ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মোদির সফরে আওয়ামীলীগে উৎসাহ-উদ্দীপনা

মোদির সফরে আওয়ামীলীগে উৎসাহ-উদ্দীপনা

Modi_Alge_Jagonews20150603182623

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যকার উৎসাহ-উদ্দীপনা এখন তুঙ্গে। নরেন্দ্র মোদির সফর আওয়ামী লীগের জন্য হালের সবচেয়ে সফল কূটনৈতিক অর্জন বলেও দলের নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই সময়ে নরেন্দ্র মোদির সফর অতিগুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।  দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো অর্থবহ করতে নরেন্দ্র মোদি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে আসছেন। ভারতকে উপলক্ষ করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’ ছড়ানো হয়েছে অনেক আগে থেকেই। ভারত বিরোধীতার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করে অনেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছিল। এবার তাতে ভাটা পড়বে।’

প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির সফরের তালিকায় চতুর্থ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন তিনি। ক্ষমতার এক বছর পেরুতেই মোদি ১৮টি দেশ সফর করেছেন। সফরের তালিকায় যেমন প্রভাবশালী দেশ রয়েছে, তেমনি উন্নয়নশীল দেশও রয়েছে। সফরে গিয়ে প্রতিটি দেশের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বিশেষ প্যাকেজ বিনিময় করেছেন। মোদির অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও কূটনৈতিক নীতির প্রশংসা করছেন অনেকেই। বিশেষত প্রতিবেশি দেশগুলোর প্রতি মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের উদারনীতিই প্রতিফলিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে আওয়ামী লীগ বেশ উচ্ছ্বসিত।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সময় পাল্টেছে। প্রতিবেশির সঙ্গে বিরুদ্ধাচারণ করে দেশের স্বার্থ আদায় করা যায় না। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, তা ১৯৭১ সালে যেমন প্রমাণ হয়েছে, তেমনি সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণ হলো। কূটনৈতিক এই সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকাই অগ্রগণ্য। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই এমন বিজয় সম্ভব হচ্ছে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধীজোটহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভারতের বিশেষ সমর্থন পায় বলে চাউর রয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশ সফরে এসে যখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন  মুহম্মদ এরশাদকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরামর্শ দেন, তখনই ভারতের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায়। ওই নির্বাচনে ভারতের অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই বিএনপির যে গোসসা ছিল, তা নেতাদের বক্তব্যেও ওঠে আসে।

বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেছিলেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনে কংগ্রেস বিদায় নিলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান পাল্টাতে পারে। কিন্তু মোদি সরকার ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশ প্রশ্নে দৃশ্যত কূটনীতির কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় আরো শক্তি পাবে বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন।

নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজ-এর। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নানা কারণেই নরেন্দ্র মোদির সফর আমাদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক কারণ তো আছেই। তবে এর চেয়ে অধিক সত্য হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ সৌহার্দ্যপূর্ণ। এই সম্পর্কে আগে দেশ, দেশের মানুষ। পরে দল।

তিনি আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করলে ভারতের অবদানকে স্বীকার করতেই হবে। ছিটমহল নিয়ে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিটিও ছিল ঐতিহাসিক এবং দু’দেশের স্বার্থেই। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত শুরু থেকেই ওই চুক্তিটিকে গোলামী চুক্তি বলে মিথ্যা প্রপাগান্ডা রটিয়েছিল। অথচ বিলটি পাস হওয়ার পর খালেদা জিয়া নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানালেন। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়, বিএনপি নিজেরাই নিজেদের মুখে ছাই দিল।

ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগেই সীমান্ত বিলটি পাশ করে ভারত সরকার বাংলাদেশের মানুষকে বিশেষ উপহার দিয়েছে। আমরা এর জন্য মোদি সরকারকে সাধুবাদ জানাই। নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট চুক্তিরও দ্বার উম্মোচিত হবে বলে মনে করছি। তিস্তাসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় ওঠে আসবে। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে দু’দেশের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে, যার কৃতিত্বের দাবিদার আওয়ামী লীগই।`

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*