ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বর্ষবরণে শ্লীলতাহানি দেশব্যাপী আটদিনের কর্মসূচি প্রতিবাদ অব্যহত

বর্ষবরণে শ্লীলতাহানি দেশব্যাপী আটদিনের কর্মসূচি প্রতিবাদ অব্যহত

download (13)

ইরফান এইচ সায়েম : পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার-বিচার, ঢাবি প্রক্টরের অপসারণ, দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশের বিচারের দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটামের পর এবার আটদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান তারেক এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। এদিকে, এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অপসারণের দাবিতে বুধবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় যৌন সন্ত্রাসীদের দুটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লাকি আক্তার, সহ-সভাপতি মারুফ বিল্লাহ তন্ময়, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ, ঢাবি শাখার সভাপতি লিটন নন্দী, সাধারণ সম্পাদক তুহিন কান্তি দাস প্রমুখ। এসময় হাসান তারেক বলেন, গত ১৬ এপ্রিলের প্রতিবাদী সংহতি সমাবেশ থেকে দায়িত্বপালনে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের অপসারণ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যৌন-সন্ত্রাসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাত দিনের অল্টিমেটাম প্রদান করা হয়, যার সর্বশেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। ঘটনার সাতদিন পরও এখনো দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি আমরা দেখিনি।এমতাবস্থায় ছাত্র সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নারী সমাজকে আরও প্রতিবাদী হতে হবে। জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের দাবানল জ্বালতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা নিপীড়কদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চাই। ছাত্র সমাজের জয় অবশ্যম্ভাবী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এসময় তিনি বলেন, পরবর্তী আটদিনব্যাপী আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ দেশব্যাপী মশাল মিছিল। সন্ধ্যায় টিএসটি’র রাজু স্মারক ভাস্কর্য থেকে শুরু হবে। শুক্রবার বিকেলে রাজু স্মারক ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ এবং সারাদেশে প্রতিবাদী গণসমাবেশ। শনিবার সকালে টিএসসিতে ‘যৌন নিপীড়ন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা, বিকেল ৫:৩১টায় ঘটনাস্থল টিএসসিতে প্রতীকী ‘প্রতিরোধ পর্ব’ এবং সন্ধ্যা ৭:০১ মিনিটে সারাদেশে নিপীড়নবিরোধী আলোক প্রজ্জ্বলন। ঢাকায় ঘটনাস্থল টিএসসি মোড় ঘিরে আলোক প্রজ্জ্বলিত হবে। রবিবার সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে নিপীড়নবিরোধী মানববন্ধন। এসময় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া, আগামী ২৬, ২৭ ও ২৯ এপ্রিল দেশব্যাপী যৌন নিপীড়নবিরোধী প্রচারাভিযান। ৩০ এপ্রিল জেলায় জেলায় ছাত্র-গণ সমাবেশ। এ ঘটনার জড়িতদের বিচার এবং ন্যাক্কারজনক যৌন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও যৌন সন্ত্রাসীদের দুটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডসহ রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে সমবেত হতে শুরু করে তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে যোগ দিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় মানববন্ধন। এতে বক্তারা বলেন, এই ঘটনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসচেতনতাই দায়ী। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ঘরে আটকে রেখে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও বাঙালি সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্থ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ এটি। এরপর সেখানে যৌন সন্ত্রাসীদের দুটি কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এতে উপস্থিতিরা কুশপুত্তলিকায় থুথু ও জুতা নিক্ষেপ করে। পরে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে নাটিকা ‘দুই রঙা আলপনা’ পরিবেশিত হয়। নাটিকাতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিপরীতে জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলা হয়। এসময় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী হাতে হাত রেখে যৌনসন্ত্রাস রুখে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদেও শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন বিভাগের শিক্ষার্থী। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*