ব্রেকিং নিউজ

লজ্জা

431

ফিরোজা সামাদ : লজ্জা মানুষের ভূষণ। এই লজ্জাকে অাকড়ে ধরার জন্য বাহ্যিক পরিচ্ছদের প্রয়োজন হয়।। অাদিম যুগের মানুষ পোষাকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। যুগে যুগে যখন মানুষ বুঝতে শিখেছে অনুভব করেছে তাদের লজ্জা ঢাকা প্রয়োজন, তখন সর্ব প্রথমে লজ্জাকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং গাছের পাতা দিয়ে সেই লজ্জা নিবারণ করেছে।এটা পুরুষের কাছ থেকে অাত্মরক্ষার জন্য নয়।

তাছাড়া লক্ষ্য করলে দেখা যায় অামাদের নারীদের লজ্জার মাপকাঠি নেই। পুরুষ সমান্তরাল লজ্জা বহন করে । যেমনঃ গাঁয়ের একজন সাধারন ঘরের নারী, হোক সে অল্প বয়স্কা বা মধ্যবয়স্কা। অাধুনিকতার ছোঁয়ায় বোরখা বা ওড়না ফেলে অাধুনিকা হতে মাত্র দুদিন সময় নেবে । অার গাঁয়ের কোনো পুরুষ লুঙ্গি কাঁচুলি দিয়ে পুকুরে জাল ফেলা, হা ডু ডু খেলায় যেমন দ্বিধাহীন তেমনি শহরে এসে অনায়াসে জাঙ্গিয়া পড়ে সুইমিং করতে পারে। এটাকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়। তারপরেও গাঁয়ের অভিজাত পরিবার এবং সুশিক্ষিত নারী পুরুষরা সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলতে চেষ্টা করে।

অামার মনে হয় পর্দা বা শালিণতা নিজের জন্য, লজ্জা নিবারণের জন্য। সে হোক পুরুষ কিংবা নারী। অামরা শিক্ষিত ভদ্র কোন পুরুষকে খালি গায়ে দেখলে লজ্জা পাই,সাথে সেই পুরুষটিও লজ্জা পায়। অনেক সময় দেখেছি তারা ঘরেও একটা গেঞ্জি পড়ে থাকেন। তদ্রুপ কোনে নারী ঘরে পুরুষ না থাকলে উদোম গায়েথাকেনা। তাহলে সংগত কারনেই বুঝতে হবে নারীর পর্দা পুরুষের জন্য নয় নিজেকে অাবৃত রাখার জন্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচ্ছদ নারী সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার জন্য অাবৃত করেন। যেটাকে অামরা পর্দা বা পর্দাহীন্ মনে করে থাকি। এটা মূলতঃ অামাদের দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে।

উল্লেখ্য যে, অামাদের নবী (সাঃ) এর শেষ দিকে পর্দা প্রথা চালু হয়েছে বলে জানা যায়। বিবি অায়শা (রাঃ) নবীজির সফরসঙ্গী হলে তার উট পিছনে পরে যায়। একজন সাহাবা সেই উটটির রশি হাতে ধরে অাবার সঠিকপথে নিয়ে অাসেন। অন্য সাহাবারা বিষয়টি একটু অন্যভাবে দেখলে নবী (সাঃ) মনে কষ্ট পান এবং জিবরাইল (অাঃ) অাল্লাহর তরফ থেকে অহী নিয়ে অাসলে নবীজির মনোকষ্ট দূর হয়ে যায়। অার সেই থেকে পর্দা প্রথা চালু হয় বলে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ রয়েছে (বিষয়টি নিখুঁত ভাবে উল্লেখ করতে অপারগ)। পর্দা বা শালীনতা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য।

অতএব, অামার বিশ্বাস দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে জীবন পাল্টে যাবে । ভুল কিছু বললে স্পষ্ট মন্তব্য করুন। শুধরে নিতে চেষ্টা করবো…… ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*