ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | বাংলা উৎসব : দিন যায় কথা থাকে

বাংলা উৎসব : দিন যায় কথা থাকে

53

মুহাম্মদ আবদুল খালেক : দিন যায় কথা থাকে। ভালোবাসা ঝরে পড়ে না। কেউ ভুলে, কেউ ভুলে না অতীত দিনের স্মৃতি। কারো ব্যথা কেউ বুঝে না। মিষ্টি মেয়ে ঝিনুক আপা কবি হেলাল হাফিজের ‘কষ্ট নেবে, কষ্ট নেবে, কষ্ট’ কবিতাটি দরদী কন্ঠে আবৃত্তি করলেও কষ্ট কেউ নেয়নি। আমরা বাংলা উৎসবে গেছি কষ্ট ভুলতে এবং ভালোবাসার স্বাদ নিতে।

চট্টগ্রাম কলেজ মানে বাংলা বিভাগ। ৪ মার্চ ২০১৬, শুক্রবার বেলা ৯টা। বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ২য় পুনর্মিলনী। কলেজ গেইট থেকে দ্যাখতে পেলাম উৎসবের সদস্য সচিব ও দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সম্পাদক সৈয়দ উমর ফারুককে। হলুদ রঙের মাথায় টুপি। গায়ে হলুদ উত্তরীয়। ভালোবাসার রঙ বুঝি হলুদ। প্রীতির স্মৃতির ভালোবাসার বিভাগ বাংলা বিভাগ। ফারুক ভাই বল্লো, প্রফেসর খালেক অধ্যক্ষ রুমে যান। ঢুকতেই শাকিল ভাই। শাকিল প্রবন্ধকার। সোস্যাল। আমার প্রিয় ও শ্রদ্ধেয়। তাঁর মুঠোফোনের ডাকে যাওয়া। চঞ্চল পদচারণায় প্রফেসর আবদুস সালাম। বল্লো, খালেক ভাই এসেছেন। চমৎকার ভদ্র ছেলে এবং ভালোবাসা প্রিয় সালাম। হলুদ রঙের টুপি পরতেই দেখছি, ফর্সা হাসিমুখের একটা মেয়ে, ঢুকতেই সবাই একটু নড়ে চড়ে বসলো। এই বুঝি, কলেজ অধ্যক্ষ এবং বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী জেসমিন। বাহ ! চমৎকার। জেসমিন আপা চট্টগ্রাম কলেজের মতো সুন্দর। সাবেক অধ্যক্ষ শেখর দস্তিদার, আহমেদ মমতাজ, সন্তোষ কুমার নন্দি, নাজমুল টিটু, কামরুন্নাহার ঝর্ণা, এ ওয়াই এম জাফর, চৌধুরী শাহজাহান, পূজন, শ্যামল, মাশরুবা মাহবুব, তসলিম, শিল্পী দাশ, মতিয়া, তানিয়া, পরহা বিনতে ছিদ্দিক, শামীম আরা বেগম, তৈয়ব, অভিক ওসমান, শাকী, চম্পা, নার্গিস ও ইয়াছমিনের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ কার্যালয় ভালোবাসায় রঙে রঙিন।

পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত সমবেত কন্ঠে গাওয়া, বেলুন ওড়ানো ও বর্ণাঢ্য র‌্যালী কলেজ চত্বর পেরিয়ে অডিটোরিয়াম প্রবেশ করলাম। কোথায় কষ্ট ! চারপাশে স্মৃতিরা চক্কর দিচ্ছে। কোথায় যেন আমরা হারিয়ে গেলাম। আনন্দ আর আনন্দ। ক্যাম্পাস বাংলা বিভাগের দখলে। আনন্দের আর ভালোবাসার মেজবান। ‘জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়’।

