ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ফের দিবালোকে রাজধানীতে ব্লগার খুন

ফের দিবালোকে রাজধানীতে ব্লগার খুন

11022967_740807372706302_1643290397_n

ইরফান এইচ সায়েম : ‘মুক্তমনা’ ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের একমাসের মাথায় ফের রাজধানীতে প্রকাশ্যে দিবালোকে অপর এক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এসময় কয়েকজন হিজড়া ধাওয়া করে দুই ঘাতককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলো জিকরুল্লাহ ওরফে জিকির (২০) ও আরিফুর রহমান (১৯)। এদের মধ্যে জিকির চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার তাফছীর বিভাগ ও আরিফ ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরের দারুল উলুম মাদ্রাসার এবতেদিয়া শ্রেণির ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিন হামলাকারীর মধ্যে তাহের নামে আরেকজন পালিয়ে গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহূত দুইটি রক্ত মাখা ও একটি অব্যবহূত চাপাতি উদ্ধার করেছে। চাপাতির কোপে বাবুর মাথার পিছনে হাড় কেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গলা ও মুখে একাধিক চাপাতির কোপের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার, রাবি শিক্ষক ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম ও লেখক ড. অভিজিত্ রায়কে একই কায়দায় হত্যা এবং ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। নিহত ওয়াশিকুর রহমান বাবু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করে মতিঝিলের ফারইস্ট এভিয়েশনের প্রশিক্ষক হিসাবে চাকরি করতেন। তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ির একটি বাসায় তিনি বাবার সঙ্গে থাকতেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার উত্তর হাজীপাড়ায়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, গ্রেফতারকৃতরা বাবুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বাবু ‘ইষ্টিশন’ ব্লগ ছাড়াও তার ফেসবুকে মৌলবাদ ও উগ্র জঙ্গিবাদ নিয়ে লেখালেখি করতেন। তিনি সাত বছরের বেশি সময় ধরে ‘সামহোয়্যার’ ব্লগে লিখতেন। তার ফেসবুকে ধর্ম, বিজ্ঞান এবং সামপ্রদায়িকতাবিরোধী বিভিন্ন লেখা এসেছে বিভিন্ন সময়ে। ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে লেখালেখির কারণে বিরোধ থেকে ওয়াশিকুরকে হত্যার কথা গ্রেফতার দু’জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তারা কোনো সংগঠন বা দলের কি-না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হত্যার মূল পরিকল্পনা: তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জিকির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, নরসিংদীর রায়পুরা থানার গজারিয়াকান্দি গ্রামে তার বাড়ি। তার বাবার নাম মইনুদ্দিন। গত রমজান মাসে নরসিংদী থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে যাওয়ার সময় মাসুম নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে সে বিভিন্ন সময়ে মাসুমের সঙ্গে দেখা করত। ধর্ম নিয়ে তাদের মধ্যে অলোচনা হতো। একই উদ্দেশ্যে সে শনিবার ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। রবিবার বিকালে হাতিরঝিলে মাসুমের সঙ্গে দেখা করে। ঐ সময় আরিফ ও তাহের নামে আরো দুইজন তাদের আলোচনায় অংশ নেয়। মাসুম সেখানে একটি ছবি দেখিয়ে বলে যে, এই ব্যক্তি ইসলাম ও নবী সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে কটূক্তি করে। একে হত্যা করা ফরয কাজ। মাসুম তার ব্যাগ থেকে তিনটি চাপাতি তাদেরকে দেয়। কথা মতো মাসুম তাদেরকে নিয়ে দক্ষিণ বেগুনবাড়ির বিসমিল্লাহ ভিলার সামনে যায়। ঐ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মাসুম দেখিয়ে দেয় কিভাবে বাবুকে হত্যা করা হবে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপর গ্রেফতারকৃত আরিফ জানায়, তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম। কুমিল্লার তিতাস থানার বারকাউনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ি। মিরপুরে দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশুনার সময় দেড় মাস আগে মাসুমের সঙ্গে তার পরিচয়। ইসলাম নিয়ে যারা কটূক্তি করতো মাসুম বিভিন্ন সময়ে তাকে তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দিতো। তবে সে মানসিকভাবে দুর্বল চিত্তের বলে চাপাতি ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানিয়েছিল।

