
এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় দাফনের ২১ দিন পর আদালতের নির্দেশে তাসনিমুল হাসান সাজিদ (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সাতগড়িয়া পাড়াস্থ সোয়ারী বর জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। সাজিদ একই ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের জমিদার পাড়ার মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন আজাদের পুত্র ও আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন লায়েল, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আব্বাস উদ্দিন।
এদিকে, ১ জুলাই চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শিশুর পিতা মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন আজাদ (৩৫) বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এতে কক্সবাজারের পেকুয়া থানার মেহেনামাপুর বাগগুজারা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র শরিয়ত উল্লাহ জামে মসজিদ মোয়াজ্জিন নাছির উদ্দিন (৩৭) ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সাতগড়িয়া পাড়ার মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র শিশুর নানা আবুল হোসেনকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি লোহাগাড়া থানাকে এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাঈনুদ্দিন আজাদ ও তাসলিমা আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদের পর তাদের দুই সন্তান নানা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে আসছে। শিশুদের নানা বাড়ি এলাকায় শরিয়ত উল্লাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি রুমে বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়ান মোয়াজ্জিন নাছির উদ্দিন। গত ২৪ জুন বিকেলে ৩টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় প্রাইভেট পড়তে যান শিশু সাজিদ। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডিভোসী স্ত্রীর মুঠোফোনে তার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে খালি জায়গায় পরিত্যক্ত জমির উপর পড়ে থাকার বিষয়টি মাঈনুদ্দিন আজাদকে জানান। স্থানীয়রা শিশু সাজিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে শিক্ষক নাছির উদ্দিন ঘটনাস্থল পালিয়ে যাবার চেষ্টাকালে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে নানা আবুল হোসেনের সহযোগিতায় শিক্ষক নাছির উদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে ঘটনাস্থলে এসে শিশুর পিতা জানতে পারেন তার ছেলেকে শিক্ষক নাছির উদ্দিন জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করার পর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে নাক ও মুখে বালিশ চাপা দেয়। শিশু সাজিদের গায়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কোন চিহ্ন ছিল না। এছাড়া ঘটনাস্থলে থেকে বৈদ্যুতিক তারের দূরত্বও অনেক দূরে। আসামিরা দূর্ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে প্রচার পূর্বক তাড়াহুড়া করে লাশ দাফন সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে, গত ৮ জুলাই বাদীর আবেদনের পর আদালত লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই অনুসারে সোমবার সকালে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner