ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটোফিচার | যন্ত্রের ধানকাটা : গ্রামীণ জনপদে ইতিবাচক বিস্ময়

যন্ত্রের ধানকাটা : গ্রামীণ জনপদে ইতিবাচক বিস্ময়

38

মোঃ জামাল উদ্দিন : এক সময়ে কৃষকের ঘরে ঢেকিতে চাল ছাটাই করা হতো। মেশিনে ধান থেকে চাল বের করার দৃশ্য সেদিন অবাক বিস্ময়ে কৃষক প্রত্যক্ষ করেন। আজ ঢেঁকি খুঁজে পাওয়া যায় না। তেমনিভাবে মাঠে মাঠে ফলানো ধান কাটতেন কৃষক-কৃষানীরা হস্তচালিত কাঁচি দিয়ে। কালের প্রবাহে তাও হারিয়ে যাচ্ছে। একদিন হয়তো কাস্তে বিদায় নেবে। যেমনিভাবে গতায়ু হয়েছে দেশীয় লাঙ্গল। চাষাবাদে ট্রাক্টর সে স্থান দখল করেছে। এখন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই সময়ে ধান কাটা, মাড়াই করে বস্তা ভর্তি করা যায়। লোহাগাড়ার কলাউজানে একজন কৃষানী কাস্তে দিয়ে ধান কাটছিলেন। তখন চট্টগ্রাম জেলা কৃষি দপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী নির্দেশে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসের কর্মসূচী চলছিল। লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম কলাউজান লক্ষণের খিলে তা তত্ত্বাবধান করছিলেন। সেখানে রিপার (ধান কাটার যন্ত্র) নিয়ে কৃষি কর্মকর্তা কৃষানীকে সহযোগিতা দিলেন। লোকজনের মাঝে যন্ত্রটি পরিচিত করাই ছিল দিবসের অন্যতম কর্মসূচী। এলাকার কৃষকরা অপার বিষ্ময়ে রিপার দিয়ে ধান কাটা প্রত্যক্ষ করলেন। সেদিন ছিল খামার যান্ত্রিকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ধানকাটার যন্ত্র (রিপার) প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস। জানা যায়, এ দিয়ে ধান কাটা হয় ঘন্টায় ১ একরের অধিক। এ যন্ত্র ব্যবহারে অল্প সময়ে কৃষক কম পরিশ্রমে অল্প সময়ে কৃষক কম পরিশ্রমে অধিক ধান কর্তন করতে পারে। ঘন্টায় আধা লিটার জ্বালানী ব্যবহার করে কৃষক ধান কাটতে পারে। কৃষক সাধারণ শ্রমিক দিয়ে কর্তন করতে যে খরচ হয় তার এক তৃতীয়াংশ ব্যয়ে কর্তন করা সম্ভব। যন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষক যন্ত্রের মালিক ও চালক সবাই লাভবান হবে। কায়িক শ্রম কমে যাওয়ায় কৃষকের কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন অটুট থাকবে। সময় কম লাগাতে পরবর্তী ফসল সহজে লাগানো যাবে। ফলে শষ্যের নীবিড়তা বৃদ্ধি পাবে। কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে যাতে মেশিনটি সহজলভ্য ও ক্রয় করতে সমর্থ হতে ৩০% উন্নয়ন প্রদান করছে। এছাড়া যে সমস্ত মেশিন ভর্তুকী মূল্যে পাওয়া যাবে সেগুলি হলো পাওয়ার টিলার, পাওয়ার প্রেসার (মাড়াই যন্ত্র), ধানের চারা রোপন যন্ত্র ও রিপার, কম্পাইন্ড হার্ভেষ্টার ইত্যাদি। বর্তমানে রিপারের মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ। তবে সরকার ভর্তুকী উন্নয়ন সহায়তা দেয়ায় কৃষক সাশ্রয়ী মূল্যেই এ যন্ত্রে লাভ করতে পারবে। কৃষ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে কৃষক আবেদন করতে পারবে। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সিনিয়র কৃষি প্রকৌশলী আবদুল আহাদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, লোহাগাড়ার কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের কৃষকের সন্তানগণ অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত। প্রযুক্তির সাহায্যে তারা খাদ্য ফলানোর জন্য সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করতে দেখা যায়। অনেক কৃষক সন্তান মাটির টান অগ্রাহ্য করেন না। বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের মূল্য ও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। যন্ত্রটি শ্রমিকের অভাব পূরণ করে সমন্বিত খামার ব্যবহার অন্যতম সহায়ক বলে স্থানীয় কৃষকরা অভিমত রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*