ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বাংলাদেশ, ভারত এবং মায়ানমারের জনগণের জীবণ-যাত্রার মান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে– ঢাবির আন্তির্জাতিক সিম্পোজিয়ামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ, ভারত এবং মায়ানমারের জনগণের জীবণ-যাত্রার মান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে– ঢাবির আন্তির্জাতিক সিম্পোজিয়ামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

11157204_747634955356877_1949466255_o

ইরফান এইচ সায়েম : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ, ভারত এবং মায়ানমার শুধুমাত্র বন্ধুসুলভ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র নই। একে অপরের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রও। তাই দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে এই তিন রাষ্ট্রের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থাকবে, একে অন্যের ভালো প্রতিবেশী হয়ে থাকা এবং জনগণের জীবণ-যাত্রার মান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। যা বিশ্বে নজির হয়ে থাকবে। রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মায়ানমারের সম্পৃক্ততা’ র্শীষক দু’দিনব্যাপী এক আন্তির্জাতিক সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও ভারতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনিস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ (এমএকেএএলএএস)-এর যৌথ উদ্যোগে এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি) ও ভারত-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব সময় তাঁর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসর্ম্পক বাড়ানোর উপর জোর দেয়। যা এই রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অংশ। কেননা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোন রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করতে পারে না। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহের উন্নয়নে দারিদ্র-বৈষম্য ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। তবে সবাই একত্রে কাজ করলে এ প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। কেননা আমরা সামষ্টিক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিতে বিশ্বাস করি। আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের সময়ে এ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে নিরাপদ, সুখী এবং সমৃদ্ধি বিরাজ করাই হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনার পংকজ শরণ বলেন, ভারত সব সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সুসর্ম্পক বজায় রাখতে চেষ্টা করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র হওয়াতে দুই দেশের নানা সমস্যা ও সম্ভানার নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা যায় বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিও মিন্ট থান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায়র মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ এবং মায়ানমার প্রচুর সম্ভাবনাময়ী দেশ। এ তিনটি দেশের অর্থনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময়ের মধ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সীমান্তে হত্যা, চোরাচালান এবং মানবপাচার বন্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অপরাধী সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ, মাদকদ্রব্য এবং মানব পাচারের মত ঘটনাবলী নির্মূল করা সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানে সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য দেন আরডিসি’র চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মেসবাহ কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এমএকেএএলএএস-এর পরিচালক শ্রীরাধা দত্ত। প্রসঙ্গত, উদ্বোধনী অনুষ্টান শেষে প্রথমদিন দুটি প্যালেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আজ দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে দুটি প্যালনারি সেশন এবং একটি টেকনিক্যাল সেশন। বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দু’দিনব্যাপী এ আন্তির্জাতিক সিম্পোজিয়াম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*