যেভাবে হত্যা করা হয়: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাবু মতিঝিলে অফিসে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ বেগুনবাড়ির বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় বের হন। এর আগে সকাল ৭টার দিকে বাবুর বাবা টিপু সুলতান লক্ষ্মীপুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাবু বাসা থেকে বেরিয়ে দিপীকার মোড়ের ঢালে পৌঁছালে হঠাত্ করে তিন যুবক তাকে ঘিরে ধরে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানি জিয়াউদ্দিন জানান, সকালে হঠাত্ নারীকণ্ঠে চিৎকার শুনে তিনি ও দোকানে থাকা কয়েকজন খদ্দের বেরিয়ে এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় একজন রাস্তায় পড়ে আছেন এবং তা দেখে এক নারী চিত্কার করছেন। আর তিন যুবক দৌড়ে মূল রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এ সময় কয়েকজন হিজড়া দুইজনকে জাপটে ধরে। সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা দৌড়ে গিয়ে ঐ দুইজনকে ধরে ফেলে। পরে পুলিশ এলে তাদের কাছে সোপর্দ করে তারা। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এএসআই হুমায়ুন কবির বাবুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিলে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে চিকিত্সকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখে পুলিশ। গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টেক্সটাইল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার প্রাচীর। অন্যপাশে অরেকটি ভবন। প্রায় দশ ফুট চওড়া রাস্তার ঠিক ঐ অংশে কোনো দোকান নেই। ঘটনার সময় ঐ রাস্তায় লোকজনও খুব একটা ছিল না বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। ওয়াশিকুরের বাসা থেকে ঘটনাস্থল পৌঁছাতে প্রায় ৫০ গজের মত পথ হাঁটতে হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২০ গজ দূরে একটি মুদি দোকান ও একটি ফার্মেসি রয়েছে। হত্যার খবর শুনে ঢাকা মেডিক্যালে ছুটে যান তার চাচাতো বোন শিল্পী। তিনি জানান, বাবুর মা রেহানা বেগম ও বোন শিমু আক্তার গ্রামের বাড়িতে বাস করেন। বেগুনবাড়িতে বাবার সাথে থাকতেন বাবু। সোমবার সকালে বাবা তাকে বাসায় রেখে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পরে ছেলেকে হত্যার খবর পেয়ে পথ থেকে ফিরে আসেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাবুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের ডা. একেএম শফিউজ্জামান জানান, লাশের কপালে, চোখের নিচে, থুতনিতে ও মাথার পিছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এরমধ্যে ৪টি মারাত্মক ও একটি হালকা আঘাত। খুনিদের জাপটে ধরলেন কয়েক হিজড়া : ওয়াশিকুর রহমান বাবুর খুনিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক হিজড়া তাদের জাপটে ধরেন। এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তারপর তাদের পুলিশে দেয়া হয়। সোমবার সকালে নিজ বাসার সামনে খুন হন ওয়াশিকুর। খুনিরা তাকে খুন করে পালানোর সময় কয়েক হিজড়া তাদের জাপটে ধরে। স্থানীয়রা এমন তথ্য জানিয়েছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বারেক জানান, তিন হামলাকারী পালানোর সময় কয়েকজন হিজড়া দুইজনকে জাপটে ধরে। পিছন থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে গিয়ে দুইজনকে আটক করে। এই দুজন হলেন; যিকিরুল্লাহ যিকির ও আরিফুল্লাহ আরিফ। পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা। অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তার যে অংশে তার ওপর হামলা হয়, তার এক পাশে টেক্সটাইল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার প্রাচীর। অন্যপাশে আরেকটি ভবন। সরু সড়কটির যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কোনো দোকান নেই। ঘটনার সময় ওই রাস্তায় লোকজনও ছিল কম। কয়েকগজ দূরে একটি ফার্মেসি থাকলেও তিনি ঘটনার সময় দোকান বন্ধ করে চলে যান। খোকন জেনারেল স্টোরের সামনে জিয়াউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, সকালে হঠাৎ নারীকণ্ঠে চিৎকার শুনতে পান তিনি। এরপর কয়েকজন ‘কাস্টমার’ ও তিনি রাস্তায় এসে দেখতে পান রক্তাক্ত অবস্থায় একজন পড়ে আছেন। তা দেখে এক নারী চিৎকার করছেন। আর তিন যুবক দৌঁড়ে মূল রাস্তার দিকে পালাচ্ছেন।

আটকৃতদের পরনে লাল রঙয়ের পোশাক : আটকৃত যিকিরউল্লাহ ও আরিফুল্লাহ দুজনেই মাদরাসা ছাত্র। চট্রগ্রামের হাটহাজারি মাদরাসার ছাত্র জিকরুল্লাহ ও রাজধানীর মিরপুরের দারুল উলুম মাদরাসার ছাত্র আরিফুল ইসলাম। এদের মধ্যে যিকিরউল্লাহ ওয়াশিকুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে গতকাল ঢাকায় আসেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তারা দুজনেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মাসুদ নামে তাদের এক কথিত বড়ভাইয়ের আদেশেই ওয়াশিকুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। মাদরাসার ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও জিন্সের প্যান্ট ও লালগেঞ্জি পরনের কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, সব বড়ভাইয়ের নির্দেশে করা হয়েছে। যাতে তাদের গায়ে রক্তের দাগ না থাকে এজন্য তারা লাল রঙের গেঞ্জি পরেছেন।

‘আসুন নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই’ : রাজধানীর বেগুনবাড়িতে খুন হওয়া অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু ব্লগে লেখার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই বেশি লিখতেন। ‘আসুন নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই’ শিরোনামে তিনি ১০৩ টি পর্ব (স্টাটাস) লিখেছেন। এই লেখায় উগ্রবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্য অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তামান্না সেতু বলেন, ‘ওয়াশিকুর নাস্তিক ছিলো না। সে ব্লগেও এমন কিছু লিখতেন না যা কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত করে। তারপরও তাকে হত্যা করা হলো। ছেলেটার মা নেই। ঢাকায় বাবার সঙ্গেই থাকতো। তাকে এভাবে খুন করা হলো।‘ তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াশিকুর আমার কাছে কি যেনো বলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাকে আমি ফেসবুকে ও ফোনে বলতে নিষেধ করেছি। দেখা হলে বলতে বলেছিলাম। সে কি বলতে চেয়েছিলো তাও জানা হলো না।’ ফেসবুক ও অন্যান্য কিছু বাংলা ব্লগসাইটে দেখা গেছে, ওয়াশিকুর রহমানের লেখালেখির অন্যতম একটি বিষয় ছিল ইসলামসহ নানা ধর্মের সমালোচনামূলক প্রসঙ্গ। তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অন্য আরো অনেকের মধ্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হতো। ফেসবুকে ওয়াশিকুর রহমানের প্রোফাইলে নাম ছিল ‘ওয়াশিকুর বাবু’। এ ছাড়া কয়েকটি ব্লগ সাইটে তিনি ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’, ‘গন্ডমুর্খ’, ‘বোকা মানব’ ইত্যাদি একাধিক নামে লিখতেন বলে জানা যাচ্ছে। মুক্তচিন্তা, সাম্প্রদায়িকতা, বিজ্ঞান, ধর্মীয় কুসংস্কার বা গোঁড়ামি – ইত্যাদি নানা বিষয়ে প্রায়ই লেখালিখি এবং তীক্ষ্ম মন্তব্য করতেন ওয়াশিকুর রহমান। এর আগে যে দুজন ব্লগার ধর্মীয় বিষয় নিয়ে লেখালিখির কারণে ধারালো অস্ত্রধারীদের আক্রমণে নিহত হন – সেই রাজীব হায়দার বা ‘থাবা বাবা’ এবং গতমাসে নিহত ব্লগার-লেখক অভিজিৎ রায় এই দু’জনের মৃত্যুর পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে একাধিকবার মন্তব্য করেন ওয়াশিকুর। তার সেই মন্তব্যগুলোর জবাবে আবার ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়াও আসে ফেসবুকে অন্য কিছু ব্যবহারকারীর দিক থেকে। ফেসবুকে ওয়াশিকুরের সবশেষ প্রোফাইল ছবিটিই ছিল ‘আই অ্যাম অভিজিৎ’ লেখা একটি পোস্টার। তাতে ইংরেজিতে আরো লেখা আছে ‘শব্দের মৃত্যু নেই’ । তিনি ‘এথিস্ট (নাস্তিক) বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলার শার্লি’ (ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদু) সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ‘লজিক্যাল ফোরাম’ নামের একটি অনলাইন ডিসকাশন ফোরামেরও সদস্য ছিলেন ওয়াশিকুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*