ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রেলওয়ের ডিজি’র সিদ্ধান্তে তিন মাসে ৩০ লাখ টাকা লোকসান

রেলওয়ের ডিজি’র সিদ্ধান্তে তিন মাসে ৩০ লাখ টাকা লোকসান

afaff

রেলওয়ের ডিজি’র তুঘলকি সিদ্ধান্তে তিন মাসে ৩০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে রেলওয়ে খাতে। প্রতিমাসে এগার লাখ টাকার আয়কে তিনি নিয়ে এসেছেন দুই লাখ টাকায়!

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকা মেইল ট্রেনের ডব্লিউজেসি কোচ (এসি স্লিপার) বগিটি ঢাকা-রংপুর রুটে চলাচলের সিদ্ধান্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিচ্ছে রেলওয়ে। অথচ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও টিকেট পাচ্ছে না চট্টগ্রামের যাত্রীরা।

গত জুন মাস থেকে এটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে রংপুর রুটে চলাচল করছে। এতে করে প্রতিমাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে প্রায় নয় থেকে দশ লাখ টাকা। গত তিনমাসে লোকসানের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ টাকায়।

রেলওয়ে মহাপরিচালকের নির্দেশে রেল ভবনের সেলস ম্যানেজার মো. আনিসুর রহমান খন্দকার এ নির্দেশনা জারি করেন। তবে বিষয়টি যথারীতি অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন।

এ দিকে চাহিদা ও আয় বেশি থাকার পরেও লোকসান দিয়ে কার স্বার্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের এ বগির রংপুর রুটে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছেন তা নিয়ে দেখা দিয়ে হাজারো প্রশ্ন। ডিজির এমন সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ রেল কর্মকর্তারা।

রেলের বিপণন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এসি স্লিপার বগি চলাচল করলে দৈনিক ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা রেলের আয় হয়। প্রতি মাসে আয় হয় ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে ঢাকা-রংপুর রুটে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকাও আয় হচ্ছে না।

রেলওয়ের বিপণন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঢাকা মেইলের জন্য নির্দিষ্ট এ বগি রংপুর রুটে চলাচলের কারণে প্রতিমাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ঢাকা-রংপুর রুটে চলাচলকারী রংপুর এক্সপ্রেস’র ডব্লিউজেসি বগিটি দুর্ঘটনায় পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই রুটে এসি স্লিপার কোচ দিতে পারেনি রেলওয়ে। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ঢাকা মেইল ট্রেনের নমিনেটেড কোচটি রংপুর এক্সপ্রেসে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, কোন গাড়ি কোথায় লাগবে সেটাও নাকি রেলেও ডিজির জানার কথা নয়। এটা কোচ কম্পোজিশনের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া বিভিন্ন ট্রেনে বগি সংকট রয়েছে, তাও দেখতে হয়।

চট্টগ্রাম রুটে চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও রংপুরে দেওয়া হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদা সবদিকেই আছে। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

গত দুই মাসের বিক্রিত টিকেট নথি পর্যালোচনায় দেখা দেছে, ১ জুন ঢাকা থেকে রংপুর যাত্রায় ৯টি টিকেট বিক্রি হয়েছে। রংপুর থেকে ঢাকার যাত্রী দুইজন। ২ জুন ঢাকা থেকে চারটি ও রংপুর থেকে ৬টি টিকেট বিক্রি হয়। ২০ জুন ঢাকা থেকে রংপুরের কোন যাত্রী টিকেট ক্রয় করেনি। তবে রংপুর থেকে ৭ জন যাত্রী টিকেট কিনেছেন। একইভাবে ২৭ জুন কোন টিকেট বিক্রি হয়নি। ২৪ জুন রংপুর থেকে একটি টিকেট বিক্রি হয়।

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা মেইল ট্রেনের এসি স্লিপার ট্রেনের বেশ কাটতি রয়েছে। প্রতিদিন ১৮টি করে মোট ৩৬টি টিকেট দেওয়ার পরও চাহিদা থাকে। অথচ রংপুরে টিকেট বিক্রি হয় ১ থেকে ১০টি। অন্যদিকে ঢাকা মেইলে পুরোপুরি এসি কোন কোচ নেই। শুধুমাত্র একটি সিদ্ধান্তের কারণেই প্রতিমাসে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে রেলকে। তাদের মতে, এসি স্লিপার কোচটি ফের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের সিদ্ধান্ত নিলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*