শুরু হলো শুভেচ্ছা বক্তব্য, স্মৃতিচারণ, প্রয়াতদের স্মরণে মিনিট নীরবতা এবং ভোতা পরটা দিয়ে নাস্তা গ্রহণ। অডিটোরিয়াম ঢুকে এদিক ওদিক তাকাতেই মাথা চক্কর দিয়ে ওঠলো। আরে কোথায় ঢুকলাম। কি সুন্দর ! মন ভরে ওঠলো সৌন্দর্যে। অধ্যক্ষ শেখর দস্তিদারের আমলেই অডিটোরিয়ামকে সাজানো হয়েছে। প্রাণঢালা অভিনন্দন ও সেল্যুট শেখর দস্তিদারকে। স্মৃতিচারণে ড. শিরিণ, ড. শিপ্রা, ড. মাহবুবুল হক, আহমেদ মমতাজ, ড. কাসেম ও ড. শামসুল আলম আমাদেরকে মুগ্ধ করলেন। ড. শামসুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য, ঢাকায় থাকেন। আমাদের প্রিয় স্যার। স্মৃতির কথায় শান দিতে গিয়ে আমরা অনেকেই নীরবে ডুবে গেলাম; হাসলাম এবং কাঁদলাম। ‘কপি হাউসের আড্ডাটা আজ আর নেই’।

চাঁপা ফুলের মতো ‘চম্পা কলি বড়–য়া’। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে মাতিয়ে রাখতো। জিনাত পারভিন শাকী’ত সিনিয়র জুনিয়র এমনকি শিক্ষকের ওপরও মাতব্বরী ও নজরদারী করতো। মমতা ও মিষ্টি কথায় সবাইকে ভুলিয়ে রাখতো। ওমা ! কি বলছি। বিকেল শুরু। নাচ গান আবৃত্তি শুরু। চম্পা, সঞ্চিতা ও মনিকা এক সাথে ভাষার গান গাইলো- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারী’ তারপর, ‘ছোড় ছোড় ঢেউ তুলি’। অস্থির মেয়ে তানিয়া এক গাল হেসে বত্রিশ দাঁত দেখিয়ে ‘বাংলিশ’ কবিতা আবৃত্তি করলো। সৈয়দ উমর ফারুক, অভিক ওসমান ও সুন্দরী আপা সেবা চৌধুরী প্রেমের স্মৃতির ও প্রার্থনার কবিতা আবৃত্তি করে সকলকে মুগ্ধ করে। রূপনা, মনিকা গাইলো- ‘তুমি যে আমার কবিতা’ ও ‘মিলন হবে কতোদিনে, আমার মনের মানুষের সনে’।

বাংলা বিভাগ মানে সুর ছন্দ ও তালের আস্তানা। তোরসা আর কামালের দ্বৈত নৃত্যে সবার মন নাচলো ‘কর্ণফুলী সামপানওয়ালা আমার ঘুম কাইড়া’। কামরুন্নাহার রোজি গাইলো ‘সখি যাতনা কাহারে বলে’ ও ‘আমার দুয়ার থেকে তোমার আঙিনা’। রোজি আপা জেন্টেল ও সুন্দর। কন্ঠ মোহনীয়। মঞ্চে আসলো চম্পা আঞ্চলিক গান নিয়ে ‘মনে মনে না বনিব, আরা চাঁটগাইয়া’। সুর ও ছন্দের আবেশে পরশে অডিটোরিয়াম বর্ণিল ও রঙিন হয়ে উঠলো। জয় প্রকাশ দে যখন আবেগী কন্ঠে গাইলো, ‘বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও, ভুলো না তাকে’ তখন ড. শামসুল, ড. কাশেম, ড. শিরিন, ড. শিপ্রা, ড. মাহাবু, শেখর, জেসমিন আর অভীক ওসমানসহ আমরা দুলতে লাগলাম, হলুদ ভালোবাসা সর্বাঙ্গে মাখলাম। এক কঠিন বাস্তবতার স্থির চিত্র মানসপটে ভেসে ওঠলো। মঞ্চে এলো মাহবুব। গাইলো ‘এই হৃদয় ছিড়ে যদি দেখানো যেতো’ আর ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’। চম্পা থাকতো পারলোনা; নাচ শুরু। কারে কয় নাচ। সবাই নাচছে। জোয়ান-বুড়ো, নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররাও নাচছে। নাচতে নাচতে হয়রান। ‘তাকদুম তাকদুম বাজাই’ জয় প্রকাশ দে শুরু করতেই আবার নাচ। সূয্যিমামা ডুবছে। র‌্যাপল ড্র। আমি জিতে গেলাম। দিন গেল, কথা থেকে যাবে। কোথায় হারিয়ে গেলো সেই সোনালী দিনগুলি। এক অপূর্ব অপূর্ণ সোনালী উৎসবের আমেজে বিভোর হয়ে ঘরে ফেরা শুরু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আবদুস সালাম, নাসিমা শওকত ও জিন্নাত পারভিন সাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*