ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মিতুর খুনিদের ধরতে বার বার হোঁচট খাচ্ছে পুলিশ

মিতুর খুনিদের ধরতে বার বার হোঁচট খাচ্ছে পুলিশ

file (98)

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুর খুনিদের ধরতে বার বার হোঁচট খাচ্ছে পুলিশ। যেকোনো হত্যাকাণ্ডে অপরাধীরা কোনো না কোনো আলামত রেখে গেলেও এ ক্ষেত্রে ঘটেছে ব্যতিক্রম। ফলে হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লুই খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

এদিকে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, পিবিআই, সিআইডিসহ বেশ ক’টি সংস্থা এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতপক্ষে খুনিদের চিহ্নিত করতে না পারায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মিতু হত্যা মামলায় তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘসূত্রতায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। আটককৃতদের কাছ থেকে হত্যার কোনো ক্লু না পাওয়ায় উল্টো পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব ও শোকজের কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সন্দেহভাজনদের আটকের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর ১০ দিন (মঙ্গলবার পর্যন্ত) পার হলেও খুনিদের চিহ্নিত করা যায়নি। যদিও আলামত ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শাহ জামান ওরফে রবিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে মনির হোসেন নামের আটক যুবকও ভিডিও ফুটেজে দেখা ছবি নিজের বলে স্বীকার করে।

এর আগে হাটহাজারির ফরহাদাবাদ থেকে শিবিরকর্মী ও মুসাবিয়া মাজারের খাদেম আবু নছর গুন্নু, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে আটক ইব্রাহিম, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক আবদুর রহিম ও ঘটনার সময় সিসিটিভির ফুটেজে দেখা কালো মাইক্রোবাস ও তার চালক জানে আলমকেও আটক করা হয়েছিল।

তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। এ ক্ষেত্রে মনির ও রবিন মামলার রহস্য উদঘাটনে সবচেয়ে মোক্ষম মোটিভ বলে মনে করছে পুলিশ। তবে আবু নছর গুন্নুসহ অন্যদের আটক করে পুলিশ হোঁচট খেয়েছে।

দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, মনির ও রবিন সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য থেকে এখনো পুলিশ খুনিদের চিহ্নিত করতে পারেনি। আলামত ও আটকদের থেকে পাওয়া তথ্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ এক জায়গায় গিয়ে থমকে যাচ্ছে। খুনিদের হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনা এত নিখুঁত যে, তা উদঘাটনে সময় লাগছে।

প্রথমত মোটিভে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ভুয়া হওয়ায় প্রকৃত খুনি চিহ্নিত করতে থমকে যেতে হয়েছে পুলিশকে। দ্বিতীয়ত, পেছনে থাকা কালো মাইক্রোবাস চালক জানে আলম ভাড়া নিয়ে যাওয়ার পথে ঘটনার সামনে পড়ে। পুরো ঘটনা তিনি দেখেছেন বলে জানালেও খুনিদের চিহ্নিত করতে তেমন সফলতা আসেনি।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে ছোরাসহ ইব্রাহিম নামের যুবককে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদে মিতু হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিবিরকর্মী ও মাজারের খাদেম আবু নছর গুন্নুকে আটক করা হলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য মেলেনি। বরং মাজারের দ্বন্দ্ব নিয়ে একটি পক্ষ গুন্নুকে মিতু হত্যায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে মিতুর মুঠোফোনে দেয়া এসএমএস নিয়েও রয়েছে রহস্য। ভুয়া কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করে ওই এসএমএস দেয়া হতে পারে।

এছাড়া মিতুর মুঠোফোনের সংগৃহীত কললিস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি নগরীর চকবাজার থানার শুল্কবহরের বড় গ্যারেজ এলাকায় এসে বন্ধ হয়ে যায়, যেখান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ থেকে বোঝা যায় মুঠোফোনটি খুনিরা নিয়ে গেছে। যাতে তাদের দেয়া এসএমএস কীভাবে কোথা থেকে দেয়া হয়েছে, সেটা যেন ধরা না পড়ে। সব মিলিয়ে খুনিদের পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত।

এ মামলার দ্রুত অগ্রগতির জন্য সংস্থা ভেদে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯ জনকে সদস্য করা হয়েছে। নগর পুলিশ ও বিভিন্ন থানার দক্ষ এবং চৌকস কর্মকর্তাদের এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে।

কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অভিযান, আসামিকে জেরা, কেস ডকেট পর্যালোচনা, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ।

এর মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সর্বশেষ একটি চিরকুট নিয়ে এগোচ্ছে, যা বর্তমানে কারাবন্দি জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে মো. বুলবুলের লেখা। বুলবুল এ চিরকুটে নিজেকে আইএস দাবি করে জেএমবি নেতা জাবেদকে খুনের অভিযোগ তুলে পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানায়।

বিভিন্ন হাত ঘুরে চিরকুটটি পৌঁছায় পিবিআই এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। গত ৫ জুন মিতু হত্যার আগে চিরকুটটি নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছেও পৌঁছেছিল। কিন্তু এ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের মধ্যেই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

চিরকুট অনুযায়ী মিতু হত্যা জেএমবির প্রতিশোধ কি না তা এখন খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মূলত পিবিআই এ প্রশ্নেই এগোচ্ছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, ফাঁস হওয়া চিরকুটে বাবুল আক্তারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। বাবুল আক্তারকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে কি না এখন এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*