ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | শত সম্ভাবনার স্বপ্নলোকের চাবি নির্মাণাধীন ইছহাক মিয়া সড়ক

শত সম্ভাবনার স্বপ্নলোকের চাবি নির্মাণাধীন ইছহাক মিয়া সড়ক

14

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়ার চুনতি ইসহাক মিয়া সড়ক নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। সড়কটি নির্মিত হলে এলাকায় অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পর্যটন, চাষাবাদ, বনায়ন, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এলাকায় আলোর দিগন্ত রেখা উন্মোচিত হবে। এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসীরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তারা বলছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পিএসসি বীরবিক্রম চুনতির কৃতিসন্তান। মরহুম ইসহাক মিয়া চুনতির সফল একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তারই নামানুসারে এ সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে রাস্তাটি মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদার লোহাগাড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল প্রাক্কলিত ব্যয়ের কমে এ কর্মযজ্ঞ প্রসারিত করছেন। রাস্তাটি চুনতি মুন্সেফ বাজার হতে চুনতি নারিশ্চা পাটিয়াল পাড়া পর্যন্ত মোট সাড়ে ১০ কিলোমিটার। তবে কার্যক্রম চলবে ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত। এ রাস্তায় মোট ৫টি ব্রীজ ও ১৮টি কালভার্ট রয়েছে বলে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানিয়েছেন। চুনতি ইউনিয়ন মূলতঃ পূর্ব-পশ্চিম মুখী। চুনতি সদর হতে পানত্রিশা পর্যন্ত যাতায়াত করতে ঘোর পথে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের বটতলী মোটর ষ্টেশন হতে দরবেশহাট ডিসি রোড হয়ে চলাচল করতে হত। ফলে ভূক্তভোগীরা নিদারুন দূর্ভোগ পোহাতেন এবং কালক্ষেপন হত। এ রাস্তাটি সোজা মুন্সেফ বাজার সংলগ্ন হাতিয়া খাল অতিক্রম করে আঞ্জুমান মাঠ হয়ে পূর্বদিকে সাতগড় হরিণা, চান্দা হয়ে ঐতিহাসিক জাদি মুরা সংলগ্ন এলাকার পাশ দিয়ে নারিশ্চা পাটিয়াল পাড়ায় গিয়ে মিশেছে। ফলে রাস্তাটি নির্মিত হওয়ার পর আর আরকান সড়ক হয়ে লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশন ঘুরে যেতে হবে না। এ রাস্তাটি চুনতি আঞ্জুমান মাঠ সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে চলমান থাকায় পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে। আঞ্জুমান মাঠ সংলগ্ন স্থানে আবেদীন সাহেবে মায়ের নামে গত বছর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারী হতে শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে নতুন দিগন্তের পথে যাত্রা করছে। এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ার পিছনে সুষম যোগাযোগ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখবে। চান্দা এলাকায় আধুনগর হরিণা রোড এ রাস্তার সাথে মিশেছে। ফলে আধুনগর হতে পুটিবিলা এমচরহাটসহ সন্নিহিত স্থানে যাতায়াতের বাঁধা অপসারিত হবে। পুটিবিলা, আধুনগর, চুনতি তিন ইউনিয়নের সীমানা অতিক্রম করেছে বলে এ রাস্তার সংযোগস্থলে চান্দা হতে পূর্বদিকে ডোমপাড়া ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মিত হলে পুটিবিলা ইউনিয়ন অফিসে যাতায়াতের পথ আরো সুগম হবে। পুটিবিলা ইউনিয়ন সংলগ্ন হাই স্কুলটি মহান মুক্তিযুদ্ধে দোহাজারী হতে টেকনাফ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হত। এ ঐতিহাসিক স্থানটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইছহাক মিয়া সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পীটস্থান পুটিবিলা হাইস্কুল আলোর পাদ প্রদীপে আসবে। নারিশ্চা সংলগ্ন জাদিমুড়াটি ঐতিহাসিক বৌদ্ধ ধর্মের পুরাতন নিদর্শন যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় এ মন্দিরে বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ পর্যটকরা আসা-যাওয়ায় দূর্ভোগ পোহাতেন। এখন চুনতি হয়ে সোজা ইসহাক মিয়া সড়ক অতিক্রম করলেই এখানে পর্যটনের দুয়ার খোলে যাবে। ডলু তীরবর্তী দক্ষিণ চান্দা ও উত্তর চান্দায় প্রচুর ধান, তৈরি-তরকারি উৎপাদিত হয়। চান্দার পাহাড়ে পান চাষের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকার লোকজন এ পাহাড়ে সামাজিক বনায়ন করেছেন। বন বিভাগেরও বাগান রয়েছে। এখানে অংশীদারিত্বের বাগান আছে বলে এলাকাবাসীরা বন রক্ষায় নিজেরা সচেষ্ট আছেন। কাঠ চোরেরা ঘোর পাহাড়ি পথে কাঠ চুরি করে বন লুপাটে তৎপর ছিল। এখন ডলু বন বিট সংলগ্ন স্থান নারিশ্চা প্রভৃতিস্থানে যাতায়াত সুগম হবে বলে থানা পুলিশ খবর পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলে জানা যায়। পুটিবিলা পানত্রিশা এলাকায় মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পিএসসি বীরবিক্রমের নামে এ বছর একটি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান এ বিদ্যালয়টি নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও স্থানীয় মেম্বার আবদুল মান্নান স্কুল নির্মাণ ও রাস্তা, ব্রীজ-কালভার্ট স্থাপনে নিরলস ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। রাস্তা সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়ন অবস্থিত। এ ইউনিয়নে বনায়নের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আরকান সড়ক হতে ভিতর দিকে বহুস্থানে সুগম যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। ইসহাক মিয়া সড়ক নির্মিত হলে আজিজনগর বনাঞ্চলেও উন্নয়ন সাধিত হবে। লোহাগাড়ার এমচরহাট, নারিশ্চা, পাটিয়াল পাড়া হতে দক্ষিণে পানত্রিশা অতিক্রম করে কিল্লাখোলা রাস্তাটি লামা-বান্দরবান সড়কের সাথে মিশেছে। লামার কেয়াজুপাড়া একটি ঐতিহাসিক স্থান। এখানে কোয়ান্টম মেথডের ভাবনা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিদিন দুর্বিসহ যাতায়াত যন্ত্রণা ভোগ করে অনেকে ভাবনা কেন্দ্রে যাতায়াত করেন। কেয়াজুপাড়া থেকে উত্তর দিকে বান্দরবানের চিম্বুক ও দক্ষিণে লামার কম্পনিয়া স্থানটি অবস্থিত। কম্পনিয়া পাহাড় হতে ডলু নদীর উৎপত্তি। এসব স্থান পর্যটককে প্রতিদিন হাতছানি দেয়। দিচ্ছে। ইসহাক মিয়া সড়কের উপরিভাগ ২৪ ফিট কার্পেটিং সম্পন্ন রাস্তা হবে। রাস্তার দু’পাশে বনায়ন করা হবে। ফলে এক নৈশর্গিক আবহ সৃষ্টি হবে। যতই দিন যাচ্ছে ততই এলাকাবাসীরা সুন্দরের প্রত্যাশার প্রহর গুনছেন। আগামী বছর মধ্যভাগে রাস্তাটি নির্মাণ সম্পন্ন হবার কথা রয়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল অফিস আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তার আগেই নির্মাণযজ্ঞ শেষ হবে। এলাকাবাসীরা সেই দিনের প্রত্যাশায় বিভোরভাবে দিনাতিপাত করছেন বলে অনেকে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*