ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

11100762_746051098848596_1770967843_o

ইরফান এইচ সায়েম : আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশনের (আইডব্লিউএফ) উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিষন্নতা, হতাশাসহ নানা ধরণের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এর যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ ২৪তম দেশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। মানসিক সেবা প্রদানকারী পেশাজীবীরা ছাড়াও সাধারণ ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মানসিক সেবা প্রদান করতে পারবে। ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ এর পক্ষ থেকে এ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। আইডব্লিউএফ-এর কোষাধ্যক্ষ ইয়াসমিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার মনিরুজ্জামান এবং ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পপি জামান। অনুষ্ঠানে ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ প্রকল্পের ১৬জন প্রশিক্ষককে সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা প্রদান করা দরকার। তিনি বলেন, জ্বরের মাত্রা নির্ধারণের জন্য থার্মোমিটার থাকলেও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিরূপণের কোন যন্ত্র নেই। তাই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, প্রতারণাসহ নানা অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত উচ্চশিক্ষিত মেধাবী ব্যক্তিদের কোন ধরণের মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন, তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি মানসিক সমস্যা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে থার্মোমিটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতি ৫ জনের ১জন মানুষ বিষন্নতা, হতাশাসহ নানা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভূগছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১জন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৬.১ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১৮.৪ ভাগ শিশু বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। এর বিপরীতে দেশে মাত্র ২০০জন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ৫০জন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রয়েছেন। মানসিক হাসপাতালসমূহে সাইকিয়াট্রিক আসন শয্যা রয়েছে ৮০০টি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশে ‘মেন্টাল হেল্থ ফার্স্ট এইড’ চ্যাপ্টারের যাত্রার মধ্য দিয়ে বিষন্নতা, হতাশাসহ নানা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*