ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | শত আশ্বাসেও স্থায়ী ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে না

শত আশ্বাসেও স্থায়ী ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে না

07

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার সীমান্তবর্তী টংকাবতী খালের মুখে একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের। অনেকে ব্রীজটি নির্মাণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন। বহু লেখালেখি হয়েছে। রহস্যজনক কারণে ব্রীজটি নির্মাণ হয়নি। হচ্ছেনা। ভূক্তভোগীরা অনতিবিলম্বে তাদের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। টংকাবতী খালের মোহনা এলাকা টর মুখ নামে পরিচিত। এখানে লোহাগাড়ার বাইর খাল টংকাবতীতে মিশেছে। আবার টংকাবতী ডলুর সাথে মিশে গেছে। স্থানটি শাহপীর সড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। অপরপ্রান্ত ডেপুটি হাট পর্যন্ত বিস্তৃত। নদীর উভয় তীরের মানুষ অস্থায়ী একটি ব্রীজ অতিক্রম করে শুকনা মৌসুমে লোহাগাড়ার বটতলী দরবেশহাট, জনকল্যাণ স্কুল, আমিরাবাদ হাই স্কুল, সুফিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পাশাপাশি উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করে। নদীর উভয় তীরে আমিরাবাদ, রূপকানিয়া, ডেপুটী বাজার এবং ডলুর পশ্চিম তীরে গারাংগিয়া গ্রাম অবস্থিত। বর্ষাকালে এসব গ্রামের অধিবাসীরা অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহান। আমিরাবাদ রূপকানিয়া বিল ফাড়ার বিল প্রভৃতিস্থানে প্রচুর রবিশষ্য উৎপাদিত হয়। টংকাবতীর চরে রবিশষ্য উৎপাদিত হলেও ব্রীজের প্রতিবন্ধকতার কারণে কৃষক অনেক সময় মার খেয়ে যায়। পচনশীল শাক-সব্জি ক্ষেতেই অনেক সময় পচে যায় পরিবহন সংকটের কারণে। শরনার্থীতকাল থেকে শাহপীর রোড ধরে সুদূর ফারেঙ্গা-পানত্রিশা এমনটি লামা উপজেলা অধিবাসীরা পদব্রজে সাতকানিয়ায় আসা-যাওয়া করতেন। বিয়ে-শাদির বাজার করতেন। কোট-কাচারীতে মামলার হাজিরা দিতেন। কালের প্রবাহে দিন বদলে গেছে। লোকজন ঘোর পথে গারাঙ্গীয়া মাদ্রাসা ব্রীজ অতিক্রম করে পদুয়া হয়ে লোহাগাড়া বটতলী আসা যাওয়া করেন। ব্রীজটি নির্মিত হলে ঘোর পথের দূরত্ব কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার কমে যাবে বলে এলাকাবাসীরা দাবী করছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এ ব্রীজের সংযোগ রাস্তা দু’টির অবস্থা অতীব করুণ। ২০০৮ সালে জাইকার অর্থায়নে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৭শ টাকা ব্যয়ে এ স্থান থেকে ৩ কিলোমিটারের অধিক শাহপীর সড়কটি উন্নয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে এ রাস্তার করুণ দশার অবস্থা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। অনেক স্থানে রক্ষাদেওয়াল বাইর খালে বিলীন হয়ে গেছে। বাইন্যাহাট সংলগ্ন প্রাইমারী স্কুলের সামনে নদীর স্রোতে রাস্তাটি বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোন সময় নদীতে পড়ে যায় এ আশংকায় থাকেন। শিক্ষক মন্ডলী ভূক্তভোগীরা অনতিবিলম্বে মানবিক কারণে বাইর খালের মুখে একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা সমাধান করার দাবী জানিয়েছেন। তারা বলছেন এ সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। যত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেয়া যায় ততই মঙ্গল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*