ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ব্র্যাক সহ ২টি এনজিও’র অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ ইউএনও’র

ব্র্যাক সহ ২টি এনজিও’র অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ ইউএনও’র

Brac-Construction-1
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক ২টি এনজিও সংস্থা’র অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। কোন ধরণের অনুমতি না নিয়ে বন বিভাগের জায়গার উপর লম্বাশিয়া ক্যাম্পে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করছিল এনজিও সংস্থা ব্র্যাক ও হোপ ফাউন্ডেশন। বন বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
গত ২৫ আগষ্ট পরবর্তী পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নির্যাতনের শিকার হয়ে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। এসব রোহিঙ্গাদেরকে সরকারের পাশাপাশি ১০৮টি এনজিও সংস্থা ক্যাম্পের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। শুরু থেকে বিশ্বমানের এনজিও ব্র্যাক কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের একটুও টনক নড়েনি।
জানা যায়, এনজিও ব্র্যাক কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি আগের মতোই রয়েছে। উখিয়া এরিয়া ম্যানেজার মো: ফরহান হোসেন, কুতুপালং-১ এর ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম, সহকারী ম্যানেজার মো: মঞ্জুরুল ইসলাম, কুতুপালং-২ এর ম্যানেজার আব্দুর রউফ, সহকারী ম্যানেজার মো: হুমায়ুন। বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে কাজের গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্র্যাকের এসব অসাধু কর্তাদের ম্যানেজ করে ঠিকাদার আজিজুর রহমান আরজু, মোঃ হেলাল ও মাষ্টার জসিম উদ্দিন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজের নামে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এই ঠিকাদারেরা যেনতেন ভাবে কাজ করে অসাধু কর্মকর্তাদের কমিশনের মাধ্যমে ম্যানেজ করে বিলের টাকা সহজে উত্তোলন করে নিচ্ছে।
ব্র্যাকের উখিয়া এরিয়া ম্যানেজারের ব্যক্তিগত সহকারী গফুর উদ্দিনের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশনের টাকা আদায় করা হয় বলে সুত্রে জানা গেছে। অথচ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ব্র্যাক অফিসে কাজ চাইতে গিয়ে নানা হুমকি ও নাজেহালের শিকার হয়েছে অনেক বৈধ ঠিকাদার।
ব্র্যাকের অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়ম দূর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বৈধ ঠিকাদারদের মধ্যে উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ছৈয়দ মোহাম্মদ নোমান, মোকতার আহমদ চৌধুরী ও বশির আহমদ।
এ ব্যাপারে ছৈয়দ মোহাম্মদ নোমান বলেন, ব্র্যাক প্রথম দিকে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ দিলেও এখন তা হচ্ছে না। অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়া অহরহ কাজ করছে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার ।
এ প্রসঙ্গে মোকতার আহমদ চৌধুরী বলেন, ক্যাম্প গুলোতে শেড নির্মাণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, টয়লেট স্থাপন, গোসল খানা, ওয়াশরুম নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকার বাঁশ-গাছ সরবরাহ কাজে অনিয়ম ও বেপরোয়া দূর্নীতির মাধ্যমে নানা প্রকল্পের কাজ চালাচ্ছে ব্র্যাক।
বশির আহমদ অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি ৮২০ ফুট গভীরতার নলকূপ স্থাপনের জন্য বরাদ্ধ হয় ২লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তৎমধ্যে শুধুমাত্র ১৫০ ফুট গভীরতায় যেনতেন ভাবে স্থাপন করা হচ্ছে। যা স্থাপনের কয়েকদিন পরেই অকেঁজো হয়ে যাচ্ছে। অনুরূপ প্রতিটি প্রকল্পের কাজে।
উখিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি ভাবে ৮২০ ফুট গভীরতার একটি গভীর নলকূপ (তারা পাম্প) স্থাপনে সর্বোচ্চ ব্যয় ১লক্ষ ১০ হাজার টাকা আর নিম্নে ৮৮হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, শুরু থেকে ব্র্যাকের কাজের মান সন্তোষজনক নয়। অনেকটা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কাজ করছে ব্র্যাক। একই অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্যাম্পে নিয়োজিত প্রশাসনের।
স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চেয়ে ঠিকাদার মো: হেলাল উদ্দিনের মোবাইল যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্যাম্পে ব্র্যাকের অনিয়ম ও স্থাপনা নির্মাণ কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাকের উখিয়া এরিয়া ম্যানেজার মো: ফরহান হোসেন বলেন, ব্র্যাকের কোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়নি। অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কমিউনিকেশন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পে ব্র্যাক ও হোপ ফাউন্ডেশন নামে ২টি এনজিও’র অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, শুরু থেকে ব্র্যাকের টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম চলে আসছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে আরআরসি’র সাথে কথা বলে একটি ফরমেটও করে দেয়া হয়। এছাড়্ওা সম্প্রতি এনজিও ব্র্যাক রোহিঙ্গাদেরকে দা, চুরিসহ কিছু ধারালো সরঞ্জাম বিতরণ করছিল। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*