Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়া বটতলী ষ্টেশনে গণশৌচাগার না থাকায় জনদূর্ভোগ চরমে

লোহাগাড়া বটতলী ষ্টেশনে গণশৌচাগার না থাকায় জনদূর্ভোগ চরমে

278

মারুফ খান : তছলিমা আক্তার। একজন গৃহিনী ও দু’সন্তানের জননী। লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে শ্বশুর বাড়ি। স্বামী প্রবাসী। সেই সুবাদে প্রয়োজনীয় কাজে প্রতিনিয়ত বটতলী মোটর ষ্টেশনে আসতে হয়। বাড়িতে কেউ না থাকায় যেখানে যায় দু’সন্তানকেই সাথে নিয়ে যেতে হয়। আজ ২০ নভেম্বর সকালে বটতলী মোটর ষ্টেশনে এসে বড় সন্তানের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়। কিন্তু গণশৌচাগার না থাকায় চরম জনদূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তার।

তিনি আরো জানান, লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশন দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু গণশৌচারগার না থাকায় প্রায় সময় সন্তানদেরকে নিয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি নিজেও অনেক সময় গণশৌচারগার না থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হন। তিনি আরো জানান, কয়েকটি খাবার হোটেলে টয়লেট থাকলেও তা পর্যাপ্ত না। অনেক সময় হোটেল মালিক-কর্মচারীর কটুক্তি শুনতে হয়। ফলে একজন মহিলা হিসেবে অনেক বেকায়দায় সম্মুখীন হতে হয়।

তছলিমা আক্তারের মতো হাজারো নারী-পুরুষ ক্রেতা-বিক্রেতাকে প্রতিদিন লোহাগাড়া সদরের বটতলী মোটর ষ্টেশনে এসে গণশৌচারগার না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হয়। হচ্ছে। রহস্যজনক কারণে গণদাবী বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানান বটতলী মোটর ষ্টেশনের ব্যবসায়ীরা।

লোহাগাড়া শহর পরিচালনা কমিটির সদস্য মিছবাহ উদ্দিন রাজিব জানান, বটতলী মোটর ষ্টেশনে ছোট-বড় প্রায় ২০১টি মার্কেট আছে। এতে মালিক-কর্মচারী মিলে অন্ততঃ ১০ হাজার জনসহ প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় এ ষ্টেশনে। গণশৌচাগার না থাকায় প্রতিদিন সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে শিশু, নারী, ক্রেতা-বিক্রেতারা। তিনি আরো বলেন, গতো দু’বছর পূর্বে স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করেও কোন সুফল পাননি। লোহাগাড়া শহর পরিচালনা কমিটির আদায়কৃত অর্থ ব্যয় করা হয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপত্তার কাজে। সরকারী অনুদান ছাড়া গণশৌচাগার নির্মাণ সম্ভব নই বলে জানান তিনি।

লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশনস্থ স্টার সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সংবাদকর্মী সাত্তার সিকদার জানান, উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বটতলী মোটর ষ্টেশনে গণশৌচারগার না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। হচ্ছে। বিশেষ করে নারী-শিশুদের এই দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গণশৌচারগার না থাকার দূর্ভোগ লাঘবে লোহাগাড়া শহর পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করেছেন।

বটতলী মোটর ষ্টেশনের এক দোকান কর্মচারী খাইরুল ইসলাম জানান, লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশনে চাকুরী করছেন প্রায় ১০ বৎসর যাবত। ষ্টেশনে দিন দিন নতুন মার্কেট নির্মিত হচ্ছে কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় গণশৌচাগার নির্মাণের কোন খবর নেই। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন তিনিসহ বিভিন্ন দোকানে কর্মরত কর্মচারী বটতলী মোটর ষ্টেশন থেকে ২/৩ কিলোমিটার দূরে অন্যের পুকুরে গিয়ে গোসল করতে হয়। যার কারণে অনেককে অনেক সময় কটুক্তি শুনতে হয়। যা খুবই দুঃখজনক।

এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সমস্যাটি দিন দিন প্রকট আকারণ ধারণ করছে। লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশনে গণশৌচাগার নির্মাণ করে ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি প্রত্যাশা ভূক্তভোগীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*