ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় খাল-নালা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

লোহাগাড়ায় খাল-নালা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

01

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়ার বিভিন্নস্থানে প্রভাবশালীরা খাল ও নালা-নর্দমার উপর জবরদখল করে চলেছেন। তাদের এ অপতৎপরতায় বহু নালা ও একটি খাল নিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জল নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাড়ি-ঘরে পানি উঠে। নাগরিক সুবিধা হুমকীর সম্মুখীন হয়। খবরদারী-নজরদারী যাদের করার কথা তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করেন। করছেন। অবৈধ দখলদার ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমি অফিসের কথিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এ অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানিয়েছেন, যথাযথ পরিমাপ করে নালা-নর্দমা ও বিলীন হওয়া খালের সীমানা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত ২০১৩ সালে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশনস্থ হাছির পাড়া সংযোগ ব্রীজ স্থানে লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিজনূর রহমান এ ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তারা ভূক্তভোগীদেরকে অনতিবিলম্বে খালের নাব্যতা বেগবান ও প্রতিবন্ধক উচ্ছেদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইউএনও’র নির্দেশে তহশিলদার খালের দু’পাশের খাস জমি ও সীমানা চিহ্নিত করণের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা থেমে রয়েছে। জানা যায়, লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশন একটি ব্যস্ততম এলাকা। বটতলী মোটর ষ্টেশনের এমদাদিয়া মার্কেটের পিছনে একটি খাল ছিল। এটি বোয়ালিয়া খালের সাথে সংযুক্ত হয়ে স্কুল রোড অতিক্রম করে পশ্চিম দিকে দর্জিপাড়া বিল সংলগ্ন স্থানে এয়াকুব মাষ্টারের ব্রীজের খালে পড়েছিল। কালের প্রবাহে খালটি জবরদখলকারীদের অপতৎপরতায় নিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রেকর্ডপত্রে এখনো খালটি জনস্বার্থে পানি প্রবাহের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বশ করে প্রভাবশালীরা খালের উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ খালের সংযোগস্থলে হাসপাতাল, হোটেল ও বহুতল মার্কেট বিদ্যমান। অবস্থা বুঝে বাকি অংশেও প্রভাবশালীরা হাত বাড়াচ্ছেন। ইয়াকুব মাষ্টারের ব্রীজ সংলগ্ন স্থানেও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বোয়ালিয়া খালটি কলাউজানের উপরের উৎসমুখ থেকে শুরু হয়ে টংকাবতী খালের সাথে মিশেছে। খালটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ লোহাগাড়া সওদাগর পাড়ার পিছন থেকে বটতলী অতিক্রম করে আমিরাবাদের সিংহভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত। বটতলী মোটর ষ্টেশনের হাছির পাড়া ব্রীজের উভয় পাশে খালটির দু’পাশ জবরদখল ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে নালা সমতুল্য অবস্থায় বিদ্যমান। প্রতিদিন এ খালে বর্জ্য ফেলে প্রভাবশালীরা আরো সংকুচিত করে চলেছেন। বটতলী মোটর ষ্টেশনের বিমান বিল্ডিং সংলগ্ন স্থানের নালা ভরাট করা হয়েছে। আলুরঘাট রোডের দু’পাশের নালা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। নালাটি ভরাট করে দু’পাশের ব্যবসায়ীরা মালামাল স্তুপ করে রাখেন। লোহাগাড়া থানার উত্তর পাশের জলনিষ্কাশনের নালাটিও অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। এ নালা দিয়ে শাহপীর বিলের পানি বাইয়ার খালে গিয়ে পড়ত। শাহপীর রোডের ভূমিদ্যুরা নালাটি গিলে খেয়েছে। আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের দক্ষিণ পাশে কলেজের প্রবেশ মুখে নামমাত্র দু’টি সিমেন্ট নির্মিত কালভার্ট বসিয়ে দিয়েছে। ফলে যথাসময়ে শাহপীর বিলের পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না। এ সমস্যাটি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ভূক্তভোগীরা বোয়ালিয়া খালের প্রতিবন্ধক অপসারণ ও লুপ্ত হয়ে যাওয়া নালা-নর্দমা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*