ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকুরি ও জীবনমান ( পর্ব- ৩)

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকুরি ও জীবনমান ( পর্ব- ৩)

42

জালাল উদ্দিন : প্রিয় পাঠক আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ‘ বেসরকারি শিক্ষকদের চাকুরি ও জীবন মান’ এর (৩য়-পর্ব) লিখতে বসেছি।কারণ গত কাল ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব আবুল কালাম আজাদ তাঁদের যৌক্তিকদাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত ছাত্র -শিক্ষকদের মিছিলে অংশগ্রহণ করে পুলিশের লাঠিপেটায় নিহত হয়েছেন; প্রাণ হারিয়েছেন পথচারী সফর আলী।এদায় কার? তা আজ জাতি জানতে চায়।আমি জনাব আবুল কালাম আজাদ ও বয়োবৃদ্ধ সফর আলীর বিদেহী আত্নার মাগফিরত কামনা করছি আর তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।সাথে আশা করছি বিচ্ছিন্ন ভাবে নয়; দেশের সকল বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল,কলেজ ও মাদ্রসার শিক্ষকদের চাকুরি জাতিয়করণের যৌক্তিক দাবি সররকার মনে নিয়ে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন।আসলে যারা জাতির স্বপ্ন গড়ার কারিগর তাদের লাঠিপেটা ও রাবার বুলেটের আঘাতে হত্যা করাটা একটি জাতির জন্য কতটা লজ্জা ও অপমান জনক তা সহজে অনুমেয়।এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ সাধারণত অত্যন্ত ভদ্র ও নিরহ প্রকৃতির এবং তাঁরা অল্পে তুষ্ট।মুলত তাঁদের পেশাই তাঁদেরকে নিরহংকার ও বিনয়ী করে তুলেছে।কারণ,কোন শিক্ষক অপরাধ করলে আমাদের সমাজ তা সহজ ভাবে নে না।কথায় আছে না? ‘সাদা কাপড়ে যে কোন দাগ অতি সহজে দৃশ্যমান হয়’।শিক্ষকের চরিত্র ও অনেকটা সেতবস্ত্রের ন্যায়।তাই উনাদের আয় রোজগার কম হলেও অবৈধ পথে আয় বাড়াতে তেমন একটা চেষ্টা করেন না।আর ব্যাতিক্রম দু চার জন থাকলেও তাদের সংখ্যা নিতান্ত নগন্য।এদিকে তাঁর দৈনিক আয় সমাজের নিম্নবৃত্ত একজন দিন মজুর,রিক্সা চালক কিংবা ভেন চালকের ছেয়ে কম হলেও তাঁকে সমাজের অবস্থাপন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে খাপ খেয়ে চলতে হয়।ফলে আত্নপ্রবঞ্চনায় নিজেকে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হতে হয়। আয় কম হলেও তাঁকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে পোশাকে-আশাকে ও চালচলনে পরিপাটি হয়ে চলতে হয়।সমাজের একজন নিম্নবৃত্তের মানুষ অপরের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে জীবনের চাহিদা মেটাটে পারে ;যা একজন আত্নমর্যদাবান শিক্ষক দিনের পর দিন না খেয়ে থাকলেও কখনও পারেন না।এমতাবস্থায় একজন আত্নমর্যাবান শিক্ষক না পারেন অসৎ উপায়ে উপার্জন করতে ;না পারেন কারো কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে।ফলে চরম দারিদ্রতায় দিনতিপাত করেও মধ্যবৃত্ত কিংবা অবস্থাপন্নদের কাতারে দাঁড়াবার মিথ্যা অভিনয় করতে হয়।এতে দেখা যায়, গ্রামেগঞ্জে বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষকের সন্তানরা পড়া লিখায় বেশিদূর এগুতে পারেন না।এক দিকে সংসারের অভাব অনটন অন্যদিকে পড়া লিখার ব্যয়ভার যা বহন করতে একজন বেসরকারি এমপিভুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অনেকটা অসম্ভব।তাছাড়া দায় দেনা নিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করালেও শুধু যোগ্যতা দিয়ে চাকুরি তো এদেশে তেমন একটা হয়না।যোগ্যতার পাশা পাশি মোটা অংকের উৎকুচ ও মামা কালুর টেলিফোন লাগে ;যা একজন বেসরকারি শিক্ষকের সন্তানদের জন্য অনেকটা অকল্পনিয়।তাছাড়া সরকারি চাকুরের সন্তানদের জন্য পোষ্যকোটা থাকলেও বেসরকারী শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য এধরনের কোন সুযোগ সুবিধা নেই। তারা শিক্ষিত বেকার বা অর্ধশিক্ষিত অবস্থায় কিছুদিন ঘোরাফেরা করে; শেষে দায় দেনা নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমায় নচেৎ ছোট খাট ব্যবসা শুরু করে অথবা ছোটখাট চাকুরিতে যোগদান করে। ফলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারেন না। (চলবে…)

লেখক সিনয়র শিক্ষক, আধুনগর আখতারিয়া দাখিল মাদ্রসা, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম। মোবাইল :01816-358545

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*