ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে স’মিলে চোরাই কাঠের রমরমা ব্যবসা

লোহাগাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে স’মিলে চোরাই কাঠের রমরমা ব্যবসা

37

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়ার সন্নিহিত বনাঞ্চলে বিধান অমান্য করে স’মিল বসিয়ে প্রতিদিন চোরাই কারবারীরা লাখ লাখ টাকার অবৈধ কাঠের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবরদারী-নজরদারী সংস্থার লোকজন রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

পরিবেশবাদীরা অনতিবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিধান রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট সীমানায় কোন স’মিল বসানো যাবে না। বসানো হয়েছে।

সরজমিন পরিদর্শনে এ প্রতিবেদক লোহাগাড়ার পদুয়া, চরম্বা, পুটিবিলা, চুনতি, বড়হাতিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ২৭টি স’মিলের অবস্থান প্রত্যক্ষ করেছেন। এসব স’মিলে প্রকাশ্যে নির্বিচারে বনের কাঠ চিরানো হয়। সাইজ করা কাঠ অভিনব উপায়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্নস্থানে পাচার করা হয় বলে প্রকাশ। ডলু বনবিটের আশেপাশে বালি উত্তোলন করা হয়। বালু মহালের আশেপাশে স’মিল হতে সাইজ কাঠগুলো বালি ভাজ দিয়ে পাচার করা হয়।

হাঙ্গর বিটে কাঠগুলো পদুয়া মাঝের দোকানসহ জঙ্গল পদুয়ার স’মিলে চিরানো হয়। চিরাই ও গোলকাঠ সমূহ জঙ্গল পদুয়া ও পদুয়া, হাঙ্গর সড়ক দিয়ে পাচার করা হয়। বনবিট কর্মকর্তা নাকের ডগায় তারা দেখেও না দেখার ভান করে। হাঙ্গর বনাঞ্চলের সরকারী বাগান নিধন অব্যাহত রয়েছে। বিট কর্মকর্তাকে বশ করেই বড়হাতিয়ার কুমিরাঘোনা, রশিদেরঘোনা, জঙ্গল বড়হাতিয়া, চুনতির হাটখোলা মুড়া, কুলপাগলী সংলগ্ন এলাকা, ডেপুটি বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে, মুন্সেফ বাজার, সাতগড় প্রভৃতি এলাকায় এসব করাতকলের অবস্থান। যেখানে পানির দামে ডলু বনবিটের সামাজিক বনায়নের কাঠ চিরানো হয়। এ বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এন্তার। পাহাড় কাটায়ও তিনি সহযোগিতা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পানত্রিশা এলাকা পরিদর্শন করলে পাহাড় কাটার নিদর্শন মিলবে। অপ্রসাঙ্গিক হলে এ অভিযোগ এতই মারাত্মক যে, যা বর্ণনা করা কঠিন বলে এলাকাবাসীরা বলছেন। পাহাড় কাটার আগে পাহাড়ে রক্ষিত বাগানের লক্ষ লক্ষ টাকার কাঠ লুপাট হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ডলু বন বিট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আমলে এক চিলকা কাঠও লুপাট হয়নি। পাহাড় কাটার অভিযোগ অমূলক। টংকাবতী বিট অতিক্রম করে প্রতিদিন সন্নিহিত পার্বত্য বান্দরবান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে লক্ষ লক্ষ টাকার চোরাই কাঠ নাফারটিলা ও আশপাশ এলাকার স’মিলে সাইজ করা হয়। রাতে থেরপাল ঢেকে কাঠগুলো চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাচার হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ। পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু অবৈধ স’মিলের কারণে সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ লোপাট হচ্ছে। পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৬২টি করাতকল রয়েছে। যার একটিরও লাইসেন্স নেই। মাঝে মধ্যে করাতকলে অভিযান চালানো হয়। জরিমানা করা হয়। এতে প্রশাসনের অন্যকিছু করার নেই।

পদুয়া বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শোয়াইব খান জানিয়েছেন, অবৈধ স’মিলের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদেরকে নোটিশ জারী করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*