ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদনের অপেক্ষা

মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদনের অপেক্ষা

Mir-Kashem-md20160615142733

নিউজ ডেস্ক : একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের আংশিক গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায় ঘোষণার পর আলবদরের এ শীর্ষ তৃতীয় নেতার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ও প্রকাশ পেয়েছে। এবার অপেক্ষা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন এবং তা নিষ্পত্তির।

২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর আপিলের সপ্তম মামলা এটি। যার আপিলের চূড়ান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। তবে রায় কার্যকরের আগে আরো আইনি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। রিভিউ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা। নিয়ম অনুযায়ী এ দুটি আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ পাবেন মীর কাসেম আলী। তবে রিভিউ (পুর্নবিবেচনা) আবেদন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এখন মীর কাসেমের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে দণ্ড কার্যকর করতে আরো একটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

গত ৬ জুন (সোমবার) পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মীর কাসেম আলী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। তিনি (মীর কাসেম) রিভিউ না করলে দণ্ড কার্যকরের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

রায় প্রকাশের পর ওইদিনই (৬ জুন, সোমবার) সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে (ট্রাইব্যুনালে) পাঠানো হয়। পরে সন্ধ্যায় ট্রাইব্যুনাল থেকে লাল কাপড়ে মোড়ানো মীর কাসেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন বিচারকরা। জারি করা ওই পরোয়ানা ৬ জুন (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিসি অফিস তথা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়।

পরদিন ৭ জুন (মঙ্গলবার) সকালে কাশেমপুর কারাগারে পার্ট-২ এ মীর কাসেম আলীকে মৃত্যু পরোয়ানা জারির বিষয়ে জানানো হয়।

এদিকে, গত ১১ জুন (শুক্রবার) কাশিমপুর কারাগারে ছেলে ও আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করলে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হবে বলে জানান মীর কাসেম আলী। সে হিসেবে আগামী ২০ জুনের আগে যেকোনো রিভিউ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, দণ্ডের বিষয়ে বিচারিক আদালত অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করলেও রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রিভিউ আবেদনে রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে পারবেন মীর কাসেম আলী।

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করা না করার উপর সিদ্ধান্ত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা নাকচ করলে আসামির দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। অর্থাৎ মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরে এখনো এই ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর মীর কাসেম ছিলেন আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান নেতা। মীর কাসেম আলী দেশে-বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের চেষ্টায় অর্থ খরচ করেছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারিক আদালতে (ট্রাইব্যুনালে) প্রমাণিত ১০ অভিযোগের মধ্যে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার একাদশ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও চতুর্দশ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মোট ৫৮ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। তবে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন মীর কাসেম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*