ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | মুসলমানদের সোনালী অতীত, প্রসঙ্গ : স্পেন বিজয়

মুসলমানদের সোনালী অতীত, প্রসঙ্গ : স্পেন বিজয়

111

মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সাঈদী : ইসলাম। বিশ্ব ভ্রম্মান্ডে একমাত্র শান্তির ধর্ম। এই সুন্দর সু-শৃংখল ধর্মে যারা দিক্ষিত বা এই ধর্মের যারা অনুসারী তারাই মুসলিম তথা মুসলমান হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীতে ইসলামের আগমনের সময়কাল থেকে শুরু করে তার পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের রয়েছে ইতিহাস আলোকিত করা সোনালী অতীত।

এই বিশ্বে ভ্রম্মান্ডে যে সময় নবীয়ে আকরাম (স:) এর মাধ্যমে চুড়ান্ত ইসলামের আবির্ভাব ঘটে তখন গোটা পৃতিবীটাই ছিলো জাহেলিয়াতে ভরপুর। আল্লাহর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ(স:) ঠিক তখন ইসলামের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তির পয়গাম নিয়ে আগমন করেছিলেন।

সেই থেকে মুসলমান বীরেরা পৃথিবীর বিভিন্ন মুলকে মুর্তিপুজক,ত্রিত্বশ্বর বিশ্বাসী অত্যাচারী শাসকের কবল থেকে নিপিড়িত মানবতাকে উদ্ধার করে সেখানে ইনসাফ ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্টার মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় বিরল দৃস্টান্ত স্তাপন করেন।

সাধারণত,ইসলামের চার খলিফার শাসনামল এবং তাদের সত্য,সুন্দর, ন্যায়, ইনসাফ ও সাম্যের বাণী প্রাচারের লক্ষে কালজয়ী যে অভিযান সমুহ ছিলো তা সম্পর্কে বিভিন্ন মারফতে আমরা কম-বেশি অনেকেই জানি।

কিন্তু,সেই দিগ্বিজয়ী জাতী মুসললমানদের অনেক সোনালী ইতিহাস আমাদের অনেকের অজানায় থেকে গেছে। যেমন মুসলমানদের স্পেন বিজয়,তুর্কি অটোম্যান সম্রাজ্যের সোনালী ইতিহাস ইত্যাদি।

এসব সোনালী ইতিহাসের কিছু টুকরো আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যেই আমার সংক্ষিপ্ত অগোছালো এই নিবন্ধ। এই নিবন্ধে মুসলমানদের স্পেন বিজয় অভিযানের কিছু অংশবিশেষ আপনাদের জ্ঞাতার্তে তুলে ধরার চেস্টা করেছি।

#স্পেন সম্পর্কিত টুকুটাকিঃ স্পেনের আধুনিক রাস্ট্রে পরিনত হবার পথ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকাংশ আলাদা।ইউরোপের দক্ষিন-পশ্চিম কোণায় অবস্তিত রাস্ট্রটি ভৌগলিকভাবে স্তুপ পর্বত এবং সাগরের মাধ্যমে ইউরোপের অন্যান্য অংশ হতে কিছুটা বিচ্ছিন্ন।
তবে,ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় স্পেন ছিলো বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার মিলনস্তল।
স্পেনের দক্ষিন প্রান্তে অবস্তিত জিব্রাল্টা যা মুসলিম বীর সেনাপতি তারিক ইবনে যিয়াদের নামে জাবালে তারিক হিসেবে পরিচিত যেখানে মুসলমান সৈন্যরা জাহাজ নোঙ্গর করেছিলো সেই জায়গা হতে প্রণালীর মাধ্যমে সহজেই স্পেন-আফ্রিকা যাতায়াত সম্ভব।

#মুসলমানদের স্পেন অভিযানের মুল কারন,অসহায় পিতার আর্তনাদঃ অনেকে এই অভিযান-বিজয়কে অ্যাখ্যা দেন ‘সাম্রাজ্যবাদী’ এবং ‘আক্রমণাত্মক’ মুসলিমদের সন্ত্রাস, আতঙ্ক এবং জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে খ্রিস্টানদের পরাধীনতার কাহিনী হিসেবে।

বাস্তবে, প্রকৃত সত্য এর থেকে অনেক দূরে। এই লড়াই এর প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা খুবই জটিল ছিল। তাই সহজেই “ইসলাম বনাম খ্রিস্টানধর্ম” কিংবা “পূর্ব বনাম পশ্চিম” এর পরিভাষায় আবদ্ধ করে রাখা যাবেনা। মুসলিমদের স্পেন আক্রমণ ছিল এক ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার গল্প।আসুন জেনে নেই কি কারন ছিলো মুসলমানদের স্পেন আক্রমনের পেছনে।

তখন সময়কাল ছিলো৭১১িখ্রস্টাব্দ।আফ্রিকা ও মিশরের আমীর ছিলেন হযারাত মুসা ইবনে নুসাইর (রহ)।এই মুসলীম আমীরের দরবারে ন্যায় বিচার পাবার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ফরিয়াদ নিয়ে এসেছিলেন খৃস্টান গভর্নর কাউন্ট জুলিয়ন।তিনি ছিলেন মরক্কোর উপকূলীয় ‘সাবতা’ এলাকার গভর্নর।
তিনি আমীরের কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন যে,স্পেনের অত্যাচারী রাজা রডারীক তার কন্যার ইজ্জত নিয়েছে।আর সে এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে চায় যা মুসলমানদের সহযোগীতা ছাড়া আদৌ সম্ভব ছিলোনা।

ঐতিহাসিক লেইন পোল, প্রফেসর দুজী ও স্যার মেকুয়েল, মুসা ইবনে নুসাইর ও জুলিয়নের যে আলাপ হয়েছিল তা তারা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। আলোচনার মূল অংশ হলো, মুসা ইবনে নুসাইর প্রথমে জুলিয়নের কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, অবশ্য এর পিছনে যথেস্ট কারণও ছিল।তা হলো জুলিয়ন আর রডারিক উভয়ই ছিল খৃষ্টান, আর মুসলমান সৈন্যদের সাথে জুলিয়নের সেনাবাহিনীর কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। তাই মুসা বীন নুসাইর এটিকে ষড়যন্ত্র মনে করেছিলেন।
জুলিয়ন স্পেনের সৌন্দর্য আর স্পেনের নারীদের সৌন্দর্যের প্রলোভন দেখিয়ে মুসা বিন নুসাইরকে প্রভাবিন্বিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু মুসা কিছুতেই রাজী হচ্ছিল না। তখন জুলিয়ন তার রাজিকীয় তলোয়ার মুসার পায়ের নিচে অর্পণ করল এবং বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু তাতেও যখন মুসা স্পেন আক্রমনে রাজি হলেন না, তখন জুলিয়ন তার মেয়ের বেইজ্জতীর কথা প্রকাশ করল। এবার মুসা বিন নুসাইর রাজী হলেন, তার তলোয়ার কোষ্মুক্ত করলেন, কারণ ইসলাম তো সদা মজলুমদের পক্ষে,ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্টার পক্ষে।

মুসা ইবনে নুসাইর পরে ঘটনার সত্যতা যাচায় করে তারিক ইবনে জিয়াদকে আহবান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*