ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রানা প্লাজার মত আরেকটি ট্রাজেডির জন্ম দিতে পারে চট্টগ্রামের সিজল বিল্ডিং

রানা প্লাজার মত আরেকটি ট্রাজেডির জন্ম দিতে পারে চট্টগ্রামের সিজল বিল্ডিং

SIJOL-BUILDING20150818124457

সাভারের রানা প্লাজার মত আরেকটি ট্রাজেডির জন্ম দিতে পারে চট্টগ্রামের সিজল বিল্ডিং। যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে চারতলা ভবনটি। নগরীর চকবাজার থানাধীন ফুলতলা মোড়ে অবস্থিত সিজল ভবনটি।

দু’বছর ধরে ভবনটি আরেকটি ভবনের উপর হেলে পড়ে থাকলেও এটি ভাঙ্গার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সিটি করপোরেশন। কেবল সিজল বিল্ডিং নয় এ ধরনের আরো ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে যেগুলোর বিষয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাকলিয়া মৌজার আরএস দাগ নং-৪৬/২২১৫ অংশে অবস্থিত মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর মালিকানাধীন ‘বিসমিল্লাহ মঞ্জিল’ যা ‘সিজল ভবন’ নামে পরিচিত; পূর্বদিকে হেলে পড়েছে। এটি পার্শ্ববর্তী হাজি গোলাম মোহাম্মদের ছয়তলা ভবনের সঙ্গে সম্পূর্ণ লেগে গেছে। ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

ঝুঁকির মুখে থাকা লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী বরাবর নোটিশ দেন সিডিএর অথারাইজড অফিসার-১ ও সদস্য সচিব ইমারত নির্মাণ কমিটি-১। কিন্তু ওই ভবনের ব্যাপারে সিটি করপোরেশন দুই বছরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

অভিযোগকারী গোলাম মোহাম্মদের ছেলে গোলাম কিবরিয়া হৃদয় বলেন, সিজল ভবনটি আমাদের ভবনের উপর গত দু’বছর ধরে হেলে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে ২০১৩ সালে সিটি করপোরেশনকে অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি।

ভবন মালিকের সঙ্গে করপোরেশনের কর্মকর্তারা আঁতাত করে ভবনটি ভাঙ্গছেনা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ভবন মালিক মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, সিটি করপোরেশনের ভাঙ্গার দায়িত্ব তারা তো ভাঙ্গছে না! এখনও ভবন ভাঙ্গার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তিনি ভবনটি হেলে যাওয়ার কথা এড়িয়ে গিয়ে কিছুটা দেবে গেছে স্বীকার করে বলেন, পার্শ্ববর্তী ভবন মালিকদের সঙ্গে আমার সমঝোতা চলছে।

পার্শ্ববর্তী নূরজাহান ভবনের মালিক হাজি গোলাম বলেন, হেলে পড়া সিজল ভবনের কারণে প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে থাকি কখন ভেঙ্গে পড়ে কি ঘটে। এ ব্যাপারে সিডিএ-তে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। একই অভিযোগ পার্শ্ববর্তী আরো কয়েকটি ভবনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ ও সায়মুল হকের।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা আহমদুল হক বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় ক্রমান্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙ্গে ফেলা হবে। এ ভবনসহ আরো ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেয়া হয়েছে। ক্রমান্বয়ে তিনি এগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*