ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | বিয়ের পর যে ভাবে মেয়ের বাবা মায়ের অহংকারের স্রোতে ছেলেটির ইচ্ছে এবং যৌতুক বিরোধী মনোভাবকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

বিয়ের পর যে ভাবে মেয়ের বাবা মায়ের অহংকারের স্রোতে ছেলেটির ইচ্ছে এবং যৌতুক বিরোধী মনোভাবকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

10420332_671136592996323_5875163046424145023_n

টেলিফোনে….. মেয়েঃ হ্যালো… হ্যালো.. কে? মা…..? হ তোর মা বলছি, মা….. কেমন আছ? ভালো তুই কেমন আসিস? ভালো আছি মা…. কি অবস্থা ঐদিন যা বলেছিলাম তা ঠিকমতো করেসিসতো? না… মা….. করতে পারিনি! !! মা কি জামাই দিলা স্বামী কথা শুনেনাহ্…!! ওনি বলে এটা করা সম্ভব নয়! কি বলিস তোর বাপ এখনো আমার কথায় উঠে আর বসে, তুই এই সামান্য কথাটাকে মানিয়ে নিতে পারলিনাহ্! !? চেষ্টা চালিয়ে যা………….. ঠিক আছে মা….. ওনি এসেছেন এখন রাখি। পরবর্তী ফোন আলাপে কি কথা হতে পারে পাঠকরা কল্পনায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারেন। যৌতুকের ভাইরাস দূর করতে চাই বিবাহ করতে ইচ্ছুক ছেলেটি……… কিন্তু মেয়ের বাবা মায়ের অহংকারের স্রোতে ছেলেটির ইচ্ছে এবং যৌতুক বিরোধী মনোভাবকে ধ্বংস করে দিচ্ছে… #ছেলেটি তার বাবা মাকে দিনের পর দিন বুঝিয়ে কুসংস্কৃতির বেড়া জাল থেকে মুক্ত করে যৌতুক বিহীন বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য রাজি করায়। #বিয়ে হয়ে যাবার পর মেয়ের মা বাবা ছেলেটিকে মনে করে বউ পাগল বাদাইম্মা!! কারন সে তার বাবা মাকে রাজি করিয়েছে….. মেয়ের মা বাবা ভাবে তাদের সুন্দরী মেয়েকে পাবার জন্য সংস্কৃতি বদলানো…!!! #মেয়ের মা বাবার মনোভাব প্রকাশ পায়. মেয়েকে লাই দিয়ে মাথায় তুলতে দেখে…..। মেয়েটিও ভাবে তার চামড়ার কত দাম যৌতুক দেয়া লাগেনি…. হি হি হি….!!! #ছেলেটি তার স্ত্রীকে বললে পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলামিশে চলার চেষ্টা কর…! স্ত্রী মনে করে মিলেমিশে থাকাটায় যেন কয়েক হাজার কেজি ওজনের বোঝা তুলে দিয়েছে তার মাথার উপর তার স্বামী!!! #মিলে চলতে না চাওয়ার কারন কি? খুঁজতে চান আসেন….! মেয়েটির মা বাবার মনোভাব যখন এই… মানে…. মেয়ের স্বামী যখন মেয়েকে পাবার জন্য যৌতুক নামের ভাইরাসকে গলা টিপে হত্যা করতে পেরেছে তখন ছেলেটি তার মা বাবাকেও তার থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে আলাদা হয়ে যেতে পারবে!!! আলাদা হতে পারলেই যেন দুনিয়া জয় করা….!!! #মেয়ে অথবা মেয়ের মা বাবা একটুও ভাবেনা তার মেয়ের স্বামীটি অন্য কারোর সন্তান! সন্তানটির যা দায়িত্ব আছে তার মা বাবার প্রতি সুন্দর সম্মান জনক পরিবেশ ও দেখাশানা করা। অল্প সময়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাদের মেয়ের স্বামীকে তারা বানাতে চাই কালুর বলদ….!!! #মেয়েটিও যৌতুক বিহীন বিয়ে বসতে পেরে