ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | ফেসবুক প্রসঙ্গ

ফেসবুক প্রসঙ্গ

03

অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল খালেক : যখন কথা বলি এবং লিখি সেখানে চরিত্র প্রকাশ পায়। ড্রেসআপেও কিছুটা চরিত্র ফুটে ওঠে। সুতরাং সাবধান ! ফেস মানে চেহেরা বা মুখমন্ডল আর বুক মানে বই। বই হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞান আর সভ্যতা-সংস্কৃতির ভান্ডার। আবার ফেস মানে চরিত্রও বটে। ফেসবুক মানে চেহেরার বুক বা বই। অথবা বইয়ের চেহেরা। যে যেভাবে বলতে চায়-বলুক। অতএব ‘ফেসবুক’ ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

‘ফেসবুক’ ব্যবহারে আমি সচেতন ও সতর্ক। উপকারও করা যায়, অপকারও করা যায়। অন্যকে হেয় করে আমি লিখি না। চেতনায় উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, এ’রকোম লিখি। আমার ভালো লাগা, দেখা ও শোনার কথা লিখি। যামানার স্রোতের সবচেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফেসবুক’। দোষের খুঁজে নয়, গুণের খুঁজে ব্যবহার হওয়া উচিত ফেসবুক। ‘দোষ’ কার নেই। প্রত্যেকের আছে। আমরা কি এভাবে লিখতে কিংবা বলতে পারিনা- ‘এভাবে লিখলে অথবা এভাবে বললে বিষয়টা সুন্দর হয়’।অন্যের ব্যাপারে মন্দ লিখা ভদ্রতার লক্ষণ নয়।

‘ফেসবুক’ রাজনৈতিক হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। সমাজের বা রাষ্ট্রের ভদ্রজনকে নিয়ে অনৈতিক লেখা বা বিকৃত ছবি ‘ফেসবুক’- এ দেওয়া অভদ্রতা ও অসভ্যতা।

আল্লাহ বলেন, মন্দের মোকাবেলা করো উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে। অন্যের নেতাকে গালমন্দ করলে, তারাও উল্টো করবে। ইসলামের ঘোষণা ‘তাদের মূর্তি বা দেবতাকে গালমন্দ করলে, তারা তোমার আল্লাহকে গালমন্দ করবে’।

আমি ফেসবুক ব্যবহার করি প্রায় দু’বছর। আজে বাজে মন্তব্য কিংবা অনৈতিক উন্মাদনামূলক বিকৃত কোন লেখা কিংবা চিন্তা থেকে আমি যোজন যোজন দূরত্বে।

 ফেসবুক আইডিতে নিজের ছবি ও ঠিকানা থাকা উচিত। ছবি না দিলেও চলে। ছদ্ম নামে লেখা যায়। তবে ছদ্ম নামের পাশে বন্ধনীর ভেতর আসল নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নাম্বার লিখুন। পরিচয় গোপন রেখে আজেবাজে কিংবা অনৈতিক কিছু লেখা কাপুরুষের লক্ষণ। আমরা কি জানি ফেইক অর্থ কি ? ফেইক মানে জাল বা কৃত্রিম জিনিস, মিথ্যা পরিচয়ে জাল করা ও প্রতারণা করা ইত্যাদি। অর্থাৎ ফেইক আইডি পিতৃহীন সন্তানের পরিচয় বহন করে। কেন ফেইক আইডি। ফেন্ডস নির্বাচনে সচেতন থাকা প্রয়োজন। আপনার বন্ধু ভালো বংশের সন্তান না হলে বিব্রত অবস্থায় পড়তে হবে। ইসলামের ঘোষণা যার সাথে বন্ধুত্ব, তার সাথে হাশর-নশর।

কোন রাজনৈতিক দল বা নেতার নামে ফেইক আইডি খুলে ব্যবহার করা উচিত নয়। যে কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি কটুক্তি কিংবা ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা সদাচার কিংবা শিষ্টাচার বহির্ভূত। কথায় আছে, তুমি অধম বলে, আমি উত্তম হবো না কেন ?

সংযত সুসংহত কথা না বলায় মন্ত্রীত্ব গেলো আবার অন্যদিকে অনেকের যায় যায় অবস্থা। ফেসবুক আর ফেইক আইডির মাধ্যমে যারা বেফাশ, অনৈতিক, অশ্লীল কিংবা অন্যের সম্মানে আঘাত করে, তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শান্তির প্রয়োজন রয়েছে। কারণ আমরা বুঝি কম বলি বেশী, নিজের দোষ না দেখে পরের দোষের পেছনে ছুটি।

অন্যদিকে, নেতিবাচক কথা না লিখে ইতিবাচক কথা লিখি। নেতিবাচক কথা লেখায় লেখক ও পাঠক উভয় পক্ষ মানসিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যদিও আমরা টের পাইনা। আবার অনেকে পারিবারিক নেতিবাচক কথা বা পরিবারের সাথে অমিলের বিষয়টিও লিখে। পারিবারিক সমস্যা ফেসবুকে লিখে কি লাভ ? বরং নিজের ব্যক্তিত্বের ক্ষতি।

অন্যের জন্যে, দেশের দশের কল্যাণে অথবা ধর্মীয় রীতিনীতি পালন আমরা নিজেরা ব্যক্তিগত জীবনে বা বাইরে কতোটুকু করেছি, ওসব লিখি। এসব লেখা পড়ে অন্যেরা প্রেরণা পাবে অর্থাৎ একটা ভালো কাজ করার উৎসাহ পাবে। ফেসবুকে কিংবা ফেইক আইডিতে অন্যের সুন্দর আচরণের কথা লিখুন। গুণের কথা, মহত্বের কথা লিখুন। আপনি মানসিকভাবে ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

ফেসবুক নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানো ঠিক নয়। এক ঘেয়েমী কিংবা আলসেমী স্বভাব সৃষ্টি হতে পারে। কেউ অনৈতিক ছবি কিংবা লেখা দিলে বলুন, আপনার পরিবারের কেউ কি ফেসবুক ব্যবহার করে, তারা এসব দেখলে কি লজ্জা পাবে ! চেতনা বা ভাবনার জগতে একটু নাড়া দিন। ওই বন্ধু কখনো এই কাজ করবে না। আমি এই সব কাজে নেই, প্লিজ আপনিও থাকবেন না। যখন তখন ফেসবুক ওপেন করা সুস্থতার লক্ষণ নয়। আমরা সুস্থ চিন্তা, সুন্দর চেতনা আর সমৃদ্ধ যাপিত জীবন চাই। মুসলমান হিসেবে হালাল বা বৈধ কর্ম, চিন্তা ও চেতনায় উজ্জীবিত হই। ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ চিন্তার প্রতিফলন না ঘটুক। আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই, জীবন বদলে যাবে। ফেসবুক হয়ে ওঠুক সুন্দরের সভ্যতার ও সুস্থ সংস্কৃতির নান্দনিক শৈল্পিক প্রকাশ মাধ্যম।

লেখক : সম্পাদক, লোহাগাড়ানিউজ২৪ডটকম, অধ্যাপক- বাংলা বিভাগ, আধুনগর ইসলামিয়া ডিগ্রী মাদ্রাসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*