ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রসুনের বাজারে আগুন!

রসুনের বাজারে আগুন!

Gerlic

নিউজ ডেস্ক : রসুনের বাজারে আগুন! নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম হঠাৎ করেই বাড়ছে। নানা অজুহাতে দাম এখন আকাশছোঁয়া। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে রসুনের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। রোববার রাতে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে আকাশছোঁয়া দামে রসুন বিক্রি করতে দেখা গেছে। সরকার পণ্যটির দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন খোদ ব্যবসায়ীরাই।

রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, কাপ্তান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায় এবং দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায়। অথচ গত শুক্রবার এসব বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় এবং দেশি রসুন ৯০ টাকা থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হয়েছে। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দেশের খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুনের দাম ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং প্রতি কেজি দেশি রসুন ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, রোববার প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজারে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে আমদানি করা রসুন নেই বলেও জানান তারা। তবে প্রতিটি আড়তে দেশি রসুনের পর্যাপ্ত মজুদ দেখা গেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা আরো জানান, মাঝে দু’একদিন আমদানি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে রসুনের দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে সামান্য বাড়লেও খুচরা বাজারে ভোক্তাদের নিকট চড়া দামে রসুন বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তাই খুচরা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। তাছাড়াও খুচরা বাজারে রসুনের দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে, খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে রসুনের দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের তফাৎ এত বেশি কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা পাইকারি বাজার থেকে রসুন ক্রয় করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক খরচ হয়। তা যোগ করে হিসেব করলে একটু বাড়তি দামেই পণ্য বিক্রি করতে হয়।

পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরারের প্রার্থক্য

আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন পাইকারি বাজারে রোববার বিক্রি হয়েছে ২০৫ টাকা থেকে ২১০ টাকায় অথচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা। অর্থাৎপাইকারি বাজারের ক্রয় মূল্যের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম বেশি নেয়া (মুনাফা করছে) হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা।

এদিকে, এটাকে অতিরিক্ত মুনাফা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ বিষয়ে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তারা।

কাপ্তান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ফরিদপুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাজী জামাল উদ্দিন জানান, হঠাৎ করে পাইকারি বাজারে রসুনের দাম বেড়ে যায়। শনিবার বাজারে রসুনের জন্য গেলে চড়া দাম চায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাই চড়া দামেই রসুন এনে খুচরা বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য অনেক বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমরা বেশি দামে রসুন ক্রয় করার পরও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচাদি আছে। তাই বেশি দামে খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মেসার্স সুরমা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী স্বপন রায় বলেন, আসলে রসুনের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে সম্পর্ক হচ্ছে আমদানিকারকদের। আমরা পণ্য বিক্রি করলে আমদানিকারকরা আমাদের একটি কমিশন দেয়। তবে দুই-একদিন ধরে বাজারে রসুনের ক্রাইসিস (সঙ্কট) রয়েছে। আর এ কারণেই বাজারে রসুনের দাম বেড়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) হিসেব মতে, রোববার আমদানি করা রসুন ২৫০ টাকা থেকে ২৭০ টাকায় এবং দেশি রসুন ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ শুক্রবার আমদানি করা রসুন ১৭০ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় এবং দেশি রসুন ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সংস্থাটির হিসেব মতে, দু’দিনের ব্যবধানে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুনের দাম ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং দেশি রসুনের দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ এবং আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ।

সংস্থার হিসেবে গত এক মাস আগে দেশি রসুন ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় এবং আমদানি করা রসুন ১৭৫ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে কি কারণে দাম বেড়েছে সে সম্পর্কে টিসিবি কিছু জানায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানের আগেই রসুনসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। যা নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনো মাঠে নামছে না, তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এবারের রমজানে জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যদি এভাবে দাম বাড়তে থাকে তাহলে ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিগগিরই সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*