ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় বনভূমি ও নদীর তীরে ক্ষতিকর তামাক চাষ

লোহাগাড়ায় বনভূমি ও নদীর তীরে ক্ষতিকর তামাক চাষ

154

এলনিউজ২৪ডটকম : স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে চলছে তামাক চাষ। বিড়ি কোম্পানিগুলোর আর্থিক সহায়তা পেয়ে  অধিক লাভের আশায় উপজেলার বনভূমি ও নদীর তীরের কৃষকরা ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছে তামাক চাষের প্রতি। এতে করে তামাক পাতার বিষ ক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

অন্যসব ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছর যাবত লোহাগাড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তামাক চাষের বিস্তৃতি ঘটছে ক্রমাগত। আর এই তামাক চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছে বিড়ি কোম্পানিগুলো। গত কয়েক বছর যাবত বিড়ি কোম্পানিগুলো তামাক চাষের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চড়া মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি তামাক কিনে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো।

তাছাড়া কৃষকদের দাবি, বনভূমি ও নদীর তীরে এসব জমিতে অন্য ফসল তেমন একটা হয় না। তাই অভাবের সময়টায় বাড়তি দুদপয়সা ঘরে তোলার আশায় তারা তামাক চাষ করছেন। ধান ও রবিশষ্য চাষাবাদে তাদের লোকসানে পতিত হতে হয়।

জানা গেছে, লোহাগাড়ার টংকাবতী, হাঙ্গর প্রভৃতি খালের উজানে টংকাবতী চর থেকে নিুদিকে কলাউজান পর্যন্ত চরের দু’তীরে তামাক চাষ রয়েছে। হাঙ্গরের অবস্থাও একই। হাঙ্গর খালের দু’তীরে তামাক চাষ প্রতি বছর বাড়ছে। ফলে দিন দিন এলাকার কৃষকরা মৌসুমী শষ্য চাষাবাদে উৎসাহ হারানোর কথা বলেছেন সচেতন মহল। এক সময় লোহাগাড়া সন্নিহিত পার্বত্য বান্দরবানের টংকাবতী এলাকায় শীতকালীন সব্জিসহ নানা প্রজাতির ফসল উৎপাদন হত। বর্তমানে সেসব জমিতে চাষ হচ্ছে তামাকের। যেখানে জুমচাষ হতো সেখানেও সাধারণ কৃষকদের অধিকাংশই তামাক চাষে লিপ্ত হয়েছে।

চাষীরা জানায়, জমিতে অন্য ফসল তেমন একটা হয় না, যে কারণে প্রতি বছর লোকসান দিতে হয়। কিন্তু এই জমিতে তামাকের চাষ খুব ভালো হয় আর জর্দ্দা-বিড়ির কোম্পনিরাই টাকা দেয় আবার শুকনা পাতা তারাই কিনে নিয়ে যায়। তাই লোকসান হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও থাকে না।

অপরদিকে, আর্থিক অস্বচ্ছলতা আর তামাক চাষে ব্যয় কমাতে কৃষকের পাশাপাশি তামাক ক্ষেতে কাজ করছে পরিবারের অন্য সদস্যরাও। এতে করে তামাক পাতার বিষ ক্রিয়ায় কৃষক পরিবারের সদস্যরা ক্ষুধা মন্দা, শ্বাসকষ্ট, চর্ম রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়াও তামাক চাষীদের পাতা মজুদ রাখার জন্য আলাদা কোনো গোডাউন বা ঘর না থাকায় বেশির ভাগ চাষীই তাদের বসত ঘরে তামাক পাতা মজুদ করে রাখছে। এতে পুরো পরিবারের সদস্যরাই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে নিজ ঘরে বসবাস করছে। যে কারণে প্রতি বছর তামাক চাষ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তামাক চাষের বদলে অন্য ফসল করতে মাঠ কর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষকদের কল্যাণে হাঙ্গর খালের তীরবর্তী নওঘাটা এলাকায় কৃষি ক্লাব, কৃষি সমিতি সহ কৃষক কল্যাণমূলক বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠন মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন।

চরম্বার নাওঘাটা এলাকায়ও তামাক শুকানোর তন্দুর রয়েছে। হাঙ্গর খালের পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাটচোরেরা কাঠ চুরি করে যা তামাকের তন্দুরে ব্যবহৃত হয়। এতে স্থানীয় বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। বিট কর্মকর্তাকে খোঁজ করে না পাওয়া তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*