্র বেশি থাকলেও ক্যাম্পাসে বাকের গ্রুপের প্রভাব বেশি।

এদিকে আহত মুক্তাদির শাওন গত ২১ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েকদিন আগে জ্ঞান ফিরলেও এখনো মাঝে মাঝে লাইফ সাপোর্ট লাগে তার। কাউকে চিনতে পারছেন না। ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে।

শাওনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাওনের চোয়াল, বুকের হাড়, মেরুদণ্ডের হাড় এবং একটি পাঁজরের হাড়ে রড ঢুকিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এছাড়া শাওনের হাত ভেঙে আঙুলের নখ উপড়ে ফেলেন তারা। এমনকি শাওনের দাঁত ভেঙে ফেলা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের কারণে শরীরের অধিকাংশ জায়গায় গুরুতর জখম হয়েছে তার।

শাওনের সহপাঠীরা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে শাওনের দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তাকে সিএনজি করে চুয়েটের পাশে ইমাম গাজ্জালি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাঠে নিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করে হামলাকারীরা।

পরে শাওনকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৬ অক্টোবর শাওনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে চুয়েট ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ পারভেজ লাভসু বলেন, স্ট্যাটাসের জন্য শাওন ক্ষমা চেয়েছিল এবং তা ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। তারপর এমন কিছু হবে তা কখনো আশা করিনি।

চুয়েট সূত্র জানায়, ঘটনার তদন্তে চুয়েট কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান ও ওই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামসুল আরেফিনকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক বলেন, তদন্ত কমিটিকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে রির্পোট দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ছাত্রদের কাল থেকে ক্লাসে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান ,ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হকসহ ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*