ব্রেকিং নিউজ
Home | শীর্ষ সংবাদ | বদলে যাবে, যাও….

বদলে যাবে, যাও….

17

বিদায় মানে বিশেষ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি ও অর্জন। অর্জন মানে আনন্দ। বিশেষ তথা উন্নত অর্জনের লক্ষ্যে প্রেরণা যোগানোই বিদায়। আমার ছাত্রজীবনে বিদায় বেদনার ছিলো। বিদায় মানে বেদনা, ব্যথা, কান্না ইত্যাদি বুকে পোষতে শিক্ষকরা আমাকে শিখিয়েছেন। এখন বিদায় মানে আনন্দ, আনন্দ।

শিক্ষকতার বয়স প্রায় ২১ বছর। শরীরের হাঁড়গুলো পেকে গেছে। টুংটাং আওয়াজ শুনতে পাই। যদিও নিজেকে ভাবি ২১বছরের তরুণ। অন্যের দোষ খুঁজি না, সহজে অন্যকে ক্ষমা করতে পারি, অন্যের কল্যাণে বা কষ্টে ছুটে চলি, অন্যের কিংবা প্রতিষ্ঠানের টাকা চুরি করি না, মিথ্যা কথা বলে ছুটি ভোগ করি না, রাজনীতির পা লেহন করে সুবিধা গ্রহণ করি না, ধর্মকে বিকিয়ে পেট চালাইনা, সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সমদৃষ্টিতে দেখি ইত্যাদি। সুতরাং আমি তরুণ, আমি মুসলমান।

আমার পদ , পদবি ও খাসলত (চরিত্র) নিয়ে কেউ তাচ্ছিল্য করলে কষ্ট পাই না। কারণ আমি আমাকে চিনি, জানি। চেয়ারে বসতে পারলে কি, না পারলেও কি। কারো ধার ধারি না। পাঠদান ও পাঠাদায়ে কার্পণ্য তেমন করিনি। আমার প্রগাঢ় বিশ্বাস ইসলামে। আমার পথে ইসলাম নয়, আমি ইসলামের পথে চলি। যামানার স্রোতে নয়, আমার স্রোতে যামানা চলে। জীবিত বা মৃত কারো পূজো করি না। পূজো দেখি চারপাশে। জীবিতকে পূজা, মৃতকে পূজা। জানলেওয়ালাদের মাথার গিলো নষ্ট হয়ে গেছে।

খাওয়ার আগে ভাবি, যেটা খাচ্ছি ‘এসব কি আমার’। খেয়ে শুয়ে ঝিমিয়ে অনুতপ্ত হলেই কি মাফ । কাজ করে খাই। কাজের নাম ধর্ম। প্লিজ অন্যের খাবার স্ত্রী পুত্রকে খেতে না দিই। অযথা মিথ্যা কথা না বলি। চুপ মজা। কোন বিষয়ে হঠাৎ মন্তব্য করবে না। নিজেও ঠকবো না; অন্যকেও ঠকাবো না।

ফাযিল শিক্ষার্থীদের বিদায়। খুব ভালো লাগছে। কারণ তারা আগামীকাল জীবন খেয়ার যাত্রী এবং মাঝি। নোতন সৃষ্টি সুখের উল্লাস দ্যাখবো চারদিক। কেউ বাবা, কেউ মা। বাহ! কি চমৎকার আয়োজন। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, চরিত্র বদলাবে, নীতি-নৈতিকতা বদলে যাবে। আহ! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। আঁকা-বাাঁকা পথ। এলোমেলো চিন্তা। ফেলে আসা দীর্ঘ পথ পরিক্রমা। এখন আমার ব্যথা আমি ছাড়া কেউ বুঝে না।

মাঝরাতে কাশি ওঠলে একা হয়ে যাই। বড় একা। কারো ঘুম ভাঙতে চাই না। যেটুকু আছে; বেশ আছে। যেটুকু আছি; বেশ ভালো আছি। শোকর আলহামদুলিল্লাহ। আমার অনেক আছে। পেট ভরে ভাত, চোখ ভরে ঘুমের জন্যে হারাম খেতে হয় না। অন্যের সম্পত্তি বিনা অনুমতিতে স্পর্শ করো না। পরিশ্রমীরা সুস্থ থাকে।

ইসলামে তর্ক নেই। নিন্দা-ঘৃণা নেই; চিন্তা আছে। অন্যের কথায় প্রভাবিত হওয়া ঠিক নয়। অনেক দূরে চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কে কাকে মনে রাখে। তোমাকে তুমি যতোদিন মনে রাখবে ততোদিন আমি তোমার মনে থাকবো। এই সম্পর্ক ছিন্ন হবার নয়। হয় না, হলে ক্ষতি। কেঁদো না। দেখা হবে।
ইদানীং কেমন কেমন লাগে, পরাণ ছিক্কুত ছিক্কুত করে। উচ্চ শিক্ষত’রা দুর্নীতি করছে। অন্যদিকে দিন মজুররা কাজে চুরি করছে। ধর্মীয় গুরুরা টাকার পেছনে ছুটছে। হারাম-হালাল সমানে খাচ্ছে। ছি! ছি! আমার চারপাশ এতো নষ্ট। কতো কষ্টে আছি। পরাণ ত মানে না। মুসলমান নারীরা পর্দা মানে না। কিছু বুঝতে চায় না। লালসার লালায় লালে লাল অন্তর-বাহির। বেশি নয়, একটু খাই। প্রশান্তি আর সুখে থাকবে।

শত্র“র দুঃখ-কষ্ট দেখে আনন্দ পেয়োনা। এগিয়ে যাবে দুঃখ লাঘবে। বিশ্বাস করো ‘এক সেকেন্ডের নেই ভরসা’। লাল দেখে লাফ দিতে নেই। জানো? লাল মানে আগুন, লাল মানে রক্ত। যোগ্য লোককে সম্মান করো। নিজেকে বড়ো ভাববার পূর্বে, অন্যকে বড়ো ভাবো। নিশি রাতে কাঁদো। নিশি রাতে সেজদা করো। কেউ দেখ্বেনা; কাউকে দেখাবে না। তোমার জায়গা সাড়ে তিন হাত। শুভ্রতায় জড়ানো যেন জিন্দালাশ।

তোমরা চলে যাও। বেঁচে থাকো। সত্যে-সুন্দরে। মানুষকে ভালোবাসো। কুকুরকেও ভালোবাসো। বিনা লাভে ভালোবাসো। নিজেকে অন্যের জন্যে ‘আপদ’ করে তুলবে না। মনো-দৈহিক ভালো মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।

লেখক : অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪.কম। মুঠোফোন- ০১৮২০-১৪১৪৫২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*