ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় নদী, খাল ও ছড়ায় প্রবাহ নেই : বোরো ও রবিশস্য চাষীরা দুশ্চিন্তায়

লোহাগাড়ায় নদী, খাল ও ছড়ায় প্রবাহ নেই : বোরো ও রবিশস্য চাষীরা দুশ্চিন্তায়

13-03-2015 copy

নুরুল ইসলাম : লোহাগাড়া উপজেলায় নদী, খাল ও চড়াগুলোতে পানির প্রবাহ নেই। ফলে নদী, খাল ও ছড়া হতে সেচ নির্ভর বোরো ও রবিশস্য চাষীরা পড়েছে বিপাকে। জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে ব্যর্থ হলে মাঠেই মারা যাবে তাদের ফসল। ফসল রক্ষার দুশ্চিন্তায় নিয়েই দিনাতিপাত করছে সংশ্লিষ্ট চাষীরা। সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হলে চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এসব চাষীদের সিংহ ভাগই ঋণ বা সুদে কর্জ নিয়ে চাষাবাদের ব্যয় নির্বাহ করেছে সংসারের ভারণ পোষণের আশায়। তবে গভীর নলকূপের পানিতে যেসব চাষী ফসলের চেষ দিচ্ছে তারা সবাই খোস মেজাজে রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, খাল ও ছড়াগুলোর মধ্যে টংকাবতী, ডলুখাল, হাতিয়া, সুখছড়ি, হাঙ্গর, জাংছড়ি ও থমথমিয়া খাল অন্যতম।

কৃষকরা জানায়, লোহাগাড়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, খাল ও ছড়াগুলোর উৎপত্তিস্থল হতে বের হয়ে আসা পানি আটকায় এলাকা ভিত্তিক চাষীরা। ফলে ভাটি অঞ্চলের চাষীরা বঞ্চিত হচ্ছে। ফসলের সেচ দিতে পারছেনা লোহাগাড়া এলাকার চাষীরা। লোহাগাড়া এলাকায় প্রায়সব নদী, খাল ও ছড়ার দু’কূলের জায়গা-জমিতে প্রচুর পরিমাণ বোরো ও রবিশষ্য চাষ করা হয়েছে চলতি শুষ্ক মৌসুমে। অন্যান্য বছরের তুলনা চলতি শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তীব্র বলে জানায় চাষীরা।

সূত্র মতে, শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে এলাকায় নদী, খাল ও ছড়াগুলোতে পানি প্রবাহ থাকে। সে প্রবাহের উপর নির্ভর করেই দু’কূলের চাষীরা প্রতি শুষ্ক মৌসুমে বোরো ও রবিশষ্য চাষাবাদ করে থাকে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই নদী, খাল ও ছড়াগুলোতে প্রবাহ ছিল। কিন্তু পর্যায়ক্রমে তা হ্রাস পেয়ে এখন আর নেই। এ অবস্থায় লোহাগাড়া এলাকায় নদী, খাল ও ছড়াগুলোর পানি নির্ভর ফসলে যথাযথ সেচ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে চাষীরা।

সচেতন মহলের মতে, লোহাগাড়া এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, খাল ও ছড়াগুলোর উৎপত্তিস্থল হতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি আসছে না। গত বর্ষা মৌসুমে তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে কম। পাহাড়ি অঞ্চলের পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি, বন বিভাগের স্থানীয় কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলেমিশে পাথরসহ বনজ সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে। ফলে পাহাড়ে পানির ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কলাউজানের কানুরাম নয়াহাটের উত্তর পাশে টংকাবতী নদীর বুকে বোরো চারা রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও ডলু খালের ভাটি অঞ্চল সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া উপজেলায় ব্রীজের নিকট ডলু খালের বুকেও একইভাবে বোরো চারা রোপন করা হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে মনে করেন সচেতন মহল। অন্যথায় আগামীতে সর্বসাধারণকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হবে।

অপরদিকে, লোহাগাড়া উপজেলায় পানীয় জলের অগভীর নলকূপগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এলাকার পুকুরগুলোতেও কমেছে পানির পরিমাণ। বিশেষ করে এলাকার ছোট ছোট পুকুরগুলোর পানি নষ্ট হয়ে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে ভূগর্ভের পানিরস্তর নিচে নেমে গেছে। এতে অগভীর নলকূপগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*