চামড়ার অহংকার দেখায় তার বাপের বাড়ির লাই দেয়া কথা প্রয়োগ করে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের উপর! !! #ছেলেটি সংসার বাঁচাতে মানে টিকিয়ে রাখতে সমস্যা বিবেচনা করে সমাধান এর চেষ্টা করে, কিন্তু মেয়েটির মনোভাব হয় ভিন্ন! সমস্যা সৃষ্টি করাই যেন তার কাজ!! চামড়ার অহংকার অথবা ধারন করা মোহরানার জোর দিয়ে মেয়েটির বাপের বাড়ির শাসন কৃতিত্ব স্বামীর পরিবারে জারি করতে চাই…..! তাইতো…. এই অহংকার দিয়ে মোড়ানো সমাজে যৌতুক নামের ভাইরাস দূর করার জন্য আমাদের মত কিছু যুবকের মনকে তেতলা করতে হবেই…….! হজম করতে হবে জ্বলন্ত আগুন……! এবার আসা যাক ছেলেটির পরিবারের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াঃ- ছেলের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা থাকে আমরা যখন ছেলের কথা মেনে নিয়ে সমাজের প্রচলিত প্রথা দূর করে ছেলের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজের মুখে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি, তার বিনিময়ে ছেলে এবং ছেলের বউ তাদের নায্য কথা গুলো শুনবে এবার সংসারকে আনন্দগন করে তুলবে……। যখন দেখে মেয়েটির ভিন্ন আচরণ তখন ছেলেটির উপর ছেলেটির মা বাবার ক্ষোভ ভাড়তে থাকে……। শুরু হয় সংসারে অশান্তি! ছেলের মা বাবার নায্য চাওয়া গুলো যদি মেনে চলতে না পারে “ছেলেটি” বউয়ের কারনে তা হলে কি করে মা বাবার হক আদায় করবে? বউয়ের নায্য হক আদায় করা যেমন ছেলেটির দায়িত্ব, ঠিক তেমনি মা বাবার হক আদায় করাও ছেলেটির দায়িত্ব। সমান ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পরলেই কেবল সফল বলা যেতে পারে। মেয়েটি একবারও ভাবেনা তার স্বামী বেচারা একজন মনুষ, রোবট নয়! ! তার সাথে আচরণ গুলো যেন রোবটের দৃষ্টিভঙ্গিতে…. হচ্ছে! ! রোবট মানুষে যে রকম চালায় সেই রকমই চলে কারন রোবট মানুষের তৈরী এবং তার নিজস্ব জ্ঞান বিবেক চিন্তা চেতনা নেই, প্রাণও নেই, আল্লাহর সৃষ্ট সেরা জীব মানুষ হিসাবে স্বামী বেচারা তার ন্যায় অন্যায় ভালো মন্দ দেখতে হয়। সব কিছুতে হ্যাঁ হ্যাঁ করা স্বামী বেচারার পক্ষে সম্ভবপর নয়। যৌতুকের মত ভাইরাস সমাজ থেকে দূর করতে ছেলের পাশাপাশি মেয়েও মেয়ের মা বাবাকেও সুস্থ মানসিকথা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সমাজে সংখ্যায় কম হলেও কিছু সংখ্যক ছেলে যৌতুক বিহীন বিয়ে করতে চাই এবং করে। দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২টি পরিবারের অসহযোগিতার কারনে যৌতুক বিহীন বিয়ের উদ্যোগ নেয়া ছেলেটি বৈশম্যের শিকার হচ্ছে। উপরের বিষয় গুলো সচেতন মহলে আবেদন হিসাবে রাখলাম! আশা করি যৌতুকের মত ভাইরাস সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে যে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।

লেখক : আবদুর রহিম, পুটিবিলা, মাওলানা পাড়া, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*