ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণধর্ষণ ও যৌন হামলার শিকার রোহিঙ্গা নারীরা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণধর্ষণ ও যৌন হামলার শিকার রোহিঙ্গা নারীরা

270348_166
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও তাদের ওপর অন্যান্য যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের দ্বারা এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। উদং মংডু এলাকার কলিম উল্লাহর স্ত্রী নুর জাহান (২৮), নুরুস সালামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (২০), রাজারবিল মংডু এলাকার হাজেরা খাতুন (১৮), মংডু হাইচ্ছুরতা এলাকার দিলদার বেগম (৩৩), তার মেয়ে ফাতেমা বেগম (১৪), চানছি মিঙ্গিজী পাড়া বুচিডং এলাকার ছমিরাসহ (২৫) অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তারা আরো জানান, রাখাইনে মংডু জেলার প্রতিটি গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড পুলিশ ও বৌদ্ধ যুবকেরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, আগ্রাসিভাবে দেহ তল্লাশি ও যৌন হামলায় অংশ নেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছেন। বন্দুকের নলের মুখেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
তারা জানিয়েছেন- প্রথমে সেনাবাহিনী তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এরপর ছেলে ও মেয়েদের আলাদা রাখা হয়। সেনাবাহিনী কখনো গুলি চালাতো, নারী বিশেষকরে তরুণীদের ধর্ষণ করত।
২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণী আয়েশা বলেন, ‘সেনাবাহিনী নারীদের এক জায়গায় জড়ো করে বাঁশের লাঠি ও বুট দিয়ে মারধর করে। এরপর আমাকেসহ আমার বয়সী ১৫ জনকে আলাদা জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর একের পর এক আমাদের ওপর নির্যাতন চলে।’
নুরে জান্নাত নামের ৪০ বছর বয়সী এক নারী বলেন- ‘২০ জন সৈনিক আমাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর আমাকে ও আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। তারা আমাকে একটি বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় দুই সৈনিক আমার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছিল। এরা আমার স্বামীকে আমার চোখের সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।’
রাখাইনে নৃতত্ত্ব ও ধর্মের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পদ্ধতিগত হামলা হয়েছে বলে নতুন প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ বলছে, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা চালানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ও বিকৃত ইতিহাস রয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো লোমহর্ষক হামলা বর্বরতার নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*