ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মহেশখালী ও চকরিয়ায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন : ৭ গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

মহেশখালী ও চকরিয়ায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন : ৭ গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

file (25)

নিউজ ডেস্ক : কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের শেষ দিকে এসে ৪টি কেন্দ্রে ব্যাপক গোলযোগ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ঘোনারপাড়া ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মকসুদ মিয়া ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজমের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রের মধ্যে মকসুদ মিয়ার এজেন্টরা জোরপূর্বক নৌকা প্রতীকে সীল মারাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ অন্তত ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন, নুর হোসেন (৪০), রাসেল (২০), আবদুল গফুর (৩৫), নেছার (১৮), মাহমুদুল করিম (২২), আবু ছিদ্দিক (৩৫), নুরুল কবির (৪২)।

তারা সকলেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজমের সমর্থক বলে জানা গেছে।

গুলিবিদ্ধদের প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া মহেশখালী পৌরসভার ভূমি অফিস কেন্দ্র বার্মিজ প্রাইমারি, সিকদার পাড়া মাদরাসা কেন্দ্রেও মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজম দাবি করেছেন, দুপুর ২টার পর থেকেই ভোটগ্রহণে কর্তব্যরত প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যোগসাজশে নৌকা প্রতীকের এজেন্টরা তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় এবং ৪টি কেন্দ্রে ১৮শ ব্যালট পেপারে সিল মেরে দেয়।

এদিকে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনেও ১৮টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট পেপারে সীল মারে এবং ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখলে নেয় বলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান খোকন মিয়া দাবি করেছেন।

তবে চকরিয়া পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার অভিযোগ করেছেন, ১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি ব্যালট ছিনতাই ও সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে এসে বেলা ৩টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ জানান।

সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতি, সমর্থকদের মারধর ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে এ ১৪টি কেন্দ্রে পুন: নির্বাচন দাবি করেছেন।

অপরদিকে ভোট কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৩ কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এরা হলেন,  ৬ নং ওয়াড়ের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, জালাল উদ্দিন ও ছিদ্দিক আহমদ।

তাদের অভিযোগ, বেলা ১১টায় চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয় ও চকরিয়া পৌর আর্দশ শিক্ষা নিকেতন কেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা কাউন্সিলর প্রাথী জিয়াবুল হক ২ কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারে। এসময় প্রতিবাদ করলে অন্য দুই প্রাথী বেলাল উদ্দিন ও জয়নাল আবেদীনের উপর হামলা করা হয়। বর্তমানে ২ কাউন্সিলর প্রার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে। দু’পৌরসভায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়নি।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে মহেশখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন, কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কোনো কথার জবাব দেননি।

তবে এসব বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*