ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় ইটভাটা গিলে খাচ্ছে বনাঞ্চল ও ফসলী জমি

লোহাগাড়ায় ইটভাটা গিলে খাচ্ছে বনাঞ্চল ও ফসলী জমি

99

এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়ার বিভিন্নস্থানে অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা স্থাপন করায় হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফসলি জমিতে অনেক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ না মেনে ইটভাটা গড়ে তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপজেলার অর্ধশতাধিক ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৬টিতে কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। আর বাকীগুলোতে কয়লার পরিবর্তে বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ বাঁচানোর জন্য কৃষি জমিতে ইটভাটাসহ শিল্প কারখানা না করার নির্দেশ থাকলেও অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, কৃষি অফিসের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া ঝিকঝাক, ড্রাম চিমনি দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থের মারাত্মক হুমকির আশংকা করেছেন পরিবেশবাদীরা। এছাড়াও দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।

এদিকে কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের জন্য কৃষি অফিসের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হলেও উপজেলার বেশীর ভাগ ইটভাটার তা নেই। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন জনগণ জানান, কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ হওয়ায় ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তারা আরো বলেন, ইটভাটার বিরূপ প্রভাবে অনেক গাছপালা মরে যাচ্ছে ও ফসলও কমে যাচ্ছে। উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, অভয়ারণ্য ও ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইটভাটাগুলোতে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ। সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব ইটভাটা স্থাপনে দেখা দিয়েছে পরিবেশ দূষণ ও জনদূর্ভোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আইন অনুযায়ী জনবসতি এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে করার নিয়ম নেই। এছাড়া সংরক্ষিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায়, উপজেলা সদর, সরকারী বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বনভূমি, অভয়ারণ্য, জলাভূমি ও কৃষিপ্রধান এলাকাসহ পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ নিয়ম অমান্য করলে পাঁচ বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন বিল পাস হয়েছে। তারপরও লোহাগাড়ায় এ আইন অমান্য করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, অভয়ারণ্য, ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা তৈরি করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইট মালিকেরা জানান, তারা ইটভাটার অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন। সরকারের নীতিমালা লংঘন করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবহান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*