ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বেসরকারী হাসপাতালের লাইসেন্স ফি বাড়লো ১০ গুণেরও বেশি

বেসরকারী হাসপাতালের লাইসেন্স ফি বাড়লো ১০ গুণেরও বেশি

private-healthcare

নিউজ ডেক্স : বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল/ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নে আগের তুলনায় অন্তত ১০ গুণেরও বেশি টাকা খরচ করতে হবে উদ্যোক্তাদের। সরকার কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন ফি পুনঃনির্ধারণ করায় এ খরচ বাড়বে। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব রেহানা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত পরিপত্র অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন ফি আগের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তা বেড়েছে ২০ গুণেরও বেশি। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পরিপত্রে।

পরিপত্র অনুযায়ী– বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রে পূর্বে বার্ষিক লাইসেন্স ফি ছিল ৫ হাজার টাকা। নতুন পরিপত্রে তা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল/ ক্লিনিকের ক্ষেত্রে দেশের সকল স্থানে পূর্বে নির্ধারিত বার্ষিক লাইসেন্স ফি ছিল ৫ হাজার টাকা। তবে নতুন পরিপত্রে এলাকা ভেদে এবং শয্যা ভেদে এ ফি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ১০ থেকে ৫০ শয্যার একটি বেসরকারি হাসপাতাল/ ক্লিনিকের জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে বার্ষিক এ ফি ৪০ হাজার ও উপজেলা পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা। ৫১ থেকে ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল/ ক্লিনিকের জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে ১ লাখ টাকা। জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা।

১০১ থেকে ২৪৯ শয্যার হাসপাতাল/ক্লিনিকের জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে দেড় লাখ টাকা। জেলা পর্যায়ে এ ফি ১ লাখ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা। আর ২৫০ শয্যার একটি বেসরকারি হাসপাতাল/ ক্লিনিকের জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি র্নিধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা। জেলা পর্যায়ে দিতে হবে দেড় লাখ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে এ ফি ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি পুনঃনির্ধারণের ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে নতুন পরিপত্রে। এ বি ও সি এই তিন ক্যাটগারিরই পূর্বে নির্ধারিত বার্ষিক লাইসেন্স ফি ছিল ১ হাজার টাকা। তবে ‘এ’ ক্যাটাগরির ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখন থেকে বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে দিতে হবে ৪০ হাজার টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরির ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখন থেকে বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে ৩৫ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। ‘সি’ ক্যাটাগরির ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর জন্য বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখন থেকে বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। ডেন্টাল ক্লিনিকের লাইসেন্স ফি পূর্বের ১ হাজার টাকার স্থলে বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখন থেকে দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে মেডিকেল চেকআপ সেন্টারগুলোর লাইসেন্স ফিও। পূর্বে ১ হাজার টাকা ফি দিতে হলেও নতুন পরিপত্র অনুযায়ী এখন থেকে ১ লাখ টাকা বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি দিতে হবে এসব মেডিকেল চেকআপ সেন্টারগুলোকে